মিরপুরের ওয়াওজা: অপটিক্যাল ইলুশন ও গেমসের নতুন ঠিকানা
- আপডেট সময় : ০২:৫৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
মিরপুরের ১২ নম্বরে অবস্থিত হাজী কুজরাত আলী মোল্লা মার্কেটের চতুর্থ তলায় গড়ে উঠেছে ‘ওয়াওজা এন্টারটেইনমেন্ট মিউজিয়াম’। এমন অসম্ভবকে সম্ভব করেছে মিরপুর ১২ নম্বরে অবস্থিত সদ্য চালু হওয়া চিত্তবিনোদনকেন্দ্র ওয়াওজা। সত্যি বলতে এখানেও ভিন্নতা এনেছে ওয়াওজা।
এটি নিজেকে বাংলাদেশের প্রথম প্রিমিয়াম ইলুশন ও ইমারসিভ এন্টারটেইনমেন্ট মিউজিয়াম হিসেবে দাবি করছে। এই ভেবে যখন দু কদম যাবেন, ঠিক তখনই নিজেকে আবিষ্কার করলেন চাঁদের মাটিতে।
মূলত কয়েকজন তরুণ উদ্যোক্তার সমন্বিত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি অল্প সময়ের মধ্যেই রাজধানী ঢাকার বিনোদনপ্রেমীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। বিদেশ ভ্রমণের সময় থ্রিডি আর্ট গ্যালারি বা অপটিক্যাল ইলুশন মিউজিয়ামের অভিজ্ঞতা থেকেই তারা দেশে এমন একটি কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করেন। উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মাথায় ইতিমধ্যে ওয়াওজা রাজধানীবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এমন নানা উদ্যোগ এখন দেশে দেখা গেলেও এই তরুণদের মতে, ওয়াওজা সেসব থেকে আলাদা।
ওয়াওজার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হৃদয় চৌধুরী জানান, দুই থেকে তিন বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য এটি ডিজাইন করা হয়েছে। স্থানটিকে অপটিক্যাল ইলুশন মিউজিয়াম, পারস্পেকটিভ আর্ট এবং গেমিং জোন—এই কয়েকটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। ‘এক্সপেরিয়েন্স দ্য আনরিয়েল’ স্লোগান ধারণ করে চলা এই প্রতিষ্ঠানে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বিচিত্র সব আকর্ষণ।
এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘ভর্টেক্স টানেল’। পর্দাঘেরা অন্ধকার একটি সুড়ঙ্গে লাল-নীল আলোর খেলায় যখন কেউ পা রাখেন, তখন মনে হয় পায়ের নিচের মাটি নড়ছে এবং পুরো সুড়ঙ্গটি ঘুরছে। এ ছাড়াও আছে ‘শ্যাডো ড্যান্স’ জোন, যেখানে মাইকেল জ্যাকসন বা হাল্কের মতো পছন্দের ক্যারেক্টার বেছে নিয়ে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে নিজের অঙ্গভঙ্গি হুবহু অনুকরণ করানো যায়। ধরুন আপনি দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু আপনার পায়ের নিচের মাটি নিজ থেকেই সরে যাচ্ছে, মনে হতে পারে এ কী করে সম্ভব। আরেকটু সামনে গিয়ে দেখতে পেলেন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে হুবহু আরও কয়েকখানা আপনি। মনে হতেই পারে আপনি হয়তো স্বপ্ন দেখছেন, ঘুমটা বুঝি এখনই ভাঙল। ঘোরাঘুরি কিংবা ব্যবসার কাজে কোনো দেশ ভ্রমণে গেলে প্রথমেই যে কেউ সেখানকার দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে চান। দেওয়া হবে ৩০ সেকেন্ড সময়। মা–বাবা, ভাই-বোন কিংবা দম্পতি—ছবির জন্য সবার পছন্দ এই ঘর। প্রশ্ন আসতে পারে, মিরর মেইজ আর নতুন কী।
চাঁদে হাঁটার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার জন্য রয়েছে ‘টিল্ট রুম’। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অভিজ্ঞতাকে আরও প্রাণবন্ত করতে শিগগিরই সেখানে নভোচারীদের পোশাকের ব্যবস্থা রাখা হবে। পাশাপাশি দুই কোণে দাঁড়ালে একজনকে দৈত্যের মতো বড় আর অন্যজনকে ছোট দেখানোর মজার প্রযুক্তি নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘অ্যামস রুম’। রয়েছে ‘ক্যামোফ্লাজ রুম’, যেখানে বিশেষ কৌশলে শরীর অদৃশ্য করে শুধু মুখমণ্ডল প্রদর্শন করা সম্ভব। এছাড়া আয়নার কারসাজিতে নিজেকে বহুগুণে দেখার ব্যবস্থা তো আছেই। অপটিক্যাল ইলুশনকে কাজে লাগিয়ে ছোট-বড় সব বয়সীর জন্য সাজানো হয়েছে এই বিনোদনকেন্দ্র। কিছুটা বাঁকানো এই ঘরে অবিকল চাঁদে পা রাখার মতো অনুভূতি পাবেন। শুধু তাই নয়, অন্যদিকে তাকালে আয়নার জাদুতে আপনি পরিণত হবেন কয়েক খানায়। এগুলোর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা, সাহায্যের জন্য থাকছেন ওয়াওজার কর্মীরা।
ওয়াওজার ভেতরে নানা ধরনের থ্রিডি ও পারস্পেকটিভ ওয়াল আর্ট রয়েছে, যা দর্শকদের চোখের ধাঁধায় ফেলে দেয়। বিশেষ করে রঙিন শহরের দৃশ্যটি এমনভাবে তৈরি যে, দূর থেকে মনে হবে ছবিটি জীবন্ত এবং দর্শকদের সাথে হাঁটাচলা করছে। মিরর মেইজের ভেতর সূর্যের বাগান ও আলোর কারসাজি দর্শকদের অন্য এক জগতে নিয়ে যায়। এই থ্রিডি, পারস্পেকটিভ ওয়াল আর্টসের মধ্যে আপনাকে সবচেয়ে বেশি ধাঁধায় ফেলবে রঙিন এক শহরের দৃশ্য।
শুধুমাত্র দেখার বিনোদন নয়, এখানে রয়েছে নানা ইন্টারঅ্যাকটিভ গেমসের ব্যবস্থাও। লাল-নীল ব্লকের খেলা থেকে শুরু করে নাটাই দিয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর ভিডিও গেমস—সবই পাওয়া যাচ্ছে একই ছাদের নিচে। ইনডোর এবং আউটডোর গেমসের এক চমৎকার সমন্বয় ঘটেছে এখানে।
প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য ওয়াওজা খোলা থাকে। এখানে প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ৫০০ টাকা ফি দিতে হয়, যার সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। একটি স্লটভিত্তিক টিকিটের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা এক ঘণ্টা সময় পান, যেখানে ওই সময়ের মধ্যে সব ধরনের অ্যাক্টিভিটি ও গেমস যতবার ইচ্ছা উপভোগ করা যায়। ব্যক্তিগত সিঙ্গেল পাসের বাইরেও এখানে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ সুবিধা রয়েছে বলে জানা গেছে। ওয়াওজাতে একজনের ঢুকতে গুনতে হবে ৫০০ টাকা, সেই সঙ্গে আছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট।
সূত্র: প্রথম আলো

























