নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়ছে দৌলতপুরের বানভাসি মানুষ
- আপডেট সময় : ০৯:৪২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়ছে দৌলতপুরের বানভাসি মানুষ
নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়ছে বানভাসি মানুষ, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের চরাঞ্চলে পদ্মা নদী ফুঁসে উঠে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী।
পদ্মা নদীতে টানা পানি বৃদ্ধিতে চরম রূপ নিয়েছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি। হু-হু করে বানের পানি বাড়তে থাকায় এবং বসতবাড়িতে কোমর সমান পানি ওঠায় ভিটেমাটি ছেড়ে পরিবার-পরিজন ও গৃহপালিত পশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র ছুটছেন হাজারো মানুষ। উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
পড়ুন>>সুন্দরগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তশিলদারের অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হাইড্রোলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৩টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.০৬ মিটার (বিপৎসীমা ১৩.৮০ মিটার)। গত ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়ে বর্তমানে বিপৎসীমার মাত্র ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাউবোর হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানান, “উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে পদ্মায় দ্রুত পানি বেড়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে। এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”
বন্যার পানিতে তোড়জোড়ে নিম্নাঞ্চলের যোগাযোগ সড়কগুলো ভেঙে বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। রামকৃষ্ণপুরের ৬৫ বছর বয়সী বাসিন্দা আবু বিশ্বাস আকুতি জানিয়ে বলেন, “ঘরের ভেতরে কোমর পর্যন্ত পানি। পরিবারের অন্যরা উঁচু জায়গায় গেলেও আমি মাচান বেঁধে কোনোমতে টিকে আছি।”
পড়ুন>>রাণীশংকৈলে এসিল্যান্ডের বদলি ঠেকাতে রাজপথে জনতা
চর সোনাতলা এলাকার জুলেখা খাতুন বলেন, “রাস্তা ভেঙে বন্যার পানি বাড়ির মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রান্নাবাড়া বন্ধ, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খাওয়া-দাওয়া ও থাকা নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছি।”
একই এলাকার শ্যামল মন্ডল জানান, “আমার ৫ বিঘা জমির মরিচ ক্ষেত পানির নিচে ডুবে গেছে। পরিবারের বয়স্করা ঘরে বন্দী। দিনে একবার রান্না করে তিনবার খেতে হচ্ছে। তার ওপর এখন বড় ভয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সাপের উপদ্রব।”
কৃষি ও গবাদিপশু পালন চরাঞ্চলের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস হলেও বন্যার কারণে তা চরম ক্ষতির মুখে। আশ্রয়ের জায়গা না থাকায় ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকটে পড়ে অনেকে লোকসান গুনে কম দামে গবাদিপশু বিক্রি করে অন্যত্র সরে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন>>পুলিশের পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি
নিজের অবর্ণনীয় কষ্টের কথা ব্যক্ত করে বাহেরমাদিয়া চর গ্রামের মহিমা বেগম বলেন, “চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। গরুর থাকার জায়গা নেই, খাওয়ার ঘাসটুকুও পানিতে তলিয়ে গেছে। আশ্রয় খুঁজতে গিয়ে উপায় না দেখে বাধ্য হয়ে পোষা দুটো গরু অনেক কম দামে বিক্রি করে দিতে হলো।”
পানি উঠে যাওয়ার কারণে চরাঞ্চলের ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণী কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। খারিজাথাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু সুফিয়ান বলেন, “শ্রেণীকক্ষে পানি উঠে যাওয়া এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা ভেবে শ্রেণী কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে দাপ্তরিক কাজ চালু আছে। পানি নেমে গেলেই আমরা দ্রুত পাঠদান স্বাভাবিক করার চেষ্টা করব।”
আরও পড়ুন>>সুন্দরগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তশিলদারের অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ
বন্যার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবে নলকূপ ও রান্নার জায়গা তলিয়ে যাওয়ায় এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকা চরাঞ্চলবাসী অনতিবিলম্বে শুকনো খাবার, গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি সাপের উপদ্রব ও রোগ ব্যাধি সামলাতে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম গঠনের জন্য সরকারের জোর দাবি জানিয়েছেন একই সাথে সরকারী, বেসরকারি, ব্যাক্তি উদ্যোগ ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রান সামগ্রী সহ ভানভাসী মানুষের পাশে দাড়ানোর আহবান জানান চরাঞ্চলের অসহায় মানুষজন।




















