লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে কাশিপুর, গোড়কমন্ডল এবং অনন্তপুর বিওপির টহলদল পৃথক ০৩টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় স্বর্ণকাতান শাড়ী ও গাঁজা এবং ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন মালামাল চোরাচালান করবে।
উক্ত তথ্যানুযায়ী, ০৩ আগস্ট রাত ১১:৫০ মিনিটে কাশিপুর বিওপির আওতাধীন পশ্চিম অনন্তপুর (থানা-ফুলবাড়ী, জেলা-কুড়িগ্রাম) নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে বিজিবি টহল দলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে উক্ত চোরাকারবারীরা বহনকৃত মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় স্বর্ণ কাতান শাড়ী ১৩২ পিছ জব্দ করতে সক্ষম হয়।
এছাড়াও, একই দিন রাত ০৯:১০ মিনিটে গোড়কমন্ডল বিওপির আওতাধীন কৃষ্ণনন্দন বকসী (থানা- ফুলবাড়ি , জেলা-কুড়িগ্রাম) এবং ০৪ আগস্ট ০৪:৩০ মিনিটে অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন নাগরাজ (থানা- নাগেস্বরী, জেলা-কুড়িগ্রাম) নামক স্থানে পৃথক আরো ০২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উক্ত অভিযানসমূহ চলাকালে টহলদলের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের চ্যালেঞ্জ ও ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা সাথে থাকা মালামাল ফেলে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে ভারতীয় গাঁজা ২১.৫ কেজি এবং ইস্কাপ সিরাপ ১১৭ বোতল জব্দ করতে সক্ষম হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় স্বর্ণ কাতান শাড়ী ১৩২ পিছ যার সিজার মূল্য ১৩,২০,০০০/-, গাঁজা ২১.৫ কেজি, যার সিজার মূল্য ৭৫,২৫০/-, ইস্কাপ সিরাপ ১১৭ বোতল, যার সিজার মূল্য ৪৬,৮০০/- টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ১৪,৪২,০৫০/- (চৌদ্দ লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার পঞ্চাশ) টাকা। এছাড়াও চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার “লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি” বলেন,“দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান ও মাদকপাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন এর প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। এছাড়াও, দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা করেছি এবং ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply