ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের জেরে যুবককে নিরাপত্তা ঘটনায়, হাসপাতালে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৫:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস ধরে এক শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত ও পথরোধ করার অভিযোগে কবির শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কুশলা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত কবিরকে প্রথমে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কবির কোটালীপাড়ার বিরামেরকান্দি গ্রামের সরোয়ার শেখের ছেলে। এরপর থেকে তিনি ওই শিক্ষিকাকে বিয়ে করার জন্য পাগলের মতো আচরণ শুরু করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকার অভিযোগ, কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে কবির তাকে নিয়মিত উত্ত্যক্ত করতেন। কখনও পথরোধ করে দাঁড়িয়ে থাকা, আবার কখনও গায়ে পানি ছিটিয়ে বিরক্ত করতেন তিনি। এই ঘটনার স্থায়ী প্রতিকার চেয়ে তিনি স্থানীয়ভাবে ও পরিবারের মাধ্যমে বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জণ ভক্ত জানান, ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কবির ও তার স্বজনদের ডেকে এনে সতর্ক করা হয়েছিল এবং তখন কবির পুনরায় এমন কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

রোববার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কবির আবারও তাকে পথরোধ করলে শিক্ষিকার আত্মীয়রা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে মারধর করেন। শিক্ষিকা জানান, উত্ত্যক্তের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ছুটি নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেও সুফল পাননি। তবে মারধরের ঘটনার বিষয়ে তিনি সরাসরি অবগত নন বলে দাবি করেছেন। তবে তাকে যে মারা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি জানি না।’।

কবিরের ভাতিজি জোসনা বেগমের ভাষ্যমতে, তার চাচা মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে অটোরিকশা চালানোর সময় ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি শিক্ষিকাকে বিয়ের জন্য জেদ ধরে পাগলামি করতেন। পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হলেও এভাবে মারধর করাকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। এদিকে, কোটালীপাড়া থানার ডিউটি অফিসার এএসআই রাকিব হোসেন জানিয়েছেন, এই ঘটনার বিষয়ে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কবিরের ভাতিজি জোসনা বেগম বলেন, ‘আমার চাচার একটু মাথায় সমস্যা আছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের জেরে যুবককে নিরাপত্তা ঘটনায়, হাসপাতালে

আপডেট সময় : ০৬:০৫:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস ধরে এক শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত ও পথরোধ করার অভিযোগে কবির শেখ (৩৫) নামের এক যুবককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কুশলা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত কবিরকে প্রথমে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য পরবর্তীতে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কবির কোটালীপাড়ার বিরামেরকান্দি গ্রামের সরোয়ার শেখের ছেলে। এরপর থেকে তিনি ওই শিক্ষিকাকে বিয়ে করার জন্য পাগলের মতো আচরণ শুরু করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকার অভিযোগ, কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে কবির তাকে নিয়মিত উত্ত্যক্ত করতেন। কখনও পথরোধ করে দাঁড়িয়ে থাকা, আবার কখনও গায়ে পানি ছিটিয়ে বিরক্ত করতেন তিনি। এই ঘটনার স্থায়ী প্রতিকার চেয়ে তিনি স্থানীয়ভাবে ও পরিবারের মাধ্যমে বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তিনি উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জণ ভক্ত জানান, ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কবির ও তার স্বজনদের ডেকে এনে সতর্ক করা হয়েছিল এবং তখন কবির পুনরায় এমন কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

রোববার সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে কবির আবারও তাকে পথরোধ করলে শিক্ষিকার আত্মীয়রা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে মারধর করেন। শিক্ষিকা জানান, উত্ত্যক্তের কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ছুটি নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেও সুফল পাননি। তবে মারধরের ঘটনার বিষয়ে তিনি সরাসরি অবগত নন বলে দাবি করেছেন। তবে তাকে যে মারা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি জানি না।’।

কবিরের ভাতিজি জোসনা বেগমের ভাষ্যমতে, তার চাচা মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে অটোরিকশা চালানোর সময় ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি শিক্ষিকাকে বিয়ের জন্য জেদ ধরে পাগলামি করতেন। পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হলেও এভাবে মারধর করাকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। এদিকে, কোটালীপাড়া থানার ডিউটি অফিসার এএসআই রাকিব হোসেন জানিয়েছেন, এই ঘটনার বিষয়ে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কবিরের ভাতিজি জোসনা বেগম বলেন, ‘আমার চাচার একটু মাথায় সমস্যা আছে।

Facebook Comments Box