ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের টেকনাফে সশস্ত্র পাচারকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন এক সেনাসদস্য মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে নিজেরাই সংকটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল: হোসেইন তাইয়েব ফ্রান্সে বিশাল বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৪৪৮ ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ৪৪০ হুথি যোদ্ধা নিহত জলবায়ুর হুমকিতে আশাশুনি: ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে কিশোর শক্তি সিডিএ স্কুলের ইংরেজি মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে অভিভাবকদের স্মারকলিপি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে ৩-২ গোলে হারল পাকিস্তান পদত্যাগের পথে মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্প প্রশাসনের পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তা মহা-হিসাব নিরীক্ষক কার্যালয়ে ৩৪৭ পদে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

ফ্রান্সে বিশাল বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৪৪৮

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মজুরি স্থবিরতা এবং সরকারি সেবায় বিনিয়োগ হ্রাসের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে শ্রমিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের ডাকা বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। সরকারি পরিসংখ্যানে এদিন দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। তবে সিজিটি (CGT)-এর মতো শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি। এই বিশাল জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। সরকারি ও আয়োজকদের পরিসংখ্যানে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলেও উভয় হিসাবেই বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্যারিসে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৬৫ হাজার। অন্যদিকে সিজিটির হিসাবে, ফ্রান্সজুড়ে ১৫ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি এবং প্যারিসে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।

বিক্ষোভের শুরুটা শান্তিপূর্ণ থাকলেও বিকেলের দিকে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে প্লাস দ্য লা নাসিওঁ পর্যন্ত মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। লিয়োঁসহ অন্যান্য শহরেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। ফরাসি দৈনিক লে মোঁদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিসের বুলেভার্ড ভলতেয়ার এলাকায় পুলিশের অভিযানের সময় অন্তত তিন তরুণ মাথায় গুরুতর আঘাত পান, যাদের স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসাকর্মীরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে দিনব্যাপী কর্মসূচির অধিকাংশ অংশ শান্তিপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ৪৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫৩ জন পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য আহত হয়েছেন। বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভের প্রভাবে বৃহস্পতিবার পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ আইফেল টাওয়ার বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের একাংশ কর্মবিরতি পালন করেন এবং জ্বালানি খাতের ধর্মঘটে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সাময়িক প্রভাব পড়ে। দিনের কর্মসূচি ঘিরে দেশজুড়ে ৪৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিছিলের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ আগেই জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মজুরি বৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের দাবি তুলেছেন। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ক্রমবর্ধমান এই জনঅসন্তোষ ফ্রান্সের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন চাপ তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ ও রাফায়েল গ্লুকসম্যানের মতো শীর্ষ রাজনীতিকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু আগামী ৯ নভেম্বর শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সামাজিক সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন। সেখানে মজুরি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। সরকারের সঙ্গে এই আসন্ন আলোচনা কতটা কার্যকর হবে এবং চলমান অসন্তোষের কোনো সমাধান আসবে কি না, তা নিয়ে এখন ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফ্রান্সে বিশাল বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আটক ৪৪৮

আপডেট সময় : ০৯:৩৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মজুরি স্থবিরতা এবং সরকারি সেবায় বিনিয়োগ হ্রাসের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেশটির রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে শ্রমিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের ডাকা বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। সরকারি পরিসংখ্যানে এদিন দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। তবে সিজিটি (CGT)-এর মতো শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি। এই বিশাল জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। সরকারি ও আয়োজকদের পরিসংখ্যানে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলেও উভয় হিসাবেই বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের বিষয়টি উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্যারিসে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৬৫ হাজার। অন্যদিকে সিজিটির হিসাবে, ফ্রান্সজুড়ে ১৫ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি এবং প্যারিসে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।

বিক্ষোভের শুরুটা শান্তিপূর্ণ থাকলেও বিকেলের দিকে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে প্লাস দ্য লা নাসিওঁ পর্যন্ত মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। লিয়োঁসহ অন্যান্য শহরেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। ফরাসি দৈনিক লে মোঁদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিসের বুলেভার্ড ভলতেয়ার এলাকায় পুলিশের অভিযানের সময় অন্তত তিন তরুণ মাথায় গুরুতর আঘাত পান, যাদের স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসাকর্মীরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে দিনব্যাপী কর্মসূচির অধিকাংশ অংশ শান্তিপূর্ণ ছিল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ৪৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫৩ জন পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য আহত হয়েছেন। বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভের প্রভাবে বৃহস্পতিবার পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ আইফেল টাওয়ার বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের একাংশ কর্মবিরতি পালন করেন এবং জ্বালানি খাতের ধর্মঘটে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সাময়িক প্রভাব পড়ে। দিনের কর্মসূচি ঘিরে দেশজুড়ে ৪৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিছিলের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ আগেই জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মজুরি বৃদ্ধি, ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের দাবি তুলেছেন। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ক্রমবর্ধমান এই জনঅসন্তোষ ফ্রান্সের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন চাপ তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ ও রাফায়েল গ্লুকসম্যানের মতো শীর্ষ রাজনীতিকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু আগামী ৯ নভেম্বর শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সামাজিক সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন। সেখানে মজুরি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। সরকারের সঙ্গে এই আসন্ন আলোচনা কতটা কার্যকর হবে এবং চলমান অসন্তোষের কোনো সমাধান আসবে কি না, তা নিয়ে এখন ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

Facebook Comments Box