ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো নিয়মিত প্রক্রিয়া জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগে নতুন দিল্লি বিমানবন্দরে হয়রানির নেপথ্যে সিইসির ভাই: অভিযোগ মানসিংহের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার প্রাপ্তিতে মেসিকে বার্সেলোনার অভিনন্দন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের আঁতাত: রিজভী আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকে ৬২ পদে নিয়োগ সৌদির কারাগারে সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য: যুবক কারাগারে মগবাজারে জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি উপসাগরের ইন্টারনেট ক্যাবল ধ্বংসের পরিকল্পনা ইরানের

দিল্লি বিমানবন্দরে হয়রানির নেপথ্যে সিইসির ভাই: অভিযোগ মানসিংহের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান অভিযোগ করেছেন যে, ফ্রান্স সফর শেষে দেশে ফেরার পথে দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে অহেতুক হেনস্তা করা হয়েছে। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় তিনি জানান, বিমানবন্দরে তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তল্লাশি করা হয় এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে ৫০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়। এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে ভারতীয় শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তা মণীশ কুমার জড়িত বলে তিনি দাবি করেন। মণীশ কুমার ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ভাই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে তিন ঘণ্টা আটকে রাখার নেপথ্য কারণ জানিয়ে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান ভোটের আগে রাজনীতিতে অন্য মাত্রা জুড়লেন। তারপর তাঁরা ৫০ হাজার রুপি জরিমানা ধার্য করেন।’। মুখ্যমন্ত্রীর বরং জানানো উচিত কী কারণে শুল্ক বিভাগ তাঁকে ৫০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে। কিন্তু তাই বলে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গীরা সেই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী গুরপ্রীত কৌরও ছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী মান বলেন, শুল্ক কর্মকর্তারা বারবার তল্লাশির জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং কিছুই না পেয়েও ওপর মহলের নির্দেশে ৫০ হাজার রুপি জরিমানা আদায় করেন। তাঁর মতে, এটি বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের একটি রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার কৌশল। এর আগে প্যারিসের আন্তর্জাতিক খাদ্যমেলায় যোগ দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অনুমতি দিতে কেন্দ্র অস্বীকৃতি জানালেও, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্রান্সে সফর করেন। যখন বেরোচ্ছি, তখনই সেই কর্মকর্তারা আবার এসে বলেন, ওপর মহল থেকে তাঁদের ওপর খুব চাপ রয়েছে। এ সময়েই বিজেপির উদ্দেশে মান বলেন, ‘এভাবেই ওরা প্রতিশোধ নেয়। হাইকোর্টের নির্দেশেই তিনি ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর প্যারিস যান ‘এসআইএএল প্যারিস ২০২৬’ আন্তর্জাতিক খাদ্যমেলায় যোগ দিতে। রাজনৈতিক দিক থেকে কংগ্রেসও আপের প্রতিপক্ষ। বিদেশ সফরের চরিত্রসহ নানা বিষয় বিবেচনা করে কেন্দ্র ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ ইস্যু করে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অনিল সারিন পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, দায় এড়াতে মুখ্যমন্ত্রী ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। সারিনের ভাষ্যমতে, প্রটোকল অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীরা ব্যক্তিগত দেহ তল্লাশি থেকে ছাড় পেলেও, তাঁদের সঙ্গীদের মালামাল তল্লাশির আওতামুক্ত নয়। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, জরিমানার রশিদ জনসমক্ষে আনলেই ঘটনার সত্যতা পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং মিথ্যাচার স্পষ্ট হবে।

এদিকে, রাজ্য বিধানসভায় পাঞ্জাবের ভোটার তালিকা সংশোধন এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের কার্যক্রম নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই আলোচনার সময় অনেক সদস্য সিইসির পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন। উল্লেখ্য, এই প্রস্তাব পাস হওয়ার সময় কংগ্রেস, শিরোমনি অকালি দল ও বিজেপির সদস্যরা সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। আম আদমি পার্টি শাসিত পাঞ্জাব সরকারের সঙ্গে বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক রেষারেষির বিষয়টি এই ইস্যুতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিধানসভার আলোচনা চলাকালে মুখ্যমন্ত্রী মান পাকিস্তানের পাঞ্জাবি কবি বাবা বসির হুসেন নাজমি কর্তৃক লাহোরে বিশ্ব পাঞ্জাবি সম্মেলনে আমন্ত্রণের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। অথচ এ দেশ থেকে বহু পাঞ্জাবি কবি ও লেখক পাকিস্তান যাবেন।

আগামী ২৭ নভেম্বর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে সরকার তাঁকে ফ্রান্স যেতে বাধা দিতে চেয়েছিল, তারা পাকিস্তান যাওয়ার অনুমতি কীভাবে দেবে। তিনি দেশভাগের পর পাকিস্তানে পড়ে যাওয়া গুরু নানকের স্মৃতিবিজড়িত কারতারপুর সাহেব গুরুদ্বার নিয়ে মন্তব্য করেন এবং সেখানে দুই দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ভারতীয় সীমান্ত থেকে কারতারপুর করিডর মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং তিনি চান বিধানসভার সব দলের সদস্যরা সেখানে ভ্রমণের সুযোগ পান। এ অভিযোগের কথা জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপি তীব্র প্রতিবাদ জানায়। শিখ ধর্মের প্রবর্তক গুরু নানক দেব তাঁর জীবনের শেষ ১৮ বছর কারতারপুরে কাটিয়েছেন। তাঁর স্মৃতিতে তৈরি হয় দরবার সাহেব গুরুদ্বার।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দিল্লি বিমানবন্দরে হয়রানির নেপথ্যে সিইসির ভাই: অভিযোগ মানসিংহের

আপডেট সময় : ০৩:২০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান অভিযোগ করেছেন যে, ফ্রান্স সফর শেষে দেশে ফেরার পথে দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে অহেতুক হেনস্তা করা হয়েছে। শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় তিনি জানান, বিমানবন্দরে তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তল্লাশি করা হয় এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে ৫০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়। এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে ভারতীয় শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তা মণীশ কুমার জড়িত বলে তিনি দাবি করেন। মণীশ কুমার ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ভাই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে তিন ঘণ্টা আটকে রাখার নেপথ্য কারণ জানিয়ে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান ভোটের আগে রাজনীতিতে অন্য মাত্রা জুড়লেন। তারপর তাঁরা ৫০ হাজার রুপি জরিমানা ধার্য করেন।’। মুখ্যমন্ত্রীর বরং জানানো উচিত কী কারণে শুল্ক বিভাগ তাঁকে ৫০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে। কিন্তু তাই বলে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গীরা সেই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর স্ত্রী গুরপ্রীত কৌরও ছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী মান বলেন, শুল্ক কর্মকর্তারা বারবার তল্লাশির জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং কিছুই না পেয়েও ওপর মহলের নির্দেশে ৫০ হাজার রুপি জরিমানা আদায় করেন। তাঁর মতে, এটি বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের একটি রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার কৌশল। এর আগে প্যারিসের আন্তর্জাতিক খাদ্যমেলায় যোগ দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অনুমতি দিতে কেন্দ্র অস্বীকৃতি জানালেও, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্রান্সে সফর করেন। যখন বেরোচ্ছি, তখনই সেই কর্মকর্তারা আবার এসে বলেন, ওপর মহল থেকে তাঁদের ওপর খুব চাপ রয়েছে। এ সময়েই বিজেপির উদ্দেশে মান বলেন, ‘এভাবেই ওরা প্রতিশোধ নেয়। হাইকোর্টের নির্দেশেই তিনি ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর প্যারিস যান ‘এসআইএএল প্যারিস ২০২৬’ আন্তর্জাতিক খাদ্যমেলায় যোগ দিতে। রাজনৈতিক দিক থেকে কংগ্রেসও আপের প্রতিপক্ষ। বিদেশ সফরের চরিত্রসহ নানা বিষয় বিবেচনা করে কেন্দ্র ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ ইস্যু করে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অনিল সারিন পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, দায় এড়াতে মুখ্যমন্ত্রী ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। সারিনের ভাষ্যমতে, প্রটোকল অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীরা ব্যক্তিগত দেহ তল্লাশি থেকে ছাড় পেলেও, তাঁদের সঙ্গীদের মালামাল তল্লাশির আওতামুক্ত নয়। তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, জরিমানার রশিদ জনসমক্ষে আনলেই ঘটনার সত্যতা পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং মিথ্যাচার স্পষ্ট হবে।

এদিকে, রাজ্য বিধানসভায় পাঞ্জাবের ভোটার তালিকা সংশোধন এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের কার্যক্রম নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই আলোচনার সময় অনেক সদস্য সিইসির পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন। উল্লেখ্য, এই প্রস্তাব পাস হওয়ার সময় কংগ্রেস, শিরোমনি অকালি দল ও বিজেপির সদস্যরা সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। আম আদমি পার্টি শাসিত পাঞ্জাব সরকারের সঙ্গে বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক রেষারেষির বিষয়টি এই ইস্যুতে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিধানসভার আলোচনা চলাকালে মুখ্যমন্ত্রী মান পাকিস্তানের পাঞ্জাবি কবি বাবা বসির হুসেন নাজমি কর্তৃক লাহোরে বিশ্ব পাঞ্জাবি সম্মেলনে আমন্ত্রণের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। অথচ এ দেশ থেকে বহু পাঞ্জাবি কবি ও লেখক পাকিস্তান যাবেন।

আগামী ২৭ নভেম্বর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে সরকার তাঁকে ফ্রান্স যেতে বাধা দিতে চেয়েছিল, তারা পাকিস্তান যাওয়ার অনুমতি কীভাবে দেবে। তিনি দেশভাগের পর পাকিস্তানে পড়ে যাওয়া গুরু নানকের স্মৃতিবিজড়িত কারতারপুর সাহেব গুরুদ্বার নিয়ে মন্তব্য করেন এবং সেখানে দুই দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ভারতীয় সীমান্ত থেকে কারতারপুর করিডর মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং তিনি চান বিধানসভার সব দলের সদস্যরা সেখানে ভ্রমণের সুযোগ পান। এ অভিযোগের কথা জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপি তীব্র প্রতিবাদ জানায়। শিখ ধর্মের প্রবর্তক গুরু নানক দেব তাঁর জীবনের শেষ ১৮ বছর কারতারপুরে কাটিয়েছেন। তাঁর স্মৃতিতে তৈরি হয় দরবার সাহেব গুরুদ্বার।

Facebook Comments Box