নওগাঁ জেলা পুলিশ কর্তৃক ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন: গ্রেফতার-২
“নওগাঁ জেলা পুলিশ কর্তৃক চাঞ্চল্যকর “নাজিম উদ্দিন ফকির” ক্লু লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ০২ জন।
গত ১০/০৬/২০২৪ তারিখ রাত্রী আনুমানিক ১০.০০ ঘটিকার সময় বিলভবানীপুর শুকুরের মোড় হতে ভিকটিম নাজিম উদ্দিন ফকির (৬০) মোটরসাইকেল নিয়ে বিলভবানীপুর মৎসজীবি পাড়ায় জনৈক মোঃ একলাস এর বাড়ীতে স্থানীয় শালিস দরবার করার জন্য যান।
শালিস দরবার শেষে বাড়ী ফেরার সময় রাত্রী আনুমানিক ১১.৪০ ঘটিকায় বাড়ীর প্রবেশ পথে অজ্ঞাতনামা আসামীরা ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি দ্বারা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে গুরুতর জখম করলে, ভিকটিমের ডাক-চিৎকার ও গোঙ্গানো শব্দ শুনে বাড়ীর ভিতর হতে ভিকটিমের ছেলে, স্ত্রীসহ আত্মীয় স্বজন বের হয়ে ভিকটিমকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ভ্যানযোগে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উক্ত ঘটনায় অজ্ঞাতনামা অপরাধীদেরকে গ্রেফতারের জন্য নওগাঁ জেলার সন্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মুহাম্মদ রাশিদুল হক, পিপিএম মহোদয়ের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায়, জনাব মোঃ গাজিউর রহমান, পিপিএম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এর তত্ত্বাবধানে, জনাব ফৌজিয়া হাবিব খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল নওগাঁ, এর নেতৃত্বে জনাব মোঃ জাহিদুল হক, অফিসার ইনচার্জ, নওগাঁ সদর মডেল থানা, নওগাঁ সহ একটি চৌকস টিম গঠন করা হয়। উক্ত টিম একাধিক বার ঘটনাস্থল পরির্দশন করে।
স্থানীয় সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই নৃশংস হত্যা কান্ডের ঘটনা উদঘাটনে তথ্য প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে সল্পতম সময়ের মধ্যে নওগাঁ পৌরসভাস্থ আরজী নওগাঁ দপ্তরীপাড়া এলাকা হতে ঘটনায় জড়িত আসামী ১. মোঃ সুজাত আলী (৩২), পিতা-মৃত আব্দুস সামাদ, সাং-বিল ভবানীপুর ২. মোঃ মেহেদী হাসান (২৮), পিতা- মোঃ নজরুল ইসলাম, সাং- রঘুনাথপুর, উভয় থানা-নওগাঁ, জেলা- নওগাঁদ্বয়কে গ্রেফতার করে।
আসামীদ্বয়ের স্বীকারোক্তি মূলক তথ্যের ভিত্তিতে এবং তাদের দেখানো মতে সাক্ষীদের সামনে রানীনগর থানার আতাইকুলা বেতগাড়ী ব্রীজ (মুক্তিযোদ্ধা ব্রীজ) এর উত্তরে ছোট যমুনা নদী হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং ঘটনাস্থল হতে হত্যা কান্ডে ব্যবহৃত হাতুড়ী উদ্ধার করা হয়।
ভিকটিম নাজিম উদ্দিন এর লাশ ময়না তদন্ত শেষে মৃতের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় নওগাঁ সদর থানার মামলা নং-২৮, তারিখ- ১১/০৬/২০২৪, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করা হয়েছে।
আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, প্রায় ০৩ বছর পূর্বে একটি সালিশে ভিকটিম কর্তৃক আসামী সুজাত আলী শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত হওয়ার ক্রোধে সে তাঁর বন্ধু মেহেদী হাসানকে নিয়ে এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা করে।
রাত্রী অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিম নাজিম উদ্দিন ফকির তার বাড়ীর নিকট পৌঁছা মাত্রই আসামীদ্বয় পূর্ব পরিকল্পনা মত ভিকটিমকে এলোপাথারীভাবে ছুরিকাঘাত ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আঘাত করে পালিয়ে যায়। আজ আসামীদ্বয়কে স্বীকারোক্তি মূলক বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
Leave a Reply