শিক্ষকদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি: শাস্তির হুঁশিয়ারি মন্ত্রণালয়ের।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি ও বিদ্যালয়ে তালাবদ্ধ কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অবিলম্বে কাজে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছে। ))কাজ না করলে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন-২০১৮, আচরণ বিধিমালা এবং ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বুধবার এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দ্রুত বিদ্যালয়ে ফিরে গিয়ে চলমান তৃতীয় প্রান্তিকের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে হবে। শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে বিভাগের পক্ষ থেকে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আইনের দশম অধ্যায় অনুযায়ী, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ শৃঙ্খলাভঙ্গ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় মামলা রুজু করে প্রয়োজনীয় শাস্তি প্রদান করতে পারে।
১. ১৩তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেডে বেতন উন্নীতকরণ।
২. চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা নিরসন।
৩. সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে ১০০% বিভাগীয় পদোন্নতি।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে—১১তম গ্রেডসহ সব দাবি ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় বেতন কমিশন-এ পাঠানো হয়েছে। পে-কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ পদক্ষেপ নেবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কয়েকটি সংগঠন বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়ার বিরুদ্ধে বাধা সৃষ্টি করেছে। কোথাও কোথাও পরীক্ষা নিতে ইচ্ছুক শিক্ষকদের হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেছে।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালা ও ফৌজদারি আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
গত ২৭ নভেম্বর থেকে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ কর্মবিরতি শুরু করে এবং পরীক্ষাও বর্জন করে। আরেক সংগঠন ‘সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ ২৩–২৭ নভেম্বর কর্মবিরতি পালন শেষে ৪ ডিসেম্বর থেকে বিদ্যালয়ে তালাবদ্ধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।
সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন প্রদানের দাবিসহ অন্য আরো দুটি দাবি, যথা ১০ ও ১৬ বছর চাকরি শেষে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন এবং প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য হতে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির বিষয়ে ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এর আগে এ মন্ত্রণালয় থেকে গত ৭ আগস্ট সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১৩তম গ্রেড হতে ১১তম গ্রেড এ উন্নীতকরণের বিষয়টি বিবেচনার জন্য জাতীয় বেতন কমিশনের সভাপতিকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল উন্নীতকরণের বিষয়টি পে-কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই অর্থ বিভাগ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে মর্মে ১০ নভেম্বর অর্থ বিভাগের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় উপর্যুক্ত ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করার পরেও দেখা যাচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠন চলমান বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ না করে বিভিন্নভাবে ওই পরীক্ষা গ্রহণে বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করেছেন এবং কোথাও কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষকদের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়ে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মসূচি গ্রহণ সরকারি চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী এবং ফৌজদারি আইনেও বিবেচ্য।
‘এ পরিস্থিতিতে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণকে অবিলম্বে কাজে যোগদান করে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় প্রান্তিকের পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত বিদ্যালয়ের যাবতীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে। অন্যথায় এ ধরনের শৃঙ্খলা-বিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকুরি আইন, আচরণ বিধিমালা ও ফৌজদারি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
Leave a Reply