বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসের শাসনামলে দেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের তীব্র সংকট শিল্প উৎপাদন ও জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সোমবার রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি পাঠ করেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই সময়ে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ছয় মাসে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকর করা হয়েছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর হয়রানি ও হামলার ঘটনা বেড়েছে, যার অধিকাংশেরই বিচার হয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল দাবি—গণহত্যার বিচার এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলো সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দুদক, মানবাধিকার কমিশন ও ন্যায়পালের মতো চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর হয়ে আছে বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, সরকার যে ৩১ দফা ঘোষণা করেছিল, তার অনেকগুলোই ইতিমধ্যে পরিবর্তিত হয়েছে এবং সরকার নিজেই তা বরখেলাপ করেছে। সরকারের অপরিকল্পনা ও দুর্নীতির কারণে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করতে হয়েছে, যা তাদের ব্যর্থতারই প্রমাণ। তিনি বিদ্রূপ করে বলেন, এভাবে পরিবর্তন করতে করতে একসময় হয়তো প্রধানমন্ত্রীকেই পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেবে।
সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ছয় মাস সময় খুব বেশি না হলেও, এই সময়ে সরকার যে ব্যর্থ হয়েছে তা স্বীকার করে তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল, না কি সফলতা প্রচার করা।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আগামী ছয় মাসেও যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে সরকার আর অন্তর্বর্তীকালীন বা বিগত সরকারের দোহাই দিয়ে পার পাবে না, যা জনগণের কাছে আর গ্রহণযোগ্য হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply