ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্যটকে ঠাসা বান্দরবান, মহামারির পর রেকর্ড বুকিং

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দীর্ঘ পাঁচ দিনের ছুটি ঘিরে পাহাড়ের পর্যটন শহর বান্দরবানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোর প্রতিটি কক্ষ আগে থেকেই বুকিং হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, করোনা মহামারির পর এই প্রথম বান্দরবানের আবাসন ব্যবস্থা শতভাগ পূর্ণ হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই পর্যটন স্পটগুলোতে মানুষের ব্যাপক আনাগোনা চোখে পড়েছে। সকাল ১০টার দিকে শহরের নীলাচল ও মেঘলা পর্যটনকেন্দ্র এবং চাঁদের গাড়ির স্ট্যান্ডে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও রংপুর থেকে আসা পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। যদিও সাধারণত বিকেলের দিকে এসব স্পটে ভিড় বাড়ে, এবার সকাল থেকেই পর্যটকরা বেরিয়ে পড়েছেন। যারা আগের দিন পৌঁছানোর পর হোটেলে রাত কাটিয়েছেন, তাদের অনেকেই সকাল থেকে পাহাড়ের বিভিন্ন গন্তব্যে ঘুরতে শুরু করেন।

চাঁদের গাড়ির স্ট্যান্ডে তীব্র যানজট ও গাড়ির জন্য পর্যটকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পুরান ঢাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন জানান, ৪৫ জনের দল নিয়ে তিনি পাহাড় ও সমুদ্রের সৌন্দর্য দেখতে এসেছেন। তারা নীলগিরি, চিম্বুক ও নীলাচল ঘুরে আগামীকাল কক্সবাজার যাবেন। গাজীপুরের রিফাত হোসেন নীলাচলে জানান, মেঘলা, শৈলপ্রপাত ও চিম্বুক ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে তারা এখানে এসেছেন। অন্যদিকে, রংপুরের একটি ১৪ জনের দল বগালেক ও দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কেওক্রাডং দেখতে বান্দরবান বেছে নিয়েছে।

চাঁদের গাড়ির লাইনম্যান কামাল উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি পর্যটকবাহী গাড়ি নীলগিরি, চিম্বুক, দেবতাখুম, থানচি ও রুমার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৪২০টি জিপ ও মাইক্রোবাস পর্যটন সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। তবে হোটেলের সব রুম বুকিং থাকায় নতুন আসা পর্যটকদের গাড়ি সংকট সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। মেঘলা পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক মো. শোয়েব জানান, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোটেলের সব কক্ষ বুকিং। একইভাবে হোটেল দি মোরে-এর ব্যবস্থাপক মো. জুবায়ের জানান, শনিবার পর্যন্ত তাদের কক্ষ খালি নেই, তবে ২৫ ও ২৬ অক্টোবর কিছুটা চাপ কমতে পারে। এরপর ২৭ অক্টোবর থেকে মাসের শেষ পর্যন্ত আবারো সব কক্ষ পূর্ণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনো প্রতিদিন কক্ষের জন্য পর্যটকেরা যোগাযোগ করছেন, কিন্তু তাঁদের কক্ষ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

জেলা হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন জানান, করোনা পরবর্তী সময়ে এবারই প্রথম জেলায় এমন শতভাগ বুকিংয়ের রেকর্ড হয়েছে। জেলা সদরসহ রুমা, থানচি, আলীকদম ও লামা উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৫০টি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে, যেখানে ১৩ থেকে ১৪ হাজার পর্যটকের রাত যাপনের সক্ষমতা আছে। তবে অনেক পর্যটককে আবাসন দেওয়া সম্ভব না হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) গোপা বিশ্বাস জানান, দুর্গাপূজার ঠিক পরেই বৌদ্ধদের প্রবারণা উৎসব শুরু হওয়ায় পর্যটন খাতের এই প্রাণচাঞ্চল্য বেড়েছে। আগামী ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর মারমা বৌদ্ধদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ বা প্রবারণা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এই উৎসব ও পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটির কারণে মাসের শেষ পর্যন্ত বান্দরবানে পর্যটকদের সরব উপস্থিতি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পর্যটকে ঠাসা বান্দরবান, মহামারির পর রেকর্ড বুকিং

