জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগে নতুন
- আপডেট সময় : ০৩:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপান সফর করবেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এই সরকারি সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। গত ২০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সফরের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই নেতার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠক শেষে সানায়ে তাকাইচি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন বলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন।
জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ এই সফরকে দুই দেশের ব্যবসায়িক আস্থা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। তারা আশা করছে, এই সফরের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও গভীর হবে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো পুনর্ব্যক্ত করা সম্ভব হবে। জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানিয়েছে, সফরটি বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ব্যবসায়িক আস্থা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর জন্য শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন এবং জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন। এছাড়াও তার সফরসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ, জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের প্রতিনিধি এবং জাইকা, জেট্রো ও জেবিআইসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে।
প্রযুক্তি এবং শিল্পখাত পর্যালোচনার অংশ হিসেবে তিনি ফুতসু শহরের একটি এলএনজি টার্মিনাল, ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার একটি কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। এই সফরকালে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য এবং পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে জাপানি কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এই নতুন মোড়ে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলার বিষয়টিও আলোচনার টেবিলে উঠে আসবে। জাপান তার উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে যে সহায়তা দিয়ে আসছে, এবারের সফর তাকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জাপান। বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফর ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাপান গুরুত্ব দিচ্ছে যে, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে, