ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাকিমপুরে ২২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বিধবা সুফিয়া গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানাল জামায়াত মালয়েশিয়ায় পাহাড়ধসে নিখোঁজ বাংলাদেশির সন্ধান মিলল আজ শুরু নোবেল মৌসুম: চিকিৎসাবিজ্ঞানে আলোচনার শীর্ষে যেসব গবেষণা যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে বি-১ বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র পল্টন ও প্রেস ক্লাবের সামনে অটোরিকশা চালকদের অবরোধ কর অঞ্চল-রংপুরে ৩৬ কর্মী নিয়োগ: আবেদন করবেন যেভাবে সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অনুপ্রবেশ ও অবকাঠামো নির্মাণের তীব্র নিন্দা

হাকিমপুরে ২২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২২টিই চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে চলছে এসব বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় এক বড় সংকট তৈরি হয়েছে। উপজেলার মোট ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২২টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে নির্ধারিত পাঠ শেষ করতে সমস্যা হচ্ছে এবং পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের একই সঙ্গে দাপ্তরিক সব কাজকর্ম, নথিপত্র প্রস্তুত করা এবং নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরির মতো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানও চালিয়ে যেতে হয়। এ দ্বৈত দায়িত্ব পালনের ফলে একজন শিক্ষকের পক্ষে দুটি ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম আলমাস জানান, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা বেশ কষ্টসাধ্য। অফিসের নানাবিধ কাজ শেষ করে ঠিকমতো শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দেওয়া অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আইনুনাহার এলি ও কাকুলি আক্তার জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকার পাশাপাশি কিছু বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। এর ফলে কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে অন্যদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়, যা পাঠদান প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। একই সঙ্গে অফিসের বিভিন্ন কাজও সামলাতে হয়। ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় কিছুটা কমে যায়। শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে বিদ্যালয় পরিচালনা ও পাঠদান, দুই ক্ষেত্রেই স্বাভাবিকতা ফিরবে।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে সবসময় সব শ্রেণিতে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে নির্দিষ্ট সময়ে পাঠ্যক্রম শেষ করা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের ভিত্তি মজবুত করার স্বার্থে দ্রুত প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শূন্য পদ পূরণের দাবি জানিয়েছেন।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জামান আলী জানান, প্রশাসনিক কাজের বাড়তি চাপের কারণে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পাঠদানে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি অবিলম্বে শূন্য পদগুলো পূরণের আহ্বান জানান।

তবে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মোত্তালেব আলম। তিনি দাবি করেন, শিক্ষক সংকট থাকলেও বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে বড় কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না। তিনি জানান, শিক্ষার মান বজায় রাখতে এবং বিদ্যালয় সচল রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করা হচ্ছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই শিক্ষক সংকটের কারণে প্রশাসনিক ও একাডেমিক উভয় ক্ষেত্রেই কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত নতুন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া গেলে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আগের মতো স্বাভাবিক ও গতিশীল হয়ে উঠবে। Do Not Sell or Share My Personal Information। We won’t sell or share your personal information to inform the ads you see। You may still see interest-based ads if your information is sold or shared by other companies or was sold or shared previously।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হাকিমপুরে ২২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

আপডেট সময় : ০৫:০৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় এক বড় সংকট তৈরি হয়েছে। উপজেলার মোট ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২২টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে নির্ধারিত পাঠ শেষ করতে সমস্যা হচ্ছে এবং পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের একই সঙ্গে দাপ্তরিক সব কাজকর্ম, নথিপত্র প্রস্তুত করা এবং নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরির মতো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানও চালিয়ে যেতে হয়। এ দ্বৈত দায়িত্ব পালনের ফলে একজন শিক্ষকের পক্ষে দুটি ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম আলমাস জানান, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা বেশ কষ্টসাধ্য। অফিসের নানাবিধ কাজ শেষ করে ঠিকমতো শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দেওয়া অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আইনুনাহার এলি ও কাকুলি আক্তার জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকার পাশাপাশি কিছু বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। এর ফলে কোনো শিক্ষক ছুটিতে থাকলে অন্যদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়, যা পাঠদান প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। একই সঙ্গে অফিসের বিভিন্ন কাজও সামলাতে হয়। ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় কিছুটা কমে যায়। শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে বিদ্যালয় পরিচালনা ও পাঠদান, দুই ক্ষেত্রেই স্বাভাবিকতা ফিরবে।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে সবসময় সব শ্রেণিতে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে নির্দিষ্ট সময়ে পাঠ্যক্রম শেষ করা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের ভিত্তি মজবুত করার স্বার্থে দ্রুত প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শূন্য পদ পূরণের দাবি জানিয়েছেন।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জামান আলী জানান, প্রশাসনিক কাজের বাড়তি চাপের কারণে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পাঠদানে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি অবিলম্বে শূন্য পদগুলো পূরণের আহ্বান জানান।

তবে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মোত্তালেব আলম। তিনি দাবি করেন, শিক্ষক সংকট থাকলেও বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে বড় কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না। তিনি জানান, শিক্ষার মান বজায় রাখতে এবং বিদ্যালয় সচল রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করা হচ্ছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই শিক্ষক সংকটের কারণে প্রশাসনিক ও একাডেমিক উভয় ক্ষেত্রেই কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত নতুন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া গেলে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আগের মতো স্বাভাবিক ও গতিশীল হয়ে উঠবে। Do Not Sell or Share My Personal Information। We won’t sell or share your personal information to inform the ads you see। You may still see interest-based ads if your information is sold or shared by other companies or was sold or shared previously।

Facebook Comments Box