আপডেট সময় : ০৬:২৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দীর্ঘ পাঁচ দিনের ছুটি ঘিরে পাহাড়ের পর্যটন শহর বান্দরবানে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোর প্রতিটি কক্ষ আগে থেকেই বুকিং হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পর্যটন ব্যবসায়ীদের মতে, করোনা মহামারির পর এই প্রথম বান্দরবানের আবাসন ব্যবস্থা শতভাগ পূর্ণ হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই পর্যটন স্পটগুলোতে মানুষের ব্যাপক আনাগোনা চোখে পড়েছে। সকাল ১০টার দিকে শহরের নীলাচল ও মেঘলা পর্যটনকেন্দ্র এবং চাঁদের গাড়ির স্ট্যান্ডে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও রংপুর থেকে আসা পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়। যদিও সাধারণত বিকেলের দিকে এসব স্পটে ভিড় বাড়ে, এবার সকাল থেকেই পর্যটকরা বেরিয়ে পড়েছেন। যারা আগের দিন পৌঁছানোর পর হোটেলে রাত কাটিয়েছেন, তাদের অনেকেই সকাল থেকে পাহাড়ের বিভিন্ন গন্তব্যে ঘুরতে শুরু করেন।

চাঁদের গাড়ির স্ট্যান্ডে তীব্র যানজট ও গাড়ির জন্য পর্যটকদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পুরান ঢাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন জানান, ৪৫ জনের দল নিয়ে তিনি পাহাড় ও সমুদ্রের সৌন্দর্য দেখতে এসেছেন। তারা নীলগিরি, চিম্বুক ও নীলাচল ঘুরে আগামীকাল কক্সবাজার যাবেন। গাজীপুরের রিফাত হোসেন নীলাচলে জানান, মেঘলা, শৈলপ্রপাত ও চিম্বুক ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে তারা এখানে এসেছেন। অন্যদিকে, রংপুরের একটি ১৪ জনের দল বগালেক ও দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কেওক্রাডং দেখতে বান্দরবান বেছে নিয়েছে।

চাঁদের গাড়ির লাইনম্যান কামাল উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি পর্যটকবাহী গাড়ি নীলগিরি, চিম্বুক, দেবতাখুম, থানচি ও রুমার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৪২০টি জিপ ও মাইক্রোবাস পর্যটন সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। তবে হোটেলের সব রুম বুকিং থাকায় নতুন আসা পর্যটকদের গাড়ি সংকট সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। মেঘলা পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক মো. শোয়েব জানান, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মোটেলের সব কক্ষ বুকিং। একইভাবে হোটেল দি মোরে-এর ব্যবস্থাপক মো. জুবায়ের জানান, শনিবার পর্যন্ত তাদের কক্ষ খালি নেই, তবে ২৫ ও ২৬ অক্টোবর কিছুটা চাপ কমতে পারে। এরপর ২৭ অক্টোবর থেকে মাসের শেষ পর্যন্ত আবারো সব কক্ষ পূর্ণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনো প্রতিদিন কক্ষের জন্য পর্যটকেরা যোগাযোগ করছেন, কিন্তু তাঁদের কক্ষ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

জেলা হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন জানান, করোনা পরবর্তী সময়ে এবারই প্রথম জেলায় এমন শতভাগ বুকিংয়ের রেকর্ড হয়েছে। জেলা সদরসহ রুমা, থানচি, আলীকদম ও লামা উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৫০টি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে, যেখানে ১৩ থেকে ১৪ হাজার পর্যটকের রাত যাপনের সক্ষমতা আছে। তবে অনেক পর্যটককে আবাসন দেওয়া সম্ভব না হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) গোপা বিশ্বাস জানান, দুর্গাপূজার ঠিক পরেই বৌদ্ধদের প্রবারণা উৎসব শুরু হওয়ায় পর্যটন খাতের এই প্রাণচাঞ্চল্য বেড়েছে। আগামী ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর মারমা বৌদ্ধদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’ বা প্রবারণা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এই উৎসব ও পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটির কারণে মাসের শেষ পর্যন্ত বান্দরবানে পর্যটকদের সরব উপস্থিতি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box