ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কৈশোরের আলো ছড়ানোর ১৩ বছর ও আমাদের ভাবনা ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি ছুটির স্বীকৃতি পেল ঈদুল ফিতর ও আজহা পেট্রোবাংলায় ৭৫৩ জন নিয়োগ: আবেদন চলবে এক মাস নেতানিয়াহু সীমা অতিক্রম করেছেন, কড়া বার্তা কাতারের প্রধানমন্ত্রীর দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির তিন মাঝ আকাশে সহকর্মীর হামলা ঠেকিয়ে ১৭৪ প্রাণ বাঁচালেন পাইলট মিরপুরে হকার উচ্ছেদ: সংঘাতের পরিবর্তে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান শফিকুরের ৪৯তম বিসিএস: শিক্ষা ক্যাডারে ৬১১ জনের নিয়োগ ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ৫০০ উপজেলায় এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি: সারজিস বিশ্বনাথে বিনামূল্যে সাড়ে ৫ শতাধিক রোগীকে ফ্রি চিকিৎসা সেবা দিল ওয়ান পাউন্ড হসপিটাল

ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি ছুটির স্বীকৃতি পেল ঈদুল ফিতর ও আজহা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে রাষ্ট্রীয় ছুটির তালিকায় যুক্ত করে একটি নতুন বিল আইনে পরিণত করা হয়েছে। ‘এবি ২০১৭’ নামের এই বিলটি গত ১০ই সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি ঈদকে রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় ছুটির স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে সেখানকার স্কুল ও সরকারি চাকরিজীবীরা তাদের অর্জিত বা ব্যক্তিগত বেতনসহ ছুটির সুবিধা ব্যবহার করে ধর্মীয় উৎসব দুটি উদযাপন করতে পারবেন।

এ বছরের মার্চ মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের কাছে এই বিলটি পেশ করেছিলেন স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য ম্যাট হ্যানি। বিলটি তৈরিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সহযোগিতা করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্যগুলো সামনে এসেছে। নতুন এই আইনটি পাসের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুসলিম কর্মীদের কর্মজীবনের দায়িত্ব বা শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো ক্ষতি ছাড়াই উৎসব পালনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে। এতে কর্মজীবনের দায়িত্ব কিংবা শিক্ষাজীবনের বাধার কারণে ধর্মীয় উৎসব পালনে তাদের সমস্যায় পড়তে হবে না।

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার-সিএ) ক্যালিফোর্নিয়া শাখা এই আইনকে স্বাগত জানিয়েছে। বিলটির প্রধান উদ্যোক্তা ম্যাট হ্যানির সাথে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে ছিল কেয়ার-সিএ, ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার আমেরিকান অ্যাফেয়ার্স এবং মুসলিম ইমপ্যাক্ট কাউন্সিল। কেয়ার-সিএ জানিয়েছে, এই বিলটি পাস হওয়ার ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার কে-১২ স্কুল এবং কমিউনিটি কলেজগুলো স্থানীয়ভাবে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে ঈদের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখারও সুযোগ পাবে। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, বিলটি কে-১২ স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলোকে স্থানীয়ভাবে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে ঈদ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার অনুমতিও দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

কেয়ার-সিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ১০ লাখের বেশি মুসলিম বসবাস করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের ধর্মীয় অনুশাসন পালন এবং স্কুল বা কর্মস্থলে উপস্থিতির মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হতো। এই আইন সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি চমৎকার সমাধান দিয়েছে। বিশেষ করে বর্তমানে যখন মুসলিমদের প্রতি বৈরী আচরণ বাড়ছে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ক্যালিফোর্নিয়া যে তার সব নাগরিকদের সমান মূল্যায়ন করে, সেই শক্তিশালী বার্তাটিই সবার কাছে পৌঁছে দেবে। সংগঠনটি বলেছে, এর মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ১০ লাখের বেশি মুসলিমের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কেয়ার-সিএ’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এবি ২০১৭ পাস হওয়া আমেরিকান-মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘটেছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি ছুটির স্বীকৃতি পেল ঈদুল ফিতর ও আজহা

আপডেট সময় : ১১:১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে রাষ্ট্রীয় ছুটির তালিকায় যুক্ত করে একটি নতুন বিল আইনে পরিণত করা হয়েছে। ‘এবি ২০১৭’ নামের এই বিলটি গত ১০ই সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি ঈদকে রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় ছুটির স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে সেখানকার স্কুল ও সরকারি চাকরিজীবীরা তাদের অর্জিত বা ব্যক্তিগত বেতনসহ ছুটির সুবিধা ব্যবহার করে ধর্মীয় উৎসব দুটি উদযাপন করতে পারবেন।

এ বছরের মার্চ মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের কাছে এই বিলটি পেশ করেছিলেন স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য ম্যাট হ্যানি। বিলটি তৈরিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সহযোগিতা করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্যগুলো সামনে এসেছে। নতুন এই আইনটি পাসের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুসলিম কর্মীদের কর্মজীবনের দায়িত্ব বা শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো ক্ষতি ছাড়াই উৎসব পালনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে। এতে কর্মজীবনের দায়িত্ব কিংবা শিক্ষাজীবনের বাধার কারণে ধর্মীয় উৎসব পালনে তাদের সমস্যায় পড়তে হবে না।

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার-সিএ) ক্যালিফোর্নিয়া শাখা এই আইনকে স্বাগত জানিয়েছে। বিলটির প্রধান উদ্যোক্তা ম্যাট হ্যানির সাথে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে ছিল কেয়ার-সিএ, ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার আমেরিকান অ্যাফেয়ার্স এবং মুসলিম ইমপ্যাক্ট কাউন্সিল। কেয়ার-সিএ জানিয়েছে, এই বিলটি পাস হওয়ার ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার কে-১২ স্কুল এবং কমিউনিটি কলেজগুলো স্থানীয়ভাবে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে ঈদের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখারও সুযোগ পাবে। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, বিলটি কে-১২ স্কুল ও কমিউনিটি কলেজগুলোকে স্থানীয়ভাবে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে ঈদ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার অনুমতিও দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

কেয়ার-সিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ১০ লাখের বেশি মুসলিম বসবাস করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের ধর্মীয় অনুশাসন পালন এবং স্কুল বা কর্মস্থলে উপস্থিতির মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হতো। এই আইন সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি চমৎকার সমাধান দিয়েছে। বিশেষ করে বর্তমানে যখন মুসলিমদের প্রতি বৈরী আচরণ বাড়ছে, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ক্যালিফোর্নিয়া যে তার সব নাগরিকদের সমান মূল্যায়ন করে, সেই শক্তিশালী বার্তাটিই সবার কাছে পৌঁছে দেবে। সংগঠনটি বলেছে, এর মাধ্যমে ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ১০ লাখের বেশি মুসলিমের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কেয়ার-সিএ’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এবি ২০১৭ পাস হওয়া আমেরিকান-মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘটেছে।

Facebook Comments Box