ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ পালিত হচ্ছে। এই দিবস উপলক্ষে বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বাণীতে প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও তাদের সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ার ফলে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দীর্ঘায়ু জীবনের যেমন নতুন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি প্রবীণদের দীর্ঘ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সমকালীন চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

পড়ুন>>মিরসরাইয়ে গৃহায়নের দুই আবাসন প্রকল্পে স্থবিরতা ও অনিয়মের বেড়াজাল

প্রধানমন্ত্রী জানান, একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার প্রবীণদের সুরক্ষা, আর্থিক সচ্ছলতা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত অঙ্গীকার অনুযায়ী, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রবীণদের অবহেলার চোখে না দেখে বরং তাদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

দেশের প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এরই মধ্যে বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর কাজ চলমান রয়েছে।

পড়ুন>>যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি প্রবীণদের পরিবার ও সমাজের মূল ভিত্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তাদের অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও প্রজ্ঞার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমূলক সমাজ বিনির্মাণে প্রবীণদের প্রতি আমাদের যত্নশীল হওয়া অপরিহার্য। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও দায়িত্বশীলতার চর্চা থাকা প্রয়োজন। জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করে তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আমাদের ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা করাও জরুরি। এই মূল্যবোধ যত বেশি অটুট থাকবে, প্রবীণদের মর্যাদা ও যত্ন ততই সুরক্ষিত হবে।

 

সরকারের লক্ষ্য এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে বয়সের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই প্রতিটি নাগরিক তার সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও সুন্দর জীবন অতিবাহিত করতে পারবে। বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬-এর সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করেন।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৪৬:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

 

প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ পালিত হচ্ছে। এই দিবস উপলক্ষে বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বাণীতে প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা ও তাদের সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ার ফলে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দীর্ঘায়ু জীবনের যেমন নতুন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি প্রবীণদের দীর্ঘ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা, পারিবারিক সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সমকালীন চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

পড়ুন>>মিরসরাইয়ে গৃহায়নের দুই আবাসন প্রকল্পে স্থবিরতা ও অনিয়মের বেড়াজাল

প্রধানমন্ত্রী জানান, একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার প্রবীণদের সুরক্ষা, আর্থিক সচ্ছলতা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লিখিত অঙ্গীকার অনুযায়ী, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রবীণদের অবহেলার চোখে না দেখে বরং তাদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

দেশের প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এরই মধ্যে বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর কাজ চলমান রয়েছে।

পড়ুন>>যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি প্রবীণদের পরিবার ও সমাজের মূল ভিত্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তাদের অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও প্রজ্ঞার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমূলক সমাজ বিনির্মাণে প্রবীণদের প্রতি আমাদের যত্নশীল হওয়া অপরিহার্য। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও দায়িত্বশীলতার চর্চা থাকা প্রয়োজন। জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করে তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি আমাদের ধর্মীয়, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা করাও জরুরি। এই মূল্যবোধ যত বেশি অটুট থাকবে, প্রবীণদের মর্যাদা ও যত্ন ততই সুরক্ষিত হবে।

 

সরকারের লক্ষ্য এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে বয়সের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই প্রতিটি নাগরিক তার সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও সুন্দর জীবন অতিবাহিত করতে পারবে। বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬-এর সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করেন।

 

 

 

Facebook Comments Box