শাহজালাল বিমানবন্দরে ভোগান্তি ও অপপ্রচারের পাল্টাপাল্টি পরিস্থিতি
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার বিষয়টি দীর্ঘদিনের। লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, ইমিগ্রেশনে হয়রানি এবং মালামাল বহনের জন্য ট্রলি না পাওয়ার মতো ঘটনা সেখানে নিয়মিত চিত্র। সম্প্রতি এই সংকট নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে তিন তরুণীকে নেপালে যেতে বাধা দেওয়া এবং বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা তথ্য ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। তবে এর মধ্যে অনেক পুরনো ভিডিও ও ছবি প্রচার করে একটি গোষ্ঠী বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক মাসেও এ চিত্র খুব একটা বদলায়নি। এ ধরনের অপপ্রচারের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সরজমিন বিমানবন্দর এপ্রোন এলাকা ঘুরেও এমন চিত্র দেখা গেছে। লাগেজ পাবার পর ট্রলি নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর একটি ট্রলি পাই।
বিমানবন্দরের ট্রলি সংকট নিয়ে মাঝেমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়। যদিও কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয় চার হাজার ট্রলি থাকার দাবি করে, কিন্তু বাস্তবে যখন একসাথে কয়েকটি বড় ফ্লাইট নামে, তখন তীব্র ট্রলি সংকটের মুখে পড়েন যাত্রীরা। কয়েক মাস আগে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ট্রলি এনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। গত ১লা অক্টোবর মদিনা থেকে আসা বিমানের ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে দেরি এবং ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বেল্ট এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে আসা বিমানবন্দর পরিচালকের সাথে জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান তর্কে জড়ান এবং তাকে হুমকি দেন। পরে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে সরকারি কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে তাকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। একদিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
যাত্রীদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলোও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসছে, যা অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে। তিনদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরা এক গণমাধ্যমকর্মী ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, দেশে ফেরার পর লাগেজ পেতে তাকে দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং লাগেজ একটি খোলা ও আরেকটি ভাঙা অবস্থায় পেয়েছেন। এর দু’দিন আগে সৌদি আরব থেকে আসা যাত্রী মফিজুল আলম জানিয়েছেন, দীর্ঘ জার্নি শেষে দেশে নেমেই তাকে ৪৫ মিনিট লাগেজ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে, এরপরও ট্রলি পাওয়া ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি লিখেন, আজ আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে এয়ারপোর্টে লাগেজ পেয়েছি দেড়ঘণ্টা পর।
বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ছড়ানো তথ্য এবং ভাইরাল হওয়া পুরনো ভিডিওগুলোর বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো অনেক ভিডিওই অনেক পুরনো। মন্ত্রী আরও বলেন, বিমানবন্দরের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা হলে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে এবং যারা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আবুল কালামের এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত সীমিত সক্ষমতার বিপরীতে যাত্রী চাপ বেশি হওয়ায় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। সরঞ্জামের অপ্রতুলতা এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত কড়াকড়ি বা ইচ্ছাকৃত হয়রানি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সাধারণত স্বাভাবিক সময়ে ট্রলি সংকট না থাকলেও একসাথে অনেকগুলো ফ্লাইট নামলে তখন এটি প্রকট আকার ধারণ করে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়েও মাঝেমধ্যে যাত্রীরা বিরূপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন বলে জানা গেছে। প্রয়োজনের তুলনায় সরঞ্জামি কম থাকায় কিছু ক্ষেত্রে সেবা বিঘ্নিত হয়।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























