ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ১৫৬ জন শিক্ষার্থী ২০২৬ সালের মিলেনিয়াম ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারা শিক্ষা, জলবায়ু, স্বাস্থ্য, জেন্ডার সমতা, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে কাজ করবেন। তাদের প্রকল্পগুলো বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের বাস্তব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অবদান রাখবে।
টানা পঞ্চম বছরের মতো ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা এই ফেলোশিপে অংশ নিচ্ছেন। মিলেনিয়াম ফেলোশিপ ইউনাইটেড নেশনস একাডেমিক ইমপ্যাক্ট (ইউএনএআই) এবং মিলেনিয়াম ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক (এমসিএন) পরিচালিত একটি কর্মসূচি। এটি স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রকল্প। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভাবনাকে বাস্তব সামাজিক Another রূপ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জন্য এই ফেলোশিপ শিক্ষা, নেতৃত্ব, সেবা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার এসডিজি-৪ (মানসম্মত শিক্ষা), এসডিজি-১০ (অসমতা হ্রাস), এসডিজি-১৩ (জলবায়ু কার্যক্রম), এসডিজি-১৬ (শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান) এবং এসডিজি-১৭ (লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারিত্ব) এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করবেন।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জন্য শিক্ষার্থীদের এই অর্জন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্ববিদ্যালয়টি ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। এই সাফল্য প্রমাণ করে, শিক্ষা শুধু ক্লাসরুমের পাঠদানে সীমাবদ্ধ নয়। এর উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের সমাজের বাস্তব সমস্যা বুঝতে শেখানো এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করা। আর এভাবেই তারা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখার সক্ষমতা অর্জন করে।
তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে যে আন্তরিকতা ও অঙ্গীকার দেখিয়েছে, তার স্বীকৃতি পাওয়া সত্যিই আনন্দের। তাদের উদ্যোগগুলোতে সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের পাশাপাশি মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং সমাজের বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করার আগ্রহ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই গুণগুলোই ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার এবং এমসিএনের সিভিক লার্নিং কাউন্সিলের কো-চেয়ার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড বলেন, “মিলেনিয়াম ফেলোশিপ শিক্ষার্থীদের শেখার সঙ্গে সমাজের প্রয়োজনকে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করে। এই ফেলোশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানুষের জন্য কাজ করার, সমাজের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সুযোগ পায়।”
গত ২০ আগস্ট ২০২৬ ‘মিলেনিয়াম ফেলোশিপ গ্লোবাল টাউন হল’-এর মাধ্যমে এ বছর নির্বাচিত ফেলোদের যাত্রা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে তারা নিজেদের প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে কাজ করবেন এবং সেই উদ্যোগগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করবেন।
Leave a Reply