ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বের ৯৬ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর বাস্তুতন্ত্র সংকটের মুখে জরিমানা আদায়: পাবনায় পরিবেশ দূষণ রোধে অভিযান সংবিধান সংশোধন কমিটির নবম বৈঠক: প্রাধান্য পাচ্ছে জুলাই সনদ জামালপুরে বিজিবির অভিযানে ৯০ লাখ টাকার ভারতীয় কাপড় জব্দ প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো নিয়মিত প্রক্রিয়া জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগে নতুন দিল্লি বিমানবন্দরে হয়রানির নেপথ্যে সিইসির ভাই: অভিযোগ মানসিংহের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার প্রাপ্তিতে মেসিকে বার্সেলোনার অভিনন্দন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাত: রিজভী আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে ৬২ পদে নিয়োগ

বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি: মুসলিম বিশ্বে নতুন ভূকৌশলগত ভারসাম্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবকে বাদ রেখে কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক ‘বদর’ প্রতিরক্ষা চুক্তি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতা অর্জন, উন্নত প্রযুক্তির বিনিময় এবং আঞ্চলিক ক্ষমতা কাঠামোর একক নির্ভরতা কমাতেই এই চার দেশ একত্রিত হয়েছে। বৈশ্বিক থিংকট্যাংকগুলোর মতে, রিয়াদ যখন ওয়াশিংটনের সাথে নিজেদের নিরাপত্তা বলয় নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখন উদীয়মান এই দেশগুলো স্বাধীন নিরাপত্তা কৌশল তৈরিতে আগ্রহী হয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্টিফেনস জানান, ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামো ছিল মূলত উপসাগরীয় দেশগুলো, বিশেষত সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি ও মার্কিন সামরিক সহায়তাকেন্দ্রিক। বর্তমানে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো নিজস্ব সামরিক সক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, তারা আর কোনো একক আঞ্চলিক শক্তির ছায়াতলে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না।

তুর্কি সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চের প্রধান ড. এরদোগান কারাকুশ এই জোটের লক্ষ্য নিয়ে বলেন, এটি আগ্রাসনের জন্য নয়, বরং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন ও কৌশলগত ভারসাম্য তৈরির উদ্দেশ্যে গঠিত। যেখানে সৌদি আরব পশ্চিমা ব্লকের দিকে ঝুঁকছে, সেখানে আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ নিজস্ব ড্রোন প্রযুক্তির বিকাশ ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। অর্থাৎ, নিজের পায়ে দাঁড়ানোই এই চুক্তির মূলমন্ত্র।

আটলান্টিক কাউন্সিলের অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা ইনিশিয়েটিভের ফেলো ড. সিনা আজিজি মন্তব্য করেন, সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত না করার পেছনে বিদ্যমান আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও ভিন্ন পররাষ্ট্রনীতি মূল কারণ। কাতার ও তুরস্কের নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি এবং সৌদি আরবের নিজস্ব এজেন্ডা বরাবরই বিপরীতমুখী। দোহা এখন নিজেকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে তারা কেবল উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।

পাকিস্তানের সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক তালাত মাসুদ মনে করেন, তুরস্কের আধুনিক প্রযুক্তি, পাকিস্তানের দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা এবং কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি একত্রিত হলে তা যে কোনো আঞ্চলিক চাপ মোকাবিলায় শক্তিশালী বলয় তৈরি করবে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত ক্ষমতার সমীকরণের বাইরে এটি এক নতুন শক্তির উত্থান।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কেবল একটি সামরিক সমঝোতা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে মুসলিম বিশ্বের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোয় সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের একক প্রভাবকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। এছাড়াও এই চার দেশের জোট হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখার পথ প্রশস্ত করবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি: মুসলিম বিশ্বে নতুন ভূকৌশলগত ভারসাম্য

আপডেট সময় : ০১:৫৪:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবকে বাদ রেখে কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক ‘বদর’ প্রতিরক্ষা চুক্তি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতা অর্জন, উন্নত প্রযুক্তির বিনিময় এবং আঞ্চলিক ক্ষমতা কাঠামোর একক নির্ভরতা কমাতেই এই চার দেশ একত্রিত হয়েছে। বৈশ্বিক থিংকট্যাংকগুলোর মতে, রিয়াদ যখন ওয়াশিংটনের সাথে নিজেদের নিরাপত্তা বলয় নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখন উদীয়মান এই দেশগুলো স্বাধীন নিরাপত্তা কৌশল তৈরিতে আগ্রহী হয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্টিফেনস জানান, ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামো ছিল মূলত উপসাগরীয় দেশগুলো, বিশেষত সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি ও মার্কিন সামরিক সহায়তাকেন্দ্রিক। বর্তমানে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো নিজস্ব সামরিক সক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, তারা আর কোনো একক আঞ্চলিক শক্তির ছায়াতলে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না।

তুর্কি সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চের প্রধান ড. এরদোগান কারাকুশ এই জোটের লক্ষ্য নিয়ে বলেন, এটি আগ্রাসনের জন্য নয়, বরং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন ও কৌশলগত ভারসাম্য তৈরির উদ্দেশ্যে গঠিত। যেখানে সৌদি আরব পশ্চিমা ব্লকের দিকে ঝুঁকছে, সেখানে আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ নিজস্ব ড্রোন প্রযুক্তির বিকাশ ও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। অর্থাৎ, নিজের পায়ে দাঁড়ানোই এই চুক্তির মূলমন্ত্র।

আটলান্টিক কাউন্সিলের অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা ইনিশিয়েটিভের ফেলো ড. সিনা আজিজি মন্তব্য করেন, সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত না করার পেছনে বিদ্যমান আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও ভিন্ন পররাষ্ট্রনীতি মূল কারণ। কাতার ও তুরস্কের নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি এবং সৌদি আরবের নিজস্ব এজেন্ডা বরাবরই বিপরীতমুখী। দোহা এখন নিজেকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে তারা কেবল উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।

পাকিস্তানের সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক তালাত মাসুদ মনে করেন, তুরস্কের আধুনিক প্রযুক্তি, পাকিস্তানের দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা এবং কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি একত্রিত হলে তা যে কোনো আঞ্চলিক চাপ মোকাবিলায় শক্তিশালী বলয় তৈরি করবে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত ক্ষমতার সমীকরণের বাইরে এটি এক নতুন শক্তির উত্থান।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কেবল একটি সামরিক সমঝোতা নয়, বরং এটি বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে মুসলিম বিশ্বের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোয় সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের একক প্রভাবকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। এছাড়াও এই চার দেশের জোট হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখার পথ প্রশস্ত করবে।

Facebook Comments Box