ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাণীশংকৈলে বীরাঙ্গনা মোজেফা খাতুনের চিরবিদায়; রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে দাফন সম্পন্ন  রাজশাহী-চাঁপাই মহাসড়কে বেপরোয়া ডাম্প ট্রাকের দাপট, জনজীবনে আতঙ্ক যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানি সারোয়ার বহিষ্কার ৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ: লিটন-মিরাজের প্রতিরোধ ক্যানসার জয় করে ফিরেও ব্যর্থ ম্যাডিনসন, নির্বাচকদের দুষছেন সবাই নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায় প্রতিরোধে মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ বাংলাদেশ যমুনা গ্রুপে বিশাল নিয়োগ, কাজ করার সুযোগ গাজীপুরে কাতারে ড্রাইভিং স্কুলগুলোর জন্য নতুন কঠোর নিয়ম জারি রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা রিকশাচালক সেজেছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা: চিফ হুইপ

বর্ষার রূপের ছটায় সেজেছে রাঙ্গামাটির সুবলং ঝরনা, পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

সৃষ্টি বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বর্ষার রূপের ছটায় সেজেছে রাঙ্গামাটির সুবলং ঝরনা, পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

 

শ্রাবণের বর্ষণমুখর দিনে রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার শিলার ডাক এলাকায় অবস্থিত সুবলং ঝরনাটি নতুন রূপে সেজেছে। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা এই ঝরনাটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণের নাম। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক এর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন।

কয়েক দশক ধরে পরিচিত এই ঝরনাটি বর্ষাকালে তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পায়। এ সময় প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে জলধারা নিচে আছড়ে পড়ে, যা এক অপূর্ব সুরের মূর্ছনা তৈরি করে। পর্যটকদের সুবিধার্থে বরকল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝরনা এলাকায় প্রয়োজনীয় কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি সদর থেকে সুবলংয়ের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। কাপ্তাই হ্রদের শান্ত জলরাশি পাড়ি দিয়ে নৌকায় করে সেখানে পৌঁছাতে হয়, যা পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দেয়।

 

পড়ুন>>যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগে হিমশিম খাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ইঞ্জিনচালিত বোটে পর্যটকদের আনাগোনা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ আবার ড্রোন দিয়ে ঝরনার দৃশ্য ধারণ করছেন। পর্যটকদের মতে, এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। তাই জায়গাটি পরিষ্কার রাখা এবং গাছপালা নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক মিলি জাহান জানান, বাস্তবে ঝরনার সৌন্দর্য টিভি বা ফেসবুকের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি। তিনি পাহাড় ও ঝরনার এই মেলবন্ধনকে ছবির ফ্রেমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। রাঙ্গামাটি শহর থেকে আসা মৌসুমী বণিক জানান, প্রকৃতির এমন রূপ দেখে তিনি মুগ্ধ। এছাড়া আব্দুল সায়েম নামে আরেক পর্যটক জানান, এই মনোরম পরিবেশ মানুষের মনের ক্লান্তি দূর করে প্রকৃতির সঙ্গে আত্মিক সংযোগ তৈরি করে দেয়।

 

পড়ুন>>সৈয়দপুরে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ঝরনা দেখা শেষে পর্যটকরা হ্রদের তীরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নিতে পারেন। যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে সুবলং ঝরনা হতে পারে এক আদর্শ গন্তব্য। উল্লেখ্য, বরকল উপজেলায় সুবলং ছাড়াও আরও আটটি ছোট-বড় ঝরনা রয়েছে। পর্যটকরা রাঙ্গামাটি শহরের পর্যটন, রির্জাভবাজার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ফিসারী ঘাট থেকে নৌকা বা স্পিডবোট ভাড়া করে সুবলং ঝরনায় যাতায়াত করতে পারেন।

পর্যটকরা জানান, এই সুন্দর জায়গাগুলো টিকে থাকুক।

এই ঝরনার নির্মল জলধারা পর্যটকদের হৃদয়ে এক ভিন্ন অনুভূতির কাঁপন তোলে।

বোটযোগে কাপ্তাই হ্রদ মাড়িয়ে তবেই সেই কাঙ্খিত সুবলং ঝরনা পৌছাতে হবে। যাত্রাযোগে হ্রদের অপার সৌন্দর্য শান্তির পরশ বিলিয়ে দিবে পর্যটকদের।

কেউ পরিবার নিয়ে এসেছেন, কেউ বন্ধুবান্ধব মিলে। কারো হাতে সেলফি স্টিক, কেউ ড্রোন উড়াচ্ছেন, কেউ আবার পাহাড়ি খাদ্য আস্বাদন করছেন ঝরনার পাশে বসে।ঝরনার পানি যেভাবে নেমে আসছে, আর পাশের সবুজ পাহাড় মনে হলো যেন ছবির ফ্রেমে বন্দি হয়ে গেছি। ঝরনার অঝর ধারা দেখে মনটা জুড়িয়ে গেছে।

প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্য এতদিন কেন দেখি নাই নিজেকেই প্রশ্ন করেছি।

