বড় আলেম বানানোর স্বপ্ন পুরনো হয়নি জুলাই আন্দোলনে নিহত নাসির উদ্দিনের বাবা-মায়ের। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনে মিছিলে অংশ নিয়ে ২০ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন মাদ্রাসা নাসির উদ্দিন ।
কাউনিয়ার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলামের একমাত্র পুত্র সে। নাসির উদ্দিনের পিতা আশরাফুল ইসলাম বলেন আমার বড় স্বপ্ন ছিল একমাত্র ছেলে কে যেন আমি বড় মাপের একজন আলেম বানাতে পারি। সে যেন ইসলামের খাদেম হতে পারে। ইসলাম প্রচারে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি।
বড় আলেম বানানোর স্বপ্ন নিয়ে ঢাকার টঙ্গী তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় তাকে ভর্তি করি। সেখানে সে আলিম শাখায় অধ্যায়ন রত ছিল। তার সব সময় খোঁজ খবর ও দেখ ভাল করতে আমি পরিবার নিয়ে টঙ্গীর গাজিপোড়া ২৭ নম্বর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করি এবং জীবিকার অন্বেষনে ঝুট কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি।
জয়দেবপুর কোনাবাড়িতে কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন আমি আমার ছেলেকে ফোন দিয়ে সাবধানে থাকতে বলি, তখন আমার ছেলে আমাকে মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে বলে বাবা তুমি ভয় পেয়ো না আমি মিছিলে যাবো না। তার সঙ্গে এটাই আমার শেষ কথা। এরপর খবর পাই আমার ছেলে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালের ভর্তি আছে। পরে সেখানে গিয়ে তাকে না পেয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে খুঁজতে থাকি।
একপর্যায়ে তার লাশ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে গিয়ে খুঁজে পাই। পরে ছেলেকে কাউনিয়ায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে দাফন করি। ছেলের শোকে নাসিরের মা প্রায় সময় বিলাপ করে। কেউ ছেলের কথা তুললেই সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে অসুস্থ হয়ে যায়। আমাদের শেষ চাওয়া আমি যেন মৃত্যুর আগে ছেলের হত্যা কারীদের বিচার দেখে যেতে পারি।
Leave a Reply