ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমপি গাজী নজরুলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সংসদ সদস্যের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমান। নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে এই মামলাটি করেছেন।

রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ব্লকের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মরদেহটি পুলিশ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তা মর্গে পাঠানো হয়। আলামত সংগ্রহের জন্য পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি ও পিবিআইয়ের ফরেনসিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করেছে। তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত জুন মাসে ইসলামী শরিয়াহর রীতি মেনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তিনি স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। মরিয়মের বাবার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো, যা মরিয়ম বিভিন্ন সময় ফোনে পরিবারকে জানিয়েছিলেন। এছাড়া মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের মাধ্যমেই এই বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছিল বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে এজাহারে বলা হয়, রোববার বিকেলে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। খবর পেয়ে মরিয়মের স্বজনরা সেখানে গিয়ে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। সে সময় বিছানায় একটি হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া গেছে, যেখানে বিশ্বাসের পরাজয় এবং মানসিকভাবে হেরে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই চিরকুটটি সত্যিই মরিয়মের হাতে লেখা কি না, তা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত চলছে।

মামলা হওয়ার আগে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়েছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্ররোচনার মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে ‘মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই’ এবং ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম, তার সঙ্গে জিততে পারিনি, হেরে গেলাম ময়দানে’—এ ধরনের কথা লেখা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে চিঠিটি মরিয়মের নিজের লেখা কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়; বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এমপি গাজী নজরুলসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৩:০৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সংসদ সদস্যের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমান। নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে এই মামলাটি করেছেন।

রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ব্লকের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মরদেহটি পুলিশ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তা মর্গে পাঠানো হয়। আলামত সংগ্রহের জন্য পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি ও পিবিআইয়ের ফরেনসিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করেছে। তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত জুন মাসে ইসলামী শরিয়াহর রীতি মেনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তিনি স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। মরিয়মের বাবার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো, যা মরিয়ম বিভিন্ন সময় ফোনে পরিবারকে জানিয়েছিলেন। এছাড়া মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের মাধ্যমেই এই বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছিল বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে এজাহারে বলা হয়, রোববার বিকেলে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। খবর পেয়ে মরিয়মের স্বজনরা সেখানে গিয়ে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। সে সময় বিছানায় একটি হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া গেছে, যেখানে বিশ্বাসের পরাজয় এবং মানসিকভাবে হেরে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই চিরকুটটি সত্যিই মরিয়মের হাতে লেখা কি না, তা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত চলছে।

মামলা হওয়ার আগে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়েছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্ররোচনার মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে ‘মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই’ এবং ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম, তার সঙ্গে জিততে পারিনি, হেরে গেলাম ময়দানে’—এ ধরনের কথা লেখা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে চিঠিটি মরিয়মের নিজের লেখা কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়; বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box