ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে সৌদির রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার দাবি হুতিদের দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল নওগাঁয় শ্যালিকাকে বিয়ে, যুবক ও দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি দিয়ে গ্রামছাড়া সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাসের ৫ যাত্রী নিহত

সবুজায়নে নতুন মাইলফলক: কাতারজুড়ে বাড়ছে পার্ক ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সবুজায়নে নতুন মাইলফলক: কাতারজুড়ে বাড়ছে পার্ক ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মরুময় জলবায়ু ও তীব্র তাপপ্রবাহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাতার তার শহরাঞ্চলকে আরও বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। পৌর মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট সবুজ এলাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ বর্গমিটারে। এর ফলে মাথাপিছু সবুজ জায়গার পরিমাণ বেড়ে ৬.৮ বর্গমিটারে উন্নীত হয়েছে। পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন ও নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার পার্ক নির্মাণ ও বনায়ন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

সবুজায়নে নতুন মাইলফলক: কাতারজুড়ে বাড়ছে পার্ক ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় জমা দেওয়া কাতারের ‘ন্যাশনাল্লি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন ৩.০’ (NDC 3.0) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে দেশটির সবুজ এলাকা ছিল মাত্র ৩.৫ বর্গকিলোমিটার, যা ২০২৩ সালে ১৬.৭ বর্গকিলোমিটারে বৃদ্ধি পায়। এই অগ্রগতির পেছনে ২০১৯ সালে শুরু হওয়া ‘এক মিলিয়ন গাছ রোপণ কর্মসূচি’র বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০২২ সালে এই প্রকল্পের সফল সমাপ্তির পর কাতার ‘দশ মিলিয়ন গাছ রোপণ উদ্যোগ’ গ্রহণ করে, যা বর্তমানেও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের আওতায় এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ২০ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে।

জাতিসংঘে জমাকৃত ২০২৫ সালের স্বেচ্ছামূলক জাতীয় পর্যালোচনা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটিতে ১৫৯টি পার্ক এবং প্রায় ৩০ লাখ বর্গমিটারের উন্নত সবুজ এলাকা তৈরি করা হয়েছে।

 

পড়ুন>>ফ্যাসিবাদী আমলে আয়নাঘরের দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল: রাষ্ট্রপতি

এছাড়া দেশের মোট আয়তনের ২৭ শতাংশ বা প্রায় ৩ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট স্থল ও সামুদ্রিক এলাকার ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কাতার।

কাতার ইউনিভার্সিটির ২০২৬ সালের এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, খোলা বালি বা শিল্পাঞ্চলের তুলনায় গাছপালা সমৃদ্ধ এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা অনেক বেশি সহনীয় থাকে। গ্রীষ্মকালে প্রখর রোদ ও তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে এই সবুজ বেষ্টনী ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

 

আরও পড়ুন>>গোপালগঞ্জে মধুমতি নদীতে নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মিলল একদিন পর

এছাড়া ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে গৃহীত অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাতারের মোট সবুজ এলাকা বৃদ্ধিতে ৭৩ শতাংশেরও বেশি অবদান রেখেছিল। এই আয়োজন সাধারণ মানুষের জন্য সবুজ পরিবেশের সুযোগ প্রায় ৯ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

সবুজায়নের এই প্রচেষ্টা কেবল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পাখি, পোকামাকড় ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের জোগান দিচ্ছে। কাতার তার জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার এবং নগর পরিকল্পনায় প্রকৃতির সঠিক মেলবন্ধন ঘটিয়ে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সবুজায়নে নতুন মাইলফলক: কাতারজুড়ে বাড়ছে পার্ক ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

আপডেট সময় : ০৪:৫১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

 

সবুজায়নে নতুন মাইলফলক: কাতারজুড়ে বাড়ছে পার্ক ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

মরুময় জলবায়ু ও তীব্র তাপপ্রবাহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাতার তার শহরাঞ্চলকে আরও বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। পৌর মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে মোট সবুজ এলাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ বর্গমিটারে। এর ফলে মাথাপিছু সবুজ জায়গার পরিমাণ বেড়ে ৬.৮ বর্গমিটারে উন্নীত হয়েছে। পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন ও নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার পার্ক নির্মাণ ও বনায়ন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

 

সবুজায়নে নতুন মাইলফলক: কাতারজুড়ে বাড়ছে পার্ক ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় জমা দেওয়া কাতারের ‘ন্যাশনাল্লি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন ৩.০’ (NDC 3.0) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে দেশটির সবুজ এলাকা ছিল মাত্র ৩.৫ বর্গকিলোমিটার, যা ২০২৩ সালে ১৬.৭ বর্গকিলোমিটারে বৃদ্ধি পায়। এই অগ্রগতির পেছনে ২০১৯ সালে শুরু হওয়া ‘এক মিলিয়ন গাছ রোপণ কর্মসূচি’র বড় ভূমিকা রয়েছে। ২০২২ সালে এই প্রকল্পের সফল সমাপ্তির পর কাতার ‘দশ মিলিয়ন গাছ রোপণ উদ্যোগ’ গ্রহণ করে, যা বর্তমানেও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের আওতায় এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ২০ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে।

জাতিসংঘে জমাকৃত ২০২৫ সালের স্বেচ্ছামূলক জাতীয় পর্যালোচনা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটিতে ১৫৯টি পার্ক এবং প্রায় ৩০ লাখ বর্গমিটারের উন্নত সবুজ এলাকা তৈরি করা হয়েছে।

 

পড়ুন>>ফ্যাসিবাদী আমলে আয়নাঘরের দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল: রাষ্ট্রপতি

এছাড়া দেশের মোট আয়তনের ২৭ শতাংশ বা প্রায় ৩ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট স্থল ও সামুদ্রিক এলাকার ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কাতার।

কাতার ইউনিভার্সিটির ২০২৬ সালের এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, খোলা বালি বা শিল্পাঞ্চলের তুলনায় গাছপালা সমৃদ্ধ এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা অনেক বেশি সহনীয় থাকে। গ্রীষ্মকালে প্রখর রোদ ও তাপপ্রবাহ থেকে বাঁচতে এই সবুজ বেষ্টনী ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

 

আরও পড়ুন>>গোপালগঞ্জে মধুমতি নদীতে নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মিলল একদিন পর

এছাড়া ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে গৃহীত অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাতারের মোট সবুজ এলাকা বৃদ্ধিতে ৭৩ শতাংশেরও বেশি অবদান রেখেছিল। এই আয়োজন সাধারণ মানুষের জন্য সবুজ পরিবেশের সুযোগ প্রায় ৯ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

সবুজায়নের এই প্রচেষ্টা কেবল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পাখি, পোকামাকড় ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের জোগান দিচ্ছে। কাতার তার জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে ম্যানগ্রোভ বন পুনরুদ্ধার এবং নগর পরিকল্পনায় প্রকৃতির সঠিক মেলবন্ধন ঘটিয়ে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। 

 

 

Facebook Comments Box