জুয়া–মাদক চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
জুয়া–মাদক চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মাঠের ঘাসে ছত্রাকের সংক্রমণ: লা লিগায় ওসাসুনা ও সেল্টা ভিগোর ম্যাচ স্থগিত সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে আসছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কুয়ালালামপুরে ইমিগ্রেশনের বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক ৭৭০ অভিবাসী সৌদি আরবের জিজান শোধনাগারে হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলা রাজশাহীর চারঘাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের দুজনের প্রাণহানি একযোগে পুলিশের ৫৬ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো ৪৯ পুলিশ পরিদর্শককে ডালাস-ফোর্ট ওর্থ বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য বিশেষ অজু স্টেশন তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করতে বিশেষ কূটনৈতিক বার্তা দিল্লির জর্ডানে ভিক্ষা করার সময় গ্রেপ্তার নারী, ব্যাগে মিলল ৫ লাখ টাকার বেশি বিদেশি মুদ্রা

জুয়া–মাদক চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা

কুড়িগ্রাম থেকে বিপুল রায়
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫
জুয়া–মাদক চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা
জুয়া–মাদক চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা

 

 

জুয়া–মাদক চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা

 

জুয়া–মাদক চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নে জুয়া ও মাদকবিরোধী তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের হাতে হামলা, জিম্মি ও মুক্তিপণ দাবির শিকার হয়েছেন জাতীয় দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র ও বিডি ক্রাইম ২৪ এর কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ মেহেদী হাসান আল মামুন। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

সাম্প্রতিক সময়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জুয়া ও মাদক ব্যবসা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের মূল নেতৃত্ব দিচ্ছে মোঃ ফজলু মিয়া নামের এক ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে।

 

তার পিতা একসময় স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ছিলেন। সেই সময় থেকেই ফজলু মিয়া ব্যক্তিগতভাবে নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। স্বাধীনতার পর বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চললেও ফজলু মিয়ার অবৈধ প্রভাব ও কার্যক্রম আজও অব্যাহত রয়েছে। কালো টাকার জোরে তিনি এলাকাজুড়ে একটি শক্তিশালী ছায়া নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন, যা এখন পুরো ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।

পড়ুন>>ফেনী সীমান্তে ভারতীয় গাঁজা ও মদ জব্দ

 

লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক মেহেদী হাসান আল মামুন গত ০৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ রাতে বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারেন যে, ঘোগাদহ ইউনিয়নের শান্তিয়ার ভিটা এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি জুয়া খেলাসহ মাদক সেবনে লিপ্ত রয়েছে। তিনি সহকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়া খেলোয়াড়রা পালিয়ে যায়।

 

 

এ সময় তারা ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ শুরু করলে সেকেন্দার আলীর পুত্র জিয়াউর রহমান অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে আসে।

 

 

পরে সাংবাদিকরা বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে জানালে জিয়াউর রহমানসহ ফজলু মিয়া, বাচ্চু মিয়া, মোয়াজ্জেম, তাজুল ইসলাম ও অজ্ঞাত আরও ৫–৬ জনকে উক্ত জুয়া বোর্ডের সক্রিয় সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

 

 

পরদিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে ফজলু মিয়া ও মোয়াজ্জেম আপোষ মীমাংসার কথা বলে সাংবাদিক মেহেদী হাসানকে স্থানীয় চাঁদের খামারে ডেকে পাঠায়। সরল বিশ্বাসে তিনি সেখানে গেলে দেখতে পান, পূর্বোক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত উপস্থিত রয়েছে।

 

আলাপচারিতার এক পর্যায়ে ফজলু মিয়া অভিযোগ তোলে যে, সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারণে সেদিন জুয়া বোর্ড থেকে ৮০,০০০ টাকা লুট হয়েছে। যা সাংবাদিককেই পরিশোধ করতে হবে।

পড়ুন>> সহজ এর সাথে সহজক্যা এর কোনো সম্পর্ক নেই

 

এরপর তারা সাংবাদিকের উপর হামলা চালিয়ে তার মোটরসাইকেলের চাবি, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগে থাকা ১২,৭০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। তাকে জোরপূর্বক স্থানীয় একটি স্কুলের বারান্দায় নিয়ে ধারালো অস্ত্রের মুখে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন কোড আদায় করে ৫,৫৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়। আরও ১০,০০০ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলে তিনি অস্বীকৃতি জানানোর পর তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

 

 

পরে স্থানীয় কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তার সামনেই সাংবাদিককে সাত দিনের মধ্যে ১০,০০০ টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

 

অভিযোগে সাংবাদিক উল্লেখ করেন, “আমাকে জিম্মি করে ফজলু মিয়া প্রকাশ্যে বলে ‘আমি কোটি টাকার মালিক, লাখ টাকা দিয়ে জুয়া খেলব। তোদের সমস্যা কী? আমি অনেক মামলার আসামী, তোকে খুন করে আবার মামলা চালাব।

আরও পড়ুন>> আফতাবের হামলায় কিশোর ফাহিম গুরুতর আহত

এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহল এ ঘটনাকে ‘সাংবাদিকদের উপর নগ্ন হামলা’ বলে আখ্যায়িত করেছে। তারা বলছেন, একটি সংঘবদ্ধ জুয়া–মাদক চক্র সাংবাদিককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করছে। এটি আইনের শাসনের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ।

 

স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং জুয়া–মাদক চক্র ও তাদের পেছনের ছায়াশক্তিকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

তাদের মতে, এই ধরনের সংগঠিত অপরাধ দমনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে।

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!