নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট প্রাণঘাতী বন্যা ও কাদার স্রোতের ঘটনার পর ভারতের উত্তরাখন্ড রাজ্যের হিমালয় অঞ্চলে সতর্কতা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। হিমবাহ ধসের ওই ঘটনায় ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমপরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়েছিল এবং ধ্বংসাবশেষের স্রোত ভাটির দিকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার ওই অঞ্চলের ১৩টি গ্লেসিয়াল লেক বা হিমবাহ হ্রদকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
উত্তরাখন্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি গত ২৭ আগস্ট দেহরাদুনে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই হ্রদগুলোতে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও ব্যাপক জরিপ চালানোর নির্দেশ দেন। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগাম সতর্কতাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এছাড়া, হ্রদগুলোর পানির স্তর, আয়তনের পরিবর্তন এবং আশপাশের ভূখণ্ডের স্থিতিশীলতা মূল্যায়নের জন্য আধুনিক সেন্সর ও পানির স্তর পরিমাপের যন্ত্র বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন বিভাগের সচিব বিনোদ কুমার সুমন জানিয়েছেন, চিহ্নিত ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদের মধ্যে ইতিমধ্যে চারটির জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি হ্রদগুলোও পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে।
বিশেষজ্ঞ দল খুব শিগগিরই চামোলির সরস্বতী তাল এবং উত্তরকাশীর কেদারতাল হ্রদে বিস্তারিত জরিপ পরিচালনা করবে। এই জরিপের মাধ্যমে ভাটির দিকের বসতিগুলোর জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণ করা হবে এবং উদ্ধার তৎপরতার প্রস্তুতি বাড়ানো হবে।
Leave a Reply