ভুয়া সাংসদ সেজে সংসদ ভবনে বসেই চাকুরী দেয়ার প্রতারণা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
ভুয়া সাংসদ সেজে সংসদ ভবনে বসেই চাকুরী দেয়ার প্রতারণা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালিতে অনলাইন নিরাপত্তা ঘটনায় বন্ধের আহ্বান কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গ্যাসের তীব্র সংকটে স্থবির জনজীবন: সিএনজি পাম্পে দীর্ঘ সারি ও রান্নায় ভোগান্তি লালমনিরহাটে জুয়া ও মাদকের প্রতিবাদকারী কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু, এলাকায় উত্তেজনা একীভূত হলো বিডা, বেজা ও পিপিপিএ: যাত্রা শুরু ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’-এর আজ ২২ আগস্ট : কি ঘটেছিল আজকের দিনে? বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ায় মির্জা ফখরুলকে ভারতের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন ২২ আগস্ট:আজ ঢাকা মহানগরীতে বিভিন্ন সংগঠনের সমাবেশ ও অনুষ্ঠান ২২ আগস্ট ২০২৬; আজকের রাশিফল: কেমন কটবে আপনার আজকের দিনটি ২২ আগস্ট ২০২৬: দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি, বজ্রপাতের আশঙ্কা আজ শনিবার ২২ আগষ্ট ২০২৬: আজকের নামাজের সময়সুচী

ভুয়া সাংসদ সেজে সংসদ ভবনে বসেই চাকুরী দেয়ার প্রতারণা

সৃষ্টি ডেস্ক
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৭ মার্চ, ২০২৪
ভুয়া সাংসদ সেজে সংসদ ভবনে বসেই চাকুরী দেয়ার প্রতারণা

ভুয়া সাংসদ সেজে সংসদ ভবনে বসেই চাকুরী দেয়ার প্রতারণা

শামীমুর রহমান নিজেকে সংসদ সদস্য পরিচয় দেন। তাকে কল দিলে ফোনের ট্রুকলারে ভেসে ওঠে এমপি মিজানুর । অথচ তিনি সংসদ সদস্যই নন।

সংসদ সদস্য সেজে সরকারিভাবে চাকরি দিয়ে ৪০ জনকে কসোভো পাঠানোর কথা বলেন। পরে সংসদ ভবনে ডেকে এনে তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। নিজের স্ত্রী মৌটুসীকে কসোভো দূতাবাসের ডেলিগেট সাজিয়ে সাক্ষাৎকার বোর্ডেও পাঠান।

সংসদ ভবনের ভেতরেই চাকরিপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন। মেডিকেল ফি ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাবদ হাতিয়ে নেন টাকা। একপর্যায়ে তাদের কাজকর্মে সন্দেহ জাগে ভুক্তভোগী চাকরিপ্রত্যাশীদের।

খোঁজ নিয়ে দেখেন তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরে পুলিশ সংসদ ভবনের ভেতর থেকে ভুয়া এমপি মিজানুর, তার স্ত্রী মৌটুসী রহমান ও পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের কম্পিউটার অপারেটর রাহুল হোসেনকে আটক করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শামীমুর রহমান নিজেকে এমপি পরিচয়ে একটি ম্যানপাওয়ার এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে এজেন্সির প্রতিনিধিকে সংসদ ভবনে ডেকে নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।

এ সময় তিনি সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থদের কথা বলে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করেন। এজেন্সি তাদের ৪০ গ্রাহককে কসোভোতে পাঠাতে আগ্রহী হয়। শামীমুরের কথামতো ৩৯ জনের পাসপোর্ট জমা দেন। পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের কম্পিউটার অপারেটর রাহুলের সংগ্রহ করা গেট পাস দিয়ে গত ২ মার্চ বিদেশ গমনেচ্ছুরা সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন। ওইদিন তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।

এরপর এজেন্সি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দারস্থ হয়। পরে সংসদ ভবন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীদের একজন মেহেদী হাসান।

ওই মামলায় গত সোমবার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন খান। আদালত শামীমুর রহমান ও রাহুল হোসেনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে শামীমুরের স্ত্রী মৌটুসীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাহুল হোসেনের মাধ্যমে পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের কম্পিউটার রুমে বিদেশে গমনেচ্ছুদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তখন মেডিকেল ফি বাবদ ৪০ জনের কাছ থেকে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। একই সময়ে ২৩ জনের জরুরি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাবদ আরও ৯২ হাজার টাকা নেন ভুয়া এমপি মিজানুর।

কসোভো দূতাবাস থেকে একটা টিম চাকরিপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিতে আসবে বলেও জানানো হয়। গত ২ মার্চ সিলেকশন করে দেওয়ার কথা বলে সংসদ ভবনের মেটসেফ রেস্টুরেন্টে বসে ১৫ জনের কাছে থেকে নেন ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, সাক্ষাৎকারের সময় কোনো ডেলিগেট না থাকায় বিদেশ গমনেচ্ছুদের সন্দেহ হয়। তখন তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন শামীমুর রহমানের এমপি পরিচয়টা ভুয়া। সাক্ষাৎকার বোর্ডে ডেলিগেট পরিচয়ে থাকা নারী ভুয়া এমপি শামীমুরের স্ত্রী। এ ছাড়া রাহুল পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবে মাস্টাররোলে নিয়োগপ্রাপ্ত কম্পিউটার অপারেটর। প্রতারণার শিকার হয়েছেন বুঝতে পেরে বিদেশ গমনেচ্ছুরা এমপি মিজানুর -এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি তাদের বাকি টাকা নিয়ে আসতে বলেন।

গত ৩ মার্চ সংসদ ভবনের পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবে গিয়ে শামীমুরের প্রতারণার বিষয়টি সংসদ ভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের জানান বিদেশ গমনেচ্ছুরা। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তাকেসহ তিনজনকে আটক করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন খান কালবেলাকে বলেন, প্রধান আসামি ভুয়া এমপি শামীমুরের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। মূলত প্রতারণাই তার পেশা। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তিনি মুখ খুলছেন না। অন্য আসামি রাহুলের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন হবে।

মামলার বাদী মেহেদী হাসান বলেন, এমপি ভেবে এবং ভালো কাজের অফার পেয়ে শামীমুরকে বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু এখন ঝামেলায় পড়ে গিয়েছি। এমপি পরিচয়ে আমাদের কাছে থেকে ১৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা ও ৩৯ জনের পাসপোর্ট নিয়েছে। এখন পর্যন্ত পাসপোর্ট উদ্ধার হয়নি। আমরা সবার পাসপোর্ট ও টাকা ফেরত চাই।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. আহাদ আলী বলেন, প্রতারণার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার পর গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে এমপি পরিচয় দেওয়া শামীমুর কখনো এমপি ছিল কি না, এমন তথ্য আমাদের জানা নেই।তথ্য সুত্র ও ছবি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!