বন্ধুদের বলবো জীবনে একবার হলেও এখানে ঘুরে আসা উচিত। ঝরনা দেখে ফেরার পথে ভুঁড়ি ভোজনের কাজটি শেষ করতে পারেন হ্রদের কিনারায় গড়ে উঠা পাহাড়ি সুস্বাদু খাবারের সমারোহ যেকোনো রেঁস্তোরায়। যে ঝরনার সৌন্দর্য দেখে পর্যটকদের যেমন চোখ জুড়াবে তেমনি অবস্বাদ দূর করে দিবে এক নিমিষে। ডে/বা

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বর্ষার রূপের ছটায় সেজেছে রাঙ্গামাটির সুবলং ঝরনা, পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

আপডেট সময় : ০৬:০৯:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

 

বর্ষার রূপের ছটায় সেজেছে রাঙ্গামাটির সুবলং ঝরনা, পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

 

শ্রাবণের বর্ষণমুখর দিনে রাঙ্গামাটির বরকল উপজেলার শিলার ডাক এলাকায় অবস্থিত সুবলং ঝরনাটি নতুন রূপে সেজেছে। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা এই ঝরনাটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণের নাম। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক এর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন।

কয়েক দশক ধরে পরিচিত এই ঝরনাটি বর্ষাকালে তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পায়। এ সময় প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে জলধারা নিচে আছড়ে পড়ে, যা এক অপূর্ব সুরের মূর্ছনা তৈরি করে। পর্যটকদের সুবিধার্থে বরকল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝরনা এলাকায় প্রয়োজনীয় কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। রাঙ্গামাটি সদর থেকে সুবলংয়ের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। কাপ্তাই হ্রদের শান্ত জলরাশি পাড়ি দিয়ে নৌকায় করে সেখানে পৌঁছাতে হয়, যা পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দেয়।

 

পড়ুন>>যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগে হিমশিম খাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ইঞ্জিনচালিত বোটে পর্যটকদের আনাগোনা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। কেউ সেলফি তুলছেন, কেউ আবার ড্রোন দিয়ে ঝরনার দৃশ্য ধারণ করছেন। পর্যটকদের মতে, এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা সবার নৈতিক দায়িত্ব। তাই জায়গাটি পরিষ্কার রাখা এবং গাছপালা নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক মিলি জাহান জানান, বাস্তবে ঝরনার সৌন্দর্য টিভি বা ফেসবুকের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি। তিনি পাহাড় ও ঝরনার এই মেলবন্ধনকে ছবির ফ্রেমের সঙ্গে তুলনা করেছেন। রাঙ্গামাটি শহর থেকে আসা মৌসুমী বণিক জানান, প্রকৃতির এমন রূপ দেখে তিনি মুগ্ধ। এছাড়া আব্দুল সায়েম নামে আরেক পর্যটক জানান, এই মনোরম পরিবেশ মানুষের মনের ক্লান্তি দূর করে প্রকৃতির সঙ্গে আত্মিক সংযোগ তৈরি করে দেয়।

 

পড়ুন>>সৈয়দপুরে ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ঝরনা দেখা শেষে পর্যটকরা হ্রদের তীরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নিতে পারেন। যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে সুবলং ঝরনা হতে পারে এক আদর্শ গন্তব্য। উল্লেখ্য, বরকল উপজেলায় সুবলং ছাড়াও আরও আটটি ছোট-বড় ঝরনা রয়েছে। পর্যটকরা রাঙ্গামাটি শহরের পর্যটন, রির্জাভবাজার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ফিসারী ঘাট থেকে নৌকা বা স্পিডবোট ভাড়া করে সুবলং ঝরনায় যাতায়াত করতে পারেন।

পর্যটকরা জানান, এই সুন্দর জায়গাগুলো টিকে থাকুক।

এই ঝরনার নির্মল জলধারা পর্যটকদের হৃদয়ে এক ভিন্ন অনুভূতির কাঁপন তোলে।

বোটযোগে কাপ্তাই হ্রদ মাড়িয়ে তবেই সেই কাঙ্খিত সুবলং ঝরনা পৌছাতে হবে। যাত্রাযোগে হ্রদের অপার সৌন্দর্য শান্তির পরশ বিলিয়ে দিবে পর্যটকদের।

কেউ পরিবার নিয়ে এসেছেন, কেউ বন্ধুবান্ধব মিলে। কারো হাতে সেলফি স্টিক, কেউ ড্রোন উড়াচ্ছেন, কেউ আবার পাহাড়ি খাদ্য আস্বাদন করছেন ঝরনার পাশে বসে।ঝরনার পানি যেভাবে নেমে আসছে, আর পাশের সবুজ পাহাড় মনে হলো যেন ছবির ফ্রেমে বন্দি হয়ে গেছি। ঝরনার অঝর ধারা দেখে মনটা জুড়িয়ে গেছে।

প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্য এতদিন কেন দেখি নাই নিজেকেই প্রশ্ন করেছি।

বন্ধুদের বলবো জীবনে একবার হলেও এখানে ঘুরে আসা উচিত। ঝরনা দেখে ফেরার পথে ভুঁড়ি ভোজনের কাজটি শেষ করতে পারেন হ্রদের কিনারায় গড়ে উঠা পাহাড়ি সুস্বাদু খাবারের সমারোহ যেকোনো রেঁস্তোরায়। যে ঝরনার সৌন্দর্য দেখে পর্যটকদের যেমন চোখ জুড়াবে তেমনি অবস্বাদ দূর করে দিবে এক নিমিষে। ডে/বা

 

 

 

Facebook Comments Box