সিডিএ স্কুলের ইংরেজি মাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে অভিভাবকদের স্মারকলিপি
- আপডেট সময় : ০৮:০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ইংরেজি মাধ্যমে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত এই কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা আসায় বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। গত ১১ অক্টোবর কর্তৃপক্ষ একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় এই স্তরে ভর্তি বন্ধ রাখা হবে এবং বর্তমানে যারা আছে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলা মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।
তবে কর্তৃপক্ষের এই একতরফা সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের সুনাম ও মানসম্মত শিক্ষার আশায় সন্তানদের এখানে ভর্তি করানো হয়েছিল। অধিকাংশ অভিভাবকের স্বপ্ন ছিল মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সন্তানরা একই ধারায় শিক্ষালাভ করবে। কিন্তু হঠাৎ করে মাধ্যম পরিবর্তনের এই পরিকল্পনা তাদের সেই প্রত্যাশা ধুলিসাৎ করেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিকার চেয়ে গত ৫ নভেম্বর অভিভাবকরা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
অভিভাবকদের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে নার্সারি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি মাধ্যমে প্রায় ২৮৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন ১৭০০ থেকে ১৯০০ টাকা পর্যন্ত। অভিভাবকরা স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন ও কার্যক্রম সচল রাখতে তারা টিউশন ফি বৃদ্ধিতেও সম্মত আছেন। এর পরও কোনো আলোচনা ছাড়াই কেন এই মাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এসব শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা।
অভিভাবক অ্যাডভোকেট আমেনা আল রেশমা এ্যানি এই সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সিডিএ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এর আওতাধীন স্কুলটিকে ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত নয়। তিনি দ্রুত এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে স্কুলটিকে আগের ধারায় এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। তার মতে, ইংরেজি মাধ্যম পরিচালনায় কার্যকর উদ্যোগ নিলে শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজনে পৃথক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষক কমিটি গঠন করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এই বিষয়ে জানতে চাইলে অভিভাবক অ্যাডভোকেট আমেনা আল রেশমা এ্যানি বলেন, আমার মেয়ে ওই স্কুলে পড়াশোনা করছে।
স্মারকলিপিতে তারা চারটি দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইংরেজি মাধ্যমের পাঠদান অব্যাহত রাখা, ১১ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার, ইংরেজি মাধ্যম পরিচালনার জন্য আলাদা শিক্ষক প্যানেল গঠন এবং অনলাইন ও অফলাইন কার্যক্রমে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা। এছাড়া অভিভাবকদের শঙ্কা, দীর্ঘদিন ইংরেজি মাধ্যমে পড়া শিক্ষার্থীদের হঠাৎ বাংলা মাধ্যমে স্থানান্তর করলে শিক্ষাজীবনে সামঞ্জস্যহীনতা তৈরি হতে পারে, যা তাদের জন্য মানিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও অভিভাবকদের মতামত বিবেচনায় না নিয়েই এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সিডিএর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, অভিভাবকদের পাঠানো স্মারকলিপি আমি হাতে পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে স্কুল অধ্যক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চিন্তাভাবনা করা হবে। আমি প্রিন্সিপালের সাথে এটা নিয়ে আলাপ করবো এবং কি করা যায় ভেবে দেখবো।
এদিকে সিডিএ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু হেনা মোস্তফা জামাল জানিয়েছেন, বিভিন্ন শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। তার ভাষ্যমতে, প্রতিটি ক্লাসে বর্তমানে মাত্র ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং দশম শ্রেণিতে এই সংখ্যা মাত্র পাঁচজন। শিক্ষার্থী সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলেই এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সূত্র: Chattogram Pratidin
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























