প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান করছেন আড়াই লাখের বেশি শিক্ষক
- আপডেট সময় : ১১:১৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) যখন শিক্ষকদের মর্যাদা ও পেশাগত মান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তখন দেশের শিক্ষা খাতের এক বড় সীমাবদ্ধতা সামনে এসেছে। বর্তমানে দেশে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদরাসা পর্যায়ে আড়াই লাখেরও বেশি শিক্ষক কোনো ধরনের মৌলিক বা ফাউন্ডেশন প্রশিক্ষণ ছাড়াই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছেন। বিশ্বব্যাপী শিক্ষকতায় প্রবেশের আগে পেশাগত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক হলেও বাংলাদেশে নিয়োগের পর প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়, যার ফলে অনেক শিক্ষক দীর্ঘ সময় প্রশিক্ষণ ছাড়াই কর্মজীবন অতিবাহিত করছেন।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৫ সালের তথ্যমতে, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৩ লাখ ৪ হাজার ৬৪৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। অর্থাৎ, প্রায় ৪০ দশমিক ৫২ শতাংশ বা ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষকই এখন পর্যন্ত প্রশিক্ষণের বাইরে রয়ে গেছেন। এই পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষকদের ৬২ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং নারী শিক্ষকদের ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রশিক্ষণ নিতে পেরেছেন। একই দশা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরেও, যেখানে এমপিওভুক্ত ১ লাখ ১০ হাজার ১৫১ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশেরই কোনো পেশাগত প্রশিক্ষণ নেই। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ১০ হাজার ১৫১ জন।
মাদরাসা শিক্ষার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৫ জন মাদরাসা শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ। শিক্ষকদের এমন পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এতে শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় শিক্ষণদক্ষতা প্রয়োগে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষক নিয়োগের আগেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে প্রার্থীরা নিজেরাই পেশাগতভাবে যোগ্য হয়ে ওঠার বিষয়ে আগ্রহী হবেন। সরকারকেও শুধু প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করাই নয়, বরং অর্জিত সেই জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, সেদিকে নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বর্তমানে ‘মাধ্যমিক শিক্ষায় শিখন ত্বরান্বিতকরণ’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৯০ জনকে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যদিও এগুলো নিয়মিত ফাউন্ডেশন কোর্স নয়। পাশাপাশি যেসব শিক্ষক এখনো প্রশিক্ষণ পাননি, তাদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে কি না, সেটিও সরকারকে নজরদারিতে রাখতে হবে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের এই বিশ্ব শিক্ষক দিবসটি ১৯৬৬ সালের আইএলও-ইউনেস্কো শিক্ষকদের মর্যাদা-সংক্রান্ত সুপারিশমালার ৬০ বছর পূর্তির মাইলফলক স্পর্শ করছে।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























