স্ত্রীকে মৃত্যুর ঘটনা: আদালতে পিতার বিরুদ্ধে কন্যা – এমজমিন
- আপডেট সময় : ১১:২০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টিভি প্রতিযোগিতা ‘আমেরিকান আইডল’-এর সাবেক প্রতিযোগী ক্যালেব ফ্লিনকে তার স্ত্রীকে হত্যার দায়ে প্যারোলের কোনো সুযোগ ছাড়াই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত সপ্তাহে ৪০ বছর বয়সী ফ্লিনকে দোষী সাব্যস্ত করার পর এই রায় ঘোষণা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি গুরুতর অপরাধ এবং প্রমাণ নষ্ট বা বিকৃত করার মতো আরও আটটি অভিযোগে তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে। ফ্লিন দাবি করেছিলেন যে, ওহাইওতে তার বাড়িতে কোনো এক অনুপ্রবেশকারী ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার স্ত্রী ৩৭ বছর বয়সী শিক্ষিকা অ্যাশলি ফ্লিনকে গুলি করে হত্যা করেছে। তিনি দাবি করেন, গুলির শব্দে তার ঘুম ভাঙে এবং গ্যারেজের দরজা খোলা দেখতে পান। তবে জুরি তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
সন্তানদের আদালতে সাক্ষ্য ও ক্ষোভ
সোমবার সাজা ঘোষণার শুনানিতে ক্যালেব ফ্লিনের দুই মেয়ের লেখা চিঠি আদালতে পড়ে শোনানো হয়। তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে দুই কন্যাই পিতার প্রতি গভীর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। একটি চিঠিতে মেয়ে লিখেছে, ‘প্রিয় বাবা, আমি জানি না কোথা থেকে শুরু করব। তুমি কীভাবে এমন কাজ করতে পারলে? মা ছিলেন নিখুঁত মানুষ, এরপরও তুমি আমার জীবনে থাকা একমাত্র মাকে হত্যা করলে।’ অন্য মেয়েটি চিঠিতে তাকে বাবা হিসেবে সম্বোধন না করে সরাসরি ‘ক্যালেব’ বলে সম্বোধন করে এবং অপরাধ স্বীকার করে পরিণতি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানায়। মেয়েটি আরও লিখেছে, ‘আমি যেন বোকা ছিলাম, কারণ আমি বিশ্বাস করেছিলাম তোমাকে ভরসা করা যায়।’ সন্তানদের চিঠি পড়ার সময় ফ্লিন কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজেও বক্তব্য প্রদানকালে পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইলেও, তিনি আবারও দাবি করেন যে তিনি স্ত্রীকে হত্যা করেননি। বিচারক জেনিন প্র্যাট ফ্লিনকে জনসাধারণের জন্য ‘চরম ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে এই রায় প্রদান করেন। এরপর বাবাকে অনুরোধ করেছে, ‘তুমি কী করেছ, সবাইকে বলো এবং তোমার পরিণতি মেনে নাও। এতে তিনি পরিবারের প্রতি ভালোবাসার কথা বলেন এবং নিজের নেয়া কিছু ‘সিদ্ধান্তের’ জন্য ক্ষমা চান। তিনি বলেন, আমাদের বিয়ের দিন আমি অ্যাশলিকে কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমি সেই প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি।
প্রমাণ হিসেবে এআই গান ও এক লাখ টেক্সট বার্তা
হত্যা মামলার বিচারে প্রায় আট দিন ধরে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউটররা জানান, ফ্লিন তার সাবেক প্রেমিকা অ্যালেইগা বটনারকে এক লাখের বেশি টেক্সট বার্তা পাঠিয়েছিলেন এবং তার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গানও তৈরি করেছিলেন। আদালতে বটনার তাদের কথোপকথনের কয়েকটি বার্তা পড়ে শোনান। এর একটিতে ফ্লিন লিখেছিলেন, ‘গত রাতে ভোর ৪টা পর্যন্ত কাঁদতে কাঁদতে জেগে ছিলাম, আক্ষরিক অর্থেই কীভাবে তাকে হত্যা করা যায় এবং জেলে না যেতে হয়, তা ভাবছিলাম।’ বটনার আদালতে তাদের প্রায় ১ লাখ টেক্সট বার্তার কয়েকটি পড়ে শোনান।
প্রযুক্তিগত তথ্য ও তদন্তের ফলাফল
বিচারে উপস্থাপিত প্রমাণের মধ্যে পুলিশের বডি ক্যামেরার ফুটেজ এবং হত্যাকাণ্ডের সময়ের আশপাশে ফ্লিনের আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের কার্যক্রমের তথ্য ছিল। ওই সময় ফ্লিন ঘুমিয়ে ছিলেন বলে দাবি করলেও, ডিজিটাল ডেটা তার দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। প্রসিকিউশন কয়েক ডজন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে। এদিকে ঘটনার সময় ৯ ও ১১ বছর বয়সী দুই সন্তান বাড়িতেই ঘুমিয়ে ছিল। অ্যাশলির বোন কায়লা কেইট পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে বিবৃতি পাঠ করেন। ফ্লিন টিপ সিটির তাদের বাড়িটিকে এমনভাবে সাজিয়েছিলেন, যাতে মনে হয় বাইরে থেকে কেউ গ্যারেজ দিয়ে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। তবে সব জল্পনা ও জুরির পর্যালোচনার পর শেষ পর্যন্ত তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























