কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকাপাড়া গ্রামে পদ্মা নদীর পাড় ধসে পানির স্রোতে তলিয়ে গেছে দুই শিশু। পরে স্থানীয়দের তৎপরতায় এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপর শিশুটি নিখোঁজ রয়েছে। বুধবার বেলা ১২টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পদ্মা নদীর পাড়ে বসে দাড়িয়ে ছিল শিশু। এ সময় হঠাৎ নদীর পাড় ধসে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই তারা নদীতে পড়ে যায়।তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের বাসিন্দারা এগিয়ে এসে মোছাঃ জামিলা খাতুন (৭) নামে এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেন। জামিলা ভুরকাপাড়া গ্রামের মোঃ ইজাজুল মন্ডল ও মোছাঃ তানিয়া খাতুনের মেয়ে।
তবে ঘটনার পরপরই নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে যায় অপর শিশু মোছাঃ নূরিয়া খাতুন (৮)। সে একই এলাকার মোঃ আশিক শেখ ও মোছাঃ নূরনাহার খাতুনের মেয়ে। পাশের মানুষের হাঁকডাকে মুহূর্তেই পদ্মার পাড়ে জমে ওঠে ভিড়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী। দীর্ঘ সময় নদীতে তল্লাশি চালিয়েও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নূরিয়ার কোনো সন্ধান পাননি।
জামিলা রক্ষা পেলেও নূরিয়ার মা নূরনাহার খাতুন ও বাবা আশিক শেখের বুকফাটা আর্তনাদে পদ্মার পাড়ের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কৃষক এরশাদ আলী বলেন, আমি কাছেই জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখতে পাই নদীর পাড়ের একটি বড় অংশ ধসে নিচে পড়ল এবং সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের চিৎকার শুনি। আমার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আছে।
জামিলাকে নদী থেকে তুলে আনা স্থানীয় যুবক লালন শেখ বলেন, আমরা পানিতে নেমেই জামিলাকে হাতের কাছে পেয়ে দ্রুত টেনে তুলি। কিন্তু নূরিয়া স্রোতের টানে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা অনেক দূর সাঁতরে গিয়েও তাকে ধরতে পারিনি।
এদিকে খবর পেয়ে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস ও দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম ভুরকাপাড়া এলাকায় পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। নদীতে পানির গভীরতা ও প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। খুলনা থেকে ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা এসে অভিযানে যোগ দেবেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তার পাশাপাশি নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
Leave a Reply