এক কাপ কফির নেপথ্যে: কৃষকের শ্রম থেকে ভোক্তার টেবিল
- আপডেট সময় : ০৪:২০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ কফিতে চুমুক দেওয়া অনেকেরই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ধোঁয়া ওঠা এই পানীয় শরীর ও মনকে চাঙা করে তুললেও, এই কাপ আপনার হাতে পৌঁছানোর দীর্ঘ যাত্রা সম্পর্কে আমরা অনেকেই খুব একটা ভাবি না। এই কফি হয়তো এসেছে দূর কোনো দেশের প্রত্যন্ত বাগানের কৃষকের পরিশ্রম থেকে, যা প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাণিজ্য, রোস্টিং ও বাজারজাতকরণের নানা ধাপ পেরিয়ে আপনার টেবিলে পৌঁছেছে। পোকা বা রোগে ক্ষতিগ্রস্ত বীজও এ পর্যায়ে বাদ দেওয়া হয়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় আড়াই কোটি কফি উৎপাদনকারী পরিবার সম্মিলিতভাবে বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ কফি উৎপাদন করে। এর একটি বড় অংশই উন্নয়নশীল দেশগুলোর ছোট কৃষক পরিবার। কফি কেবল একটি জনপ্রিয় পানীয় নয়, বরং বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। কফি তাই শুধু একটি জনপ্রিয় পানীয় নয়, লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গেও জড়িয়ে থাকা একটি বৈশ্বিক পণ্য।
কফিগাছের ফল বা ‘কফি চেরি’ থেকে কফি তৈরির প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ। ফল পাকলে তা সংগ্রহের পর খোসা ও শাঁস সরিয়ে ভেতরের দুটি বীজ বের করা হয়। এরপর বীজগুলো শুকিয়ে ও খোসা ছাড়িয়ে বাছাই করা হয়। আকার, ঘনত্ব ও মান অনুযায়ী বাছাইয়ের পর যে সবুজাভ বীজ পাওয়া যায়, তাকে বলা হয় ‘গ্রিন কফি’ বা সবুজ কফিবিন। এই কাঁচা অবস্থাতেই কফি রপ্তানি হয়, কারণ প্রক্রিয়াজাতকরণের পরবর্তী ধাপগুলো সাধারণত আমদানিকারক দেশগুলোতে সম্পন্ন হয়। কফিগাছের ফল দেখতে অনেকটা ছোট চেরির মতো। শুকানোর পর বীজের ওপরের আবরণও সরিয়ে ফেলা হয়। পরে তা আমদানিকারক দেশগুলোয় গিয়ে রোস্ট, প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করা হয়।
কফির এই পুরো বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক কফি সংস্থা বা আইসিও ‘ভ্যালু চেইন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। এই শৃঙ্খলে কৃষক, খামারশ্রমিক, ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক, আমদানিকারক, পরিবহনকর্মী, রোস্টার ও বিক্রেতারা জড়িত থাকেন। কাঁচা কফিবিনকে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রোস্টিং করার মাধ্যমেই তার পরিচিত ঘ্রাণ ও স্বাদ তৈরি হয়। এরপর সেই কফি গুঁড়া বা আস্ত অবস্থায় সুপারশপ, ক্যাফে কিংবা অনলাইনে বিক্রি হয়। কফির বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় এরপর আসে বাণিজ্যের পালা।
ক্যাফেতে এক কাপ কফি তৈরির সময় একজন বারিস্তা শেষ স্পর্শটুকু যোগ করেন, কিন্তু তার পেছনে রয়েছে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। জাতিসংঘের ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কফি দিবসের তথ্য অনুযায়ী, কফির এই দীর্ঘ ‘ভ্যালু চেইন’-এ অর্জিত আয় সমানভাবে বণ্টিত হয় না। কফির চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণে উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনসহ বিভিন্ন ধাপ থাকায় কৃষকের হাতে পৌঁছানো দাম এবং ভোক্তার দেওয়া চূড়ান্ত দামের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকে। সঙ্গে বিভিন্ন ধাপে যুক্ত ছিলেন আরও অনেকে। কিন্তু এই বীজই আপনার সকালের কফি হয়ে ওঠার উপযুক্ত নয়।
বাজারের অস্থিরতা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং দর-কষাকষির সীমিত ক্ষমতার কারণে ছোট কৃষকেরা প্রায়ই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাঁদের শ্রম ও জ্ঞান থেকেই কফির যাত্রা শুরু হলেও, চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের তুলনায় তাঁদের প্রাপ্ত অর্থ অনেক ক্ষেত্রে সীমিতই থেকে যায়। কৃষিপণ্যের এই বৈশ্বিক বাস্তবতা আমাদের দেশীয় কৃষিপণ্য যেমন ধান, পাট, আলু বা মরিচ চাষিদের অবস্থার সাথেও একাত্ম।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ




















