বিনা চাষে সবজি ফলিয়ে স্বাবলম্বী শারীরিক প্রতিবন্ধী আক্কাস খান : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
বিনা চাষে সবজি ফলিয়ে স্বাবলম্বী শারীরিক প্রতিবন্ধী আক্কাস খান : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে ভ্রাম‍্যমান আদালতে মাদকসেবী যুবককে ১মাসের কারাদন্ড দৌলতপুরে ভিক্ষুকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ছাগল বিতরণ সুন্দরগঞ্জে এসকেএস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ডিআরআর চ্যাম্পিয়নদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ  তাড়াশে দুঃস্থ ও অতিদরিদ্র ১০০ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ ভূরুঙ্গামারীতে আলিম পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলায় কেন্দ্র সচিব ও ট্যাগ অফিসার সাময়িক বরখাস্ত জাল নোট প্রতিরোধে ভূরুঙ্গামারীতে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত ১৩৪ কোটি টাকার উটপাখি গবেষণা প্রকল্পে আনা ২২টির মধ্যে ১৫টি জবাই টুথপেস্ট-সয়াবিন তেলের পর এবার বাজারের ৯৫ শতাংশ চিনিতেই মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক সুন্দরগঞ্জে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ যুবক গ্ৰেপ্তার হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ

বিনা চাষে সবজি ফলিয়ে স্বাবলম্বী শারীরিক প্রতিবন্ধী আক্কাস খান

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • প্রকাশিত : রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২
বিনা চাষে সবজি ফলিয়ে স্বাবলম্বী শারীরিক প্রতিবন্ধী আক্কাস খান

জমিতে চাষ না দিয়েই ফলানো হয়েছে মিষ্টি কুমড়া, খিরা, পালংশাক, লাউ, মুলা, শিমসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজি। এভাবে বিনা চাষে সবজি ফলিয়ে সফল হয়েছেন মাগুরা সদরের নালিয়ার ডাঙ্গি গ্রামের আউয়াল খানের ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী আক্কাস খান।
কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছেন আক্কাস। যোগ করেছেন এক নতুন মাত্র। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি জীবন সংগ্রামে হার মানেননি। মনের জোর ও ইচ্ছাশক্তি দিয়ে অভাবের সংসারে এনেছে সচ্ছলতা। আক্কাসের জন্য গোটা গ্রামের কৃষকদের জীবনে লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। পাল্টে গেছে ঐ গ্রামের চাষাবাদ ব্যবস্থা। আগে পাট কিংবা অন্য ফসল কাটার পর জমি পড়ে থাকত। অপেক্ষা করতে হতো মাটিতে জো আসার জন্য। এখন আক্কাসের পরামর্শে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। ঘুরে দাঁড়িয়েছেন গোটা গ্রামের কৃষকরা। তারা ফসল কাটার পর চাষ না দিয়েই প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ফলিয়েছেন।

নালিয়ার ডাঙ্গি গ্রামের এ পদ্ধতিতে চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত প্রায় ২৫০ জন কৃষক এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। এভাবে সবজি চাষা করে এখানকার কৃষকরা দেখেছেন সচ্ছলতার মুখ। পাশাপাশি তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন অর্থনৈতিকভাবে। কারণ আগের তুলনায় কমেছে চাষাবাদের খরচ। এ গ্রামের কৃষক মকিদুল খান, জিবলু মন্ডল, আইয়ুব আলী মন্ডল, নিশান গাজীসহ অনেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী আক্কাসের পরামর্শে বিনা চাষে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, খিরা, শিমসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন। পেয়েছেন সফলতা, অভাবের সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা।
আক্কাস খান বলেন, জমিতে কোনো চাষ ছাড়াই মিষ্টি কুমড়া, লাউ ও খিরা চাষ করেছি।
এ জন্য মাটিতে জো আসার অপেক্ষা করতে হয়নি। পাট কাটার পরপরই জমিতে চারা রোপণ করেছি। এভাবে চাষ করতে হলে আগে থেকেই বাড়িতে পলি ব্যাগের মধ্যে সবজির চারা তৈরি করতে হয়। এ পদ্ধতিতে সেচ, জৈব সার এবং অন্যান্য খরচসহ প্রতি বিঘা জমি চাষ করতে তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচ হয়। এতে প্রতি বিঘা জমি থেকে অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতে পারব। আমি এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করেছি।

একই গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী মন্ডল বলেন, আগে পাট কাটার পর জমি পড়ে থাকত। এখন আক্কাসের কথা মতো বিনা চাষে খিরা লাগিয়ে ভালো ফলন পেয়েছি। অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছি। আগামীতে এভাবে অন্যান্য সবজিও চাষ করব।
কৃষক আক্কাস খানের স্ত্রী পপি খাতুন বলেন, আমার স্বামী শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। তবুও স্বাভাবিক মানুষের মতো কাজ করার সক্ষমতা আছে তার। তিনি অনেক পরিশ্রম করেন। আক্কাস সবজি ও ফসলের রোগ বালাই এবং কীটনাশক মুক্ত সবজি চাষ করতে গ্রামের কৃষকদের পরামর্শ দেন। গ্রামের মানুষ তাকে অনেক ভালোবাসেন। গ্রামের মানুষ তাকে কৃষকের বন্ধু বলে ডাকেন।
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুফি মো. রফিকুজ্জামান জানান, আক্কাস খানের অনুপ্রেরণায় নালিয়ার ডাঙ্গি গ্রামে বিনা চাষে প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে শীতের সবজি ফলিয়েছেন কৃষকরা। এ পদ্ধতির সবজি চাষ অধিক লাভজনক। কারণ জমিতে চাষ দেওয়ার খরচ না থাকায় কৃষক বেশ লাভবান হন।

তিনি আরো জানান, কৃষি অফিস থেকে তাদেরকে উন্নতমানের বীজ, ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে কীটনাশক মুক্ত সবজি চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি অফিসের টিম নিয়মিত সবজি ও ফসলের মাঠগুলো পরিদর্শন করছে। কৃষকদের সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!