ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস উদযাপন
- আপডেট সময় : ১০:২০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস উদযাপন
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার পরিবেশ সংরক্ষণে বাংলাদেশকে নেতৃত্বের ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত এবং বৃহত্তম গভীর-সমুদ্র সাবমেরিন ফ্যানও বাংলাদেশে অবস্থিত। তাই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভূমিকাও বাংলাদেশকেই নিতে হবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রফেসর ফারহাত আনোয়ার এসব কথা বলেন। ৮ ও ৯ আগস্ট ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে দুদিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর আয়োজন করে ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর) এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি। জাতিসংঘের উদ্যোগে ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং ২৮ জুলাই বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস পালন করা হয়ে থাকে।
‘সাবমেরিন ফ্যান’ বলতে গভীর-সমুদ্র পরিবেশে মহাদেশীয় প্রান্তের কাছে সঞ্চিত পলির স্তরকে বোঝায়। এগুলো হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধানের সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবেও পরিচিত। বিশ্বের বৃহত্তম সাবমেরিন ফ্যান ‘বেঙ্গল ফ্যান’ নামে পরিচিত। এটি বঙ্গোপসাগরের পুরো অংশজুড়ে বিস্তৃত। এর দৈর্ঘ্য ৩,০০০ কিলোমিটার, প্রস্থ ১,৪৩০ কিলোমিটার এবং পলির স্তরের পুরুত্ব ১৬.৫ কিলোমিটার।
প্রফেসর ফারহাত আরও বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং তরুণদের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একাডেমিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, “ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এমন একটি শক্তি রয়েছে, যা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। সেটি হলো ব্র্যাক। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে ব্র্যাকের উপস্থিতি রয়েছে। আমরা এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু কার্যক্রমে আরও বড় ভূমিকা রাখতে চাই। একটি উন্নত বাংলাদেশ এবং আরও ভালো পৃথিবী গড়ে তুলতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে চাই।”
প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য উপযোগী গাছের প্রজাতি নির্ধারণে ইতোমধ্যে ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কাঠের জ্বালানি ব্যবহারকারী ইটভাটা বন্ধে তিনি সরকারে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। সেই সাথে সিঙ্গেল ইউজ পলিথিনের পরিবর্তে পচনশীল বিকল্প ব্যবহারের বিষয়ে সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব মূল্যায়নের বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘রিডিউস, ‘রিইউজ’ এবং ‘রিসাইকেল’ বা ‘থ্রিআর নীতি’র গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। তিনি সার্কুলার অর্থনীতির ওপরও গুরুত্ব দেন, যেখানে বর্জ্যকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য সম্পদে পরিণত করা হয়। এ কাজে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ইমেরিটাস অধ্যাপক ও সিথ্রিইআর এর উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত বলেন, বাংলাদেশ যে অপরাধ করেনি, তার পরিণতিই আজ ভোগ করছে। তিনি বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ৪০ থেকে ৫০টি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এসব অঙ্গীকারের আরও কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব দায়বদ্ধতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী জলবায়ু ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, একাডেমিয়া, বেসরকারি খাত এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি টেকসই উন্নয়নে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অংশ হিসেবে প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যাংকটির বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদেরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে, কারণ ভবিষ্যতে তারাই বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ও উইং প্রধান (ইউএন উইং) এ. কে. এম. সোহেল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ ক্রমশ অ্যাডাপ্টেশনভিত্তিক অর্থায়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি তরুণদের বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামো, প্রকল্প প্রণয়ন এবং প্রস্তাব তৈরির দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান, যাতে তারা দেশের জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তোলা এবং জলবায়ু উদ্যোগে আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখতে পারে।
সিথ্রিইআর এর ডিরেক্টর ড. গোলাম রব্বানী অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ, পরিবেশকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা, সবুজ ও পরিচ্ছন্ন শহর এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে “শি ফর ক্লাইমেট ফেলোশিপ” প্রোগ্রামের সেরা তিনজন অংশগ্রহণকারীকে পুরস্কৃত করা হয়। জলবায়ু কার্যক্রমে নারীদের নেতৃত্বকে উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পাঁচটি টেকনিক্যাল সেশনে জলবায়ু সহনশীলতা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং তরুণদের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়।
আয়োজনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি তার ২৫ বছরপূর্তি উদযাপন করছে। পরিবেশ সংরক্ষণে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার এবং আরও টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দুদিনব্যাপী এই আয়োজন শেষ হয়।
এই আয়োজন জাতিসংঘ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার এসডিজি ১৩ (জলবায়ু কার্যক্রম), এসডিজি ১৪ (জলজ জীবন), এসডিজি ১৫ (স্থলজ জীবন) এবং এসডিজি ১৭ (অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারিত্ব)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অফিস অফ কমিউনিকেশন্স এই তথ্য জানায়।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























