কুড়িগ্রামে ঐতিহ্যবাহী শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর ভাঙায় জনমনে ক্ষোভ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
কুড়িগ্রামে ঐতিহ্যবাহী শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর ভাঙায় জনমনে ক্ষোভ : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিশ্বনাথে সরকারী আদেশ অমান্য করে রাতের আধাঁরে গেইট নির্মাণের অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কুড়িগ্রামে ঐতিহ্যবাহী শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর ভাঙায় জনমনে ক্ষোভ চলনবিলে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে- পর্যটন মন্ত্রী মইজ্যারটেক চেকপোস্টে বিশাল ইয়াবা চালানসহ একই পরিবারের তিনজন গ্রেপ্তার তাড়াশে কুড়িয়ে পাওয়া মাটির ব্যাংক ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ আজ ৮ আগস্ট: সারাদেশে বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা; থাকবে ভ্যাপসা গরম আজ শনিবার ৮ আগষ্ট ২০২৬: আজকের নামাজের সময়সুচী শুভ সকাল; আজ শনিবার ৮ আগষ্ট ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা

কুড়িগ্রামে ঐতিহ্যবাহী শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর ভাঙায় জনমনে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
কুড়িগ্রামে ঐতিহ্যবাহী শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর ভাঙায় জনমনে ক্ষোভ

 

 

কুড়িগ্রামে ঐতিহ্যবাহী শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর ভাঙায় জনমনে ক্ষোভ

 

কুড়িগ্রামে ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর ভেঙে সংকোচিত করায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে এতে যানজট নিরসন করা হবে।

ঐতিহ্য এবং ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার শাপলা চত্বর সীমানা দেয়াল ভেঙে সংকোচিত করার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূতিকাগার এই শহীদ মিনার চত্বর। কুড়িগ্রামকে চেনার আইকনিক স্থাপনা। এর সৌন্দর্য সবাইকে বিমোহিত করে। উন্নয়নের বিকল্প পথ না খুঁজে মুছে ফেলা হচ্ছে জেলা শহরের ঐতিহ্যকে।

 

পড়ুন >>চলনবিলে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে- পর্যটন মন্ত্রী

 “কুড়িগ্রামে ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর ভেঙে সংকোচিত করায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে এতে যানজট নিরসন করা হবে।”

 

কুড়িগ্রামে ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও শাপলা চত্বর ভেঙে সংকোচিত করায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে এতে যানজট নিরসন করা হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌরসভা ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শহরের জিরো পয়েন্টে এ কাজ শুরু হয়। তবে শহীদ মিনারের অংশ ভেঙে সড়ক প্রশস্ত করায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও শাপলা চত্বর কুড়িগ্রাম-রংপুর ও কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের সংযোগস্থল। প্রশাসনের ভাষ্য, মোড়টি চিকন হওয়ায় বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে অটোরিকশা, বাস ও ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ে। জনদুর্ভোগ নিরসনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, যানজট নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের প্রায় ১৫ ফুট অংশ অপসারণ করা হবে। এতে মোড়টি প্রশস্ত হবে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। তিনি আরো বলেন, শহীদ মিনার একটি সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় জেলার সকল রাজনৈতিক দল ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সওজ কেবল নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছে।

পড়ুন>>মইজ্যারটেক চেকপোস্টে বিশাল ইয়াবা চালানসহ একই পরিবারের তিনজন গ্রেপ্তার

 

কাজ পরিদর্শনে গিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, শাপলা চত্বর দীর্ঘদিন ধরে শহরের যানজটের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত। শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভ অক্ষত রেখে শুধু অব্যবহৃত ও অনাবশ্যক অংশ অপসারণ করা হচ্ছে, যাতে সড়ক প্রশস্ত করা যায়। এতে শহরের কেন্দ্র স্থলে যান চলাচল আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

কাজ শুরুর সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তবে সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সুশীল সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। তাঁদের দাবি, শাপলা চত্বরসংলগ্ন রেলওয়ের খাসজমি এবং আশপাশের দোকানপাট উচ্ছেদ করেও সড়ক প্রশস্ত করা সম্ভব ছিল।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রবীণ হিতৈষী সংঘের সভাপতি সামিউল হক নান্টু জানান, এঘটনা দুঃখজনক। কুড়িগ্রামের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ সিদ্ধান্ত পুন: বিবেচনা করবার জন্য অনুরোধ জানাই জেলার সিনিয়র সিটিজেন হিসাবে। রাস্তা সম্প্রসারিত করার অনেক বিকল্প পথ রয়েছে।

আরও পড়ুন>>তাড়াশে কুড়িয়ে পাওয়া মাটির ব্যাংক ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ

 

শহীদ মিনারের মতো সেনসেটিভ এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রক্ষায় সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। এ শহীদ মিনার স্হাপনের পিছনেও রয়েছে অনেক লড়াই ও সংগ্রামের ইতিহাস। ইতিহাস বদলানো বা মুছে ফেলা উচিৎ হবে না।

 

রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহসভাপতি সুব্রতা রায় বলেন, শহীদ মিনারের অংশ ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করা গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। প্রয়োজন হলে আশপাশের জমি অধিগ্রহণ বা দোকানপাট সরিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ করা যেত। তাঁর ভাষ্য, শহীদ মিনারের জায়গা সংকুচিত করে সড়ক সম্প্রসারণ ভাষা আন্দোলনের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রশাসক বিএম কুদরত-এ-খুদার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!