চৌহালীতে ভূমি সচেতনতার দীপ্তিময় আয়োজন।
ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ডিজিটাল সেবার বিস্তারের প্রত্যয়ে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায় রবিবার (২৫মে) “ভূমি মেলা ২০২৫” উপলক্ষে আয়োজিত হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা।
চৌহালী উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়, ভূমি সংস্কার বোর্ড ও ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের সহায়তায় এ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। মেলার মূল লক্ষ্য ছিল ভূমি সংক্রান্ত ডিজিটাল সেবা সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা এবং দালালমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর সেবার প্রতি আস্থা সৃষ্টি।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। এতে অংশ নেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা ভূমি সেবা সংক্রান্ত বার্তা সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, “ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান এবং জমির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও অনলাইনভিত্তিক সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই মেলার মাধ্যমে জনগণ সরাসরি সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতা লাভ করছে, ফলে দালাল নির্ভরতা হ্রাস পাবে এবং প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়বে।”
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহআলম, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ সিফাত, ইউআরসি অফিসার চঞ্চল কুমার মিস্ত্রি, তথ্য আপা প্রকল্পের প্রতিনিধি তামান্না হক, ক্ষেত্র সহকারী শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, “ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির সংযোজন এবং সেবার সহজলভ্যতা দেশের উন্নয়ন ও জনগণের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
মেলায় ভূমি অফিসের পক্ষ থেকে একটি তথ্য ও সেবা স্টল স্থাপন করা হয়। আগত দর্শনার্থীরা এখানে সরাসরি ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করেন এবং অনলাইন সেবাগুলোর বাস্তব ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। প্রদর্শনী কক্ষেও ভূমি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়, যা দর্শনার্থীদের আগ্রহ ও উৎসাহ জাগিয়ে তোলে।
সমগ্র অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয় জনগণ এই আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ শুধু জনসচেতনতা বাড়ায় না, বরং প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ ও দৃঢ় করে তোলে।”
অনেকেই ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বড় পরিসরে ও নিয়মিতভাবে হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
Leave a Reply