ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাতারের নিরাপত্তায় যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন নৌবাহিনীর ২৪ সদস্য ভারত বাংলাদেশ-নেপালের চেয়ে খারাপ হতে পারে: মন্ত্রী ইরফান আনসারি চাঁদপুরে ৩৬ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা রমজানের আগেই রাজধানীর বাজারে ছোলার দামে বড় ঝাঁকুনি শর্টকাট পথে অর্থ উপার্জনে ভালো আইনজীবী হওয়া সম্ভব নয়: আইনমন্ত্রী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে ট্রাম্পের সঙ্গে কাতারের আমিরের ফোনালাপ মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় প্রাণ গেল তিন বাংলাদেশির চ্যাটজিপিটির ফিন্যান্স টুলে যুক্ত হলো ভয়েস সুবিধা মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, নিষেধাজ্ঞা নামমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নতুন ইতিহাস হাসান মাহমুদের

বড় আলেম বানানোর স্বপ্ন পূরণ হয়নি জুলাই শহীদ নাসিরের বাবা-মায়ের 

কাউনিয়া (রংপুর) থেকে কুদ্দুছ বসুনীয়া
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে

জুলাই শহীদ নাসির উদ্দিন

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বড় আলেম বানানোর স্বপ্ন পূরণ হয়নি জুলাই শহীদ নাসিরের বাবা-মায়ের

 

বড় আলেম বানানোর স্বপ্ন পুরনো হয়নি জুলাই আন্দোলনে নিহত নাসির উদ্দিনের বাবা-মায়ের। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনে  মিছিলে অংশ নিয়ে ২০ জুলাই  পুলিশের গুলিতে নিহত হন মাদ্রাসা  নাসির উদ্দিন ।

কাউনিয়ার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলামের একমাত্র পুত্র সে। নাসির উদ্দিনের  পিতা আশরাফুল ইসলাম  বলেন আমার বড় স্বপ্ন ছিল একমাত্র ছেলে কে যেন আমি বড় মাপের একজন আলেম বানাতে পারি। সে যেন ইসলামের খাদেম হতে পারে। ইসলাম প্রচারে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি।

পড়ুন>>১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তে ভারতীয় স্বর্ণকাতান শাড়ী ও গাঁজা এবং ইস্কাপ সিরাপ জব্দ

 

বড় আলেম বানানোর স্বপ্ন  নিয়ে ঢাকার টঙ্গী  তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় তাকে ভর্তি করি। সেখানে সে আলিম শাখায় অধ্যায়ন রত ছিল। তার সব সময়  খোঁজ খবর ও দেখ ভাল করতে আমি পরিবার নিয়ে  টঙ্গীর গাজিপোড়া ২৭ নম্বর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করি এবং জীবিকার অন্বেষনে  ঝুট কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি।

পড়ুন>> মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা সাংবাদিক আবুল হাসনাত তুহিন: ৪ আগস্টের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি, আজও স্বীকৃতির অপেক্ষায়

 

জয়দেবপুর কোনাবাড়িতে  কোটা সংস্কার  আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন আমি আমার ছেলেকে ফোন দিয়ে সাবধানে থাকতে বলি, তখন আমার ছেলে আমাকে মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে বলে বাবা তুমি ভয় পেয়ো না আমি মিছিলে যাবো না। তার সঙ্গে এটাই আমার শেষ কথা। এরপর খবর পাই আমার ছেলে পুলিশের গুলিতে আহত  হয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালের ভর্তি আছে। পরে সেখানে গিয়ে তাকে না পেয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে খুঁজতে থাকি।

 

একপর্যায়ে তার লাশ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে মর্গে গিয়ে খুঁজে পাই।  পরে ছেলেকে কাউনিয়ায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে দাফন করি। ছেলের শোকে নাসিরের মা প্রায় সময় বিলাপ করে। কেউ ছেলের কথা তুললেই সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে অসুস্থ হয়ে যায়। আমাদের শেষ চাওয়া আমি যেন মৃত্যুর আগে ছেলের হত্যা কারীদের বিচার দেখে যেতে পারি।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বড় আলেম বানানোর স্বপ্ন পূরণ হয়নি জুলাই শহীদ নাসিরের বাবা-মায়ের 

আপডেট সময় : ১১:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

 

বড় আলেম বানানোর স্বপ্ন পূরণ হয়নি জুলাই শহীদ নাসিরের বাবা-মায়ের

 

বড় আলেম বানানোর স্বপ্ন পুরনো হয়নি জুলাই আন্দোলনে নিহত নাসির উদ্দিনের বাবা-মায়ের। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনে  মিছিলে অংশ নিয়ে ২০ জুলাই  পুলিশের গুলিতে নিহত হন মাদ্রাসা  নাসির উদ্দিন ।

কাউনিয়ার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলামের একমাত্র পুত্র সে। নাসির উদ্দিনের  পিতা আশরাফুল ইসলাম  বলেন আমার বড় স্বপ্ন ছিল একমাত্র ছেলে কে যেন আমি বড় মাপের একজন আলেম বানাতে পারি। সে যেন ইসলামের খাদেম হতে পারে। ইসলাম প্রচারে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু সে আশা পূরণ হয়নি।

পড়ুন>>১৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তে ভারতীয় স্বর্ণকাতান শাড়ী ও গাঁজা এবং ইস্কাপ সিরাপ জব্দ

 

বড় আলেম বানানোর স্বপ্ন  নিয়ে ঢাকার টঙ্গী  তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় তাকে ভর্তি করি। সেখানে সে আলিম শাখায় অধ্যায়ন রত ছিল। তার সব সময়  খোঁজ খবর ও দেখ ভাল করতে আমি পরিবার নিয়ে  টঙ্গীর গাজিপোড়া ২৭ নম্বর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করি এবং জীবিকার অন্বেষনে  ঝুট কাপড়ের ব্যবসা শুরু করি।

পড়ুন>> মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসা সাংবাদিক আবুল হাসনাত তুহিন: ৪ আগস্টের সেই রক্তাক্ত স্মৃতি, আজও স্বীকৃতির অপেক্ষায়

 

জয়দেবপুর কোনাবাড়িতে  কোটা সংস্কার  আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন আমি আমার ছেলেকে ফোন দিয়ে সাবধানে থাকতে বলি, তখন আমার ছেলে আমাকে মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে বলে বাবা তুমি ভয় পেয়ো না আমি মিছিলে যাবো না। তার সঙ্গে এটাই আমার শেষ কথা। এরপর খবর পাই আমার ছেলে পুলিশের গুলিতে আহত  হয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালের ভর্তি আছে। পরে সেখানে গিয়ে তাকে না পেয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে খুঁজতে থাকি।

 

একপর্যায়ে তার লাশ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে মর্গে গিয়ে খুঁজে পাই।  পরে ছেলেকে কাউনিয়ায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে দাফন করি। ছেলের শোকে নাসিরের মা প্রায় সময় বিলাপ করে। কেউ ছেলের কথা তুললেই সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে অসুস্থ হয়ে যায়। আমাদের শেষ চাওয়া আমি যেন মৃত্যুর আগে ছেলের হত্যা কারীদের বিচার দেখে যেতে পারি।

 

 

Facebook Comments Box