কাউনিয়ায় তিস্তার বালুচরে বেড়েছে বাদাম চাষ: নদীর পানি বৃদ্ধি নিয়ে আতঙ্কিত চাষীরা
- আপডেট সময় : ১১:৪৩:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫ ১৩৭ বার পড়া হয়েছে
কাউনিয়ায় তিস্তার বালুচরে বেড়েছে বাদাম চাষ: নদীর পানি বৃদ্ধি নিয়ে আতঙ্কিত চাষীরা
তিস্তার বালুচরে দিগন্ত মাঠ জুড়ে বাদাম খেত। যে দিকে চোখ যায় সে দিকেই বাদামের সবুজ খেত। নদীর একুল ভাঙ্গে ওকুল গড়ে এ ভাঙ্গা-গড়ার খেলায় প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে টিকে থাকা মানুষগুলো চরে বাদাম চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। গত মৌসুমের তুলনায় এছর কাউনিয়ায় বাদাম চাষ বেড়েছে।
প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে চলতি খরিপ-১ মৌসুমে কাউনিয়ায় বাদামের বাম্পার ফলন ও ভাল দাম পাওয়ায় আশা করছেন কৃষকের। কাউনিয়ার তিস্তার চরের কৃষকরা বাদামের সবুজপাতা হলুদ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বাদাম গাছের পাতা হলুদ হলেই বাদাম তোলার উপযোগী হয়। তখন কৃষক ও কৃষাণীদের দম ফেলার ফুসরত থাকবেনা ।
কিন্ত রাক্ষসী খরস্রোতা তিস্তার পানি যদি হঠাৎ বৃদ্ধি পায় তাহলে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে এ চিন্তায় আতঙ্কিত রয়েছে চাষীরা।
সরেজমিনে তিস্তা নদী বেষ্টিতে চরাঞ্চলের চর ঢুসমারা, চর গদাই, চর পাঞ্জরভাঙ্গা, চর নিজপাড়া, আরাজি হরিশ্বর, গুপিডাঙ্গা, প্রাননাথ চর, চর নাজিরদহ, চর পল্লীমারী, চর গনাই, হরিচরন শর্মা, চর হয়বৎখাঁ, চর বিশ্বনাথসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে চরের দিগন্ত মাঠ জুড়ে বাদাম আর বাদামের ক্ষেত। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি খরিপ-১ মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলন ও ভাল দাম পাওয়ায় আশা করছেন কৃষকের।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৭০ হেক্টর জমিতে, আর বাদাম চাষ হয়েছে ৮৭৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ১৮৭১ মেঃটন।
পড়ুন>> তাহিরপুরে রাতে বাড়ি ফেরার পথে পল্লী চিকিৎসককে কুপিয়ে জখম; হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন এলাকাবাসীর
তিস্তার চরে প্রায় ৫ কোটি টাকার বাদাম উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন চাষীরা। চরে বেশির ভাগ জমিতে বিনা-৪ বারি ৬ বারি -৮ বারি -৯ জাতের বাদাম চাষ হয়েছে। চরগনাই গ্রামের বাদাম চাষি দুদু মিয়া জানান চলতি মৌসুমে ৫০ দোন (২৪শতকে ১দোন) জমিতে বাদাম চাষ করেছেন, বর্তমানে বাদামের অবস্থা ভাল আছে, প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি।
বিশ্বনাথ গ্রামের বাদাম চাষী আঃ বাকী, গোলাম মোস্তফা, বছির উদ্দিন, নিজপাড়া গ্রামের খয়বর, মোফাজ্জল, পাঞ্জর ভাঙ্গা গ্রামের পুস্পেন্দ্র, সুবোধ ও দিনেশ চন্দ্রের সাথে কথা বলে জানাগেছে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাদাম চাষ করেছেন। তাদের আশা যদি বৃষ্টি ও নদীর পানিতে বাদাম তলিয়ে না যায় তাহলে লাভের মুখ দেখবেন।
বর্তমানে বাদাম ৪০০০ থেকে ৪২০০ টাকা মণ দরে বিক্রয় হচ্ছে। সকল খরচ বাদ দিয়ে এ মৌসুমে বাদামে লাভের আশা করছেন তারা। যদি তিস্তা নদীতে হঠাৎ পানি বাড়ে তাহলে তাদের স্বপ্ন ভেসে যেতে পারে। ঢুষমারা চরের বাদাম চাষী তাজুল ইসলাম জানান ১৪ দোন জমিতে বাদাম চাষ করেছে, যদি নদীতে হঠাৎ পানি না হয় তবে ভাল ফলন ও দাম পাওয়ার আশা করছেন।
গদাই গ্রামের বাদাম চাষি আলামিন জানান, বাদামের ভাল বীজের সংকট, তাই প্রতিবছর কৃষিবিভাগ যদি ভালমানের বীজের ব্যাবস্থা করে তবে কাউনিয়ায় আরও বেশী পরিমান জমিতে বাদাম চাষ হবে।
টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম জানান, ইউনিয়নটি তিস্তা নদী বেষ্টিত ফলে বেশিরভাগ এলাকা নদীতে ভেঙে গেছে। সেই নদীতে চর জেগে উঠায় নদী পাড়ের মানুষ গুলো ব্যাপক হারে বাদাম চাষ করছেন। চাষিদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হলে তারা বাদাম চাষে আরও আগ্রহী হবেন।
কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া আকতার জানান, চলতি খরিপ-১ মৌসুমে আবহাওয়া ভাল থাকায় বাদামের বাম্পার ফলনের আশা করছি। গত বছর বাদামের ভাল দাম পাওয়া এবার কৃষকরা লাভবান হওয়ার আশায় বেশি পরিমান জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। কৃষি বিভাগ বাদাম চাষিদের প্রতিবছর বিনামূল্যে বীজ ও পরামর্শে দিয়ে সহায়তা করে আসছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























