ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের টেকনাফে সশস্ত্র পাচারকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন এক সেনাসদস্য মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নিজেরাই সংকটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল: হোসেইন তাইয়েব ফ্রান্সে বিশাল বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৪৪৮ ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ৪৪০ হুথি যোদ্ধা নিহত জলবায়ুর হুমকিতে আশাশুনি: ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে কিশোর শক্তি সিডিএ স্কুলের ইংরেজি মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে অভিভাবকদের স্মারকলিপি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে ৩-২ গোলে হারল পাকিস্তান পদত্যাগের পথে মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্প প্রশাসনের পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তা মহা-হিসাব নিরীক্ষক কার্যালয়ে ৩৪৭ পদে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

ভূরুঙ্গামারীর মীর জুমলা মসজিদ (Mir jumla mosque)

সৃষ্টি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:১১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মে ২০২১ ৯৫৮৩১ বার পড়া হয়েছে

মীর জুমলা মসজিদ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

ভূরুঙ্গামারীর মীর জুমলা মসজিদ (Mir jumla mosque)

 

মীর জুমলা মসজিদটির কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকের ছড়া ইউনিয়নের ফুটানী বাজারের দক্ষিণে অবস্থান।

 

 

 

এটি অতি প্রাচীন মসজিদ নামেও পরিচিত। মসজিদ এক গম্বুজ বিশিষ্ট ছিল। মসজিদের দৈর্ঘ্য  ২৭ ফুট প্রস্থ ২২ ফুট তিনটি প্রবেশ দরজা ছিল। মসজিদের  উত্তর পার্শ্বে একটি দরগা রয়েছে  যা এখনো দাড়িয়ে সেই স্মৃতি বহন করছে। এখন মসজিদটি ভেঙ্গে ঐ স্থানে নতুন মসজিদ তৈরী করেছে মসজিদ কমিটি।অর্থ সংকুলান না হওয়ায়  আগের  আদলে তৈরী করতে পারেনি ।

 

    জেনে নিন  দুই বাংলার এক মসজিদ >> ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন ভারত ও বাংলাদেশ দুইদেশের অভিন্ন ঝাকুয়াটারী মসজিদ

 

 

তবে দরগাটিকে অক্ষত রেখেছে। মোঘল আমলের নিদর্শন টিকিয়ে রাখতে  এখনো দাড়িয়ে থাকা দরগাটি সংস্কার করা জরুরী হয়ে পড়েছেে।এখানে মোঘলদের ব্যহৃত মাটির পাত্রের ভাঙ্গা অংশ সহ বিভিন্ন সাইজের মাটির পেয়ালা প্রচুর ছিল। সামান্য মাটি খুড়লে এসব বেড়িয়ে আসতো। সংরক্ষণের অভাবে সব গুলোই এখন হারিয়ে গেছে।

     পাইকের ছড়া ইউনিয়নের কৃর্তি সন্তান  স্বনামধন্য জনদরদী চেয়াম্যান ও শিক্ষানুরাগী আবুল হাসান মীর জুমলা মসজিদের স্মৃতি ও আকৃতি টিকিয়ে রাখতে নিজ বাড়ির সামনে মীর জুমলা মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।যা ব্যাপারীটারী জামে মসজিদ নামে পরিচিত।

 

 

মুসল্লী বেড়ে  যাওয়ায় এখন মসজিদটি সামনের দিকে  বাড়ানো হয়েছে। মীর জুমলা মসজিদের  সামনের নির্মাণ শৈলীর ধারণা নিতে চাইলে মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করতে হবে।

 

 

বাদশা আওরঙ্গজেব মীর জুমলাকে বাংলার সুবেদার নিযুক্ত করে ঢাকায় প্রেরণ করেন।মীর জুমলা ঢাকায় আসার পর প্রথমে আসাম ও কোচবিহার রাজাকে তাদের কৃতকর্মের উপযুক্ত জবাব ও উত্তর বঙ্গ উদ্ধারের জন্য প্রচুর সৈন্যসহ রনতরী, কামান ও অন্যান্য রসদ নিয়ে কোচবিহার অভিমুখে পাঠান।

 

 

পুর্বে প্রেরিত সৈন্যদের ও যুদ্ধ নৌকাগুলোকে অপ্রসিদ্ধ পথ ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা নদী দিয়ে গয়াবাড়িতে ( ভূরুঙ্গামারী) অবস্থান করতে বলা হয়। মীর জুমলা স্বয়ং ১২ হাজার অশ্বারোহী ও বহু পদাতিক সৈন্য নিয়ে স্থল পথে রওয়ানা হন।গয়াবাড়ি পৌছার পর প্রতিকুল আবহাওয়ার শিকার হন।ফলে যাত্রা বিরতি করেন।

 

সকল সৈন্যসহ গয়াবাড়িতে দির্ঘ্য দিন অবস্থান করেন। এই সময় তিনি একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।

 

 

এই মসজিদটি মীর জুমলা মসজিদ নামে পরিচিত। এখানে থেকেই মীর জুমলা কোচবিহার ও আসাম যুদ্ধ পরিচালনা করেন। কোচবিহার বিজয়ের পর আসাম বিজয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।আবহাওয়া প্রতিকুলের কারণে জয়ের আসা ছেড়ে আসাম থেকে ফেরত আসার সিদ্ধান্ত নেন।পরে অসুস্থ হয়ে মারা যান।

    মীর জুমলাকে কামাখ্যা মন্দিরের পাশে একটি পাহাড়ে দাফন করা হয়। মীর জুমলা মারা যাওয়ার পর সৈন্যরা পুনরায় গয়া বাড়ীর পুর্বের স্থানে অবস্থান করে।

 

 

এই জায়গায় সৈন্য কয়েক বছর অবস্থান করে অনেক যুদ্ধ পরিচালনা করে এবং নতুন শাসন ধার অর্পণ করা রাজা ও বশে আসা জমিদাররা সম্পুর্ণ পরাজয় না হওয়া সৈন্যরা এখানেই অবস্থান করে ছিল। মসজিদের অবশিষ্ঠ স্মৃতি ধরে রাখতে প্রশাসন ও শুধীমহলের সজাগ দৃষ্টি একান্ত প্রয়োজন।

তথ্য দেখুন>>মীর জুমলা ইউকিপিডিয়া

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

10 thoughts on “ভূরুঙ্গামারীর মীর জুমলা মসজিদ (Mir jumla mosque)”

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ভূরুঙ্গামারীর মীর জুমলা মসজিদ (Mir jumla mosque)

আপডেট সময় : ০৭:১১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মে ২০২১

 

 

ভূরুঙ্গামারীর মীর জুমলা মসজিদ (Mir jumla mosque)

 

মীর জুমলা মসজিদটির কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকের ছড়া ইউনিয়নের ফুটানী বাজারের দক্ষিণে অবস্থান।

 

 

 

এটি অতি প্রাচীন মসজিদ নামেও পরিচিত। মসজিদ এক গম্বুজ বিশিষ্ট ছিল। মসজিদের দৈর্ঘ্য  ২৭ ফুট প্রস্থ ২২ ফুট তিনটি প্রবেশ দরজা ছিল। মসজিদের  উত্তর পার্শ্বে একটি দরগা রয়েছে  যা এখনো দাড়িয়ে সেই স্মৃতি বহন করছে। এখন মসজিদটি ভেঙ্গে ঐ স্থানে নতুন মসজিদ তৈরী করেছে মসজিদ কমিটি।অর্থ সংকুলান না হওয়ায়  আগের  আদলে তৈরী করতে পারেনি ।

 

    জেনে নিন  দুই বাংলার এক মসজিদ >> ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন ভারত ও বাংলাদেশ দুইদেশের অভিন্ন ঝাকুয়াটারী মসজিদ

 

 

তবে দরগাটিকে অক্ষত রেখেছে। মোঘল আমলের নিদর্শন টিকিয়ে রাখতে  এখনো দাড়িয়ে থাকা দরগাটি সংস্কার করা জরুরী হয়ে পড়েছেে।এখানে মোঘলদের ব্যহৃত মাটির পাত্রের ভাঙ্গা অংশ সহ বিভিন্ন সাইজের মাটির পেয়ালা প্রচুর ছিল। সামান্য মাটি খুড়লে এসব বেড়িয়ে আসতো। সংরক্ষণের অভাবে সব গুলোই এখন হারিয়ে গেছে।

     পাইকের ছড়া ইউনিয়নের কৃর্তি সন্তান  স্বনামধন্য জনদরদী চেয়াম্যান ও শিক্ষানুরাগী আবুল হাসান মীর জুমলা মসজিদের স্মৃতি ও আকৃতি টিকিয়ে রাখতে নিজ বাড়ির সামনে মীর জুমলা মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।যা ব্যাপারীটারী জামে মসজিদ নামে পরিচিত।

 

 

মুসল্লী বেড়ে  যাওয়ায় এখন মসজিদটি সামনের দিকে  বাড়ানো হয়েছে। মীর জুমলা মসজিদের  সামনের নির্মাণ শৈলীর ধারণা নিতে চাইলে মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করতে হবে।

 

 

বাদশা আওরঙ্গজেব মীর জুমলাকে বাংলার সুবেদার নিযুক্ত করে ঢাকায় প্রেরণ করেন।মীর জুমলা ঢাকায় আসার পর প্রথমে আসাম ও কোচবিহার রাজাকে তাদের কৃতকর্মের উপযুক্ত জবাব ও উত্তর বঙ্গ উদ্ধারের জন্য প্রচুর সৈন্যসহ রনতরী, কামান ও অন্যান্য রসদ নিয়ে কোচবিহার অভিমুখে পাঠান।

 

 

পুর্বে প্রেরিত সৈন্যদের ও যুদ্ধ নৌকাগুলোকে অপ্রসিদ্ধ পথ ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা নদী দিয়ে গয়াবাড়িতে ( ভূরুঙ্গামারী) অবস্থান করতে বলা হয়। মীর জুমলা স্বয়ং ১২ হাজার অশ্বারোহী ও বহু পদাতিক সৈন্য নিয়ে স্থল পথে রওয়ানা হন।গয়াবাড়ি পৌছার পর প্রতিকুল আবহাওয়ার শিকার হন।ফলে যাত্রা বিরতি করেন।

 

সকল সৈন্যসহ গয়াবাড়িতে দির্ঘ্য দিন অবস্থান করেন। এই সময় তিনি একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।

 

 

এই মসজিদটি মীর জুমলা মসজিদ নামে পরিচিত। এখানে থেকেই মীর জুমলা কোচবিহার ও আসাম যুদ্ধ পরিচালনা করেন। কোচবিহার বিজয়ের পর আসাম বিজয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।আবহাওয়া প্রতিকুলের কারণে জয়ের আসা ছেড়ে আসাম থেকে ফেরত আসার সিদ্ধান্ত নেন।পরে অসুস্থ হয়ে মারা যান।

    মীর জুমলাকে কামাখ্যা মন্দিরের পাশে একটি পাহাড়ে দাফন করা হয়। মীর জুমলা মারা যাওয়ার পর সৈন্যরা পুনরায় গয়া বাড়ীর পুর্বের স্থানে অবস্থান করে।

 

 

এই জায়গায় সৈন্য কয়েক বছর অবস্থান করে অনেক যুদ্ধ পরিচালনা করে এবং নতুন শাসন ধার অর্পণ করা রাজা ও বশে আসা জমিদাররা সম্পুর্ণ পরাজয় না হওয়া সৈন্যরা এখানেই অবস্থান করে ছিল। মসজিদের অবশিষ্ঠ স্মৃতি ধরে রাখতে প্রশাসন ও শুধীমহলের সজাগ দৃষ্টি একান্ত প্রয়োজন।

তথ্য দেখুন>>মীর জুমলা ইউকিপিডিয়া

 

Facebook Comments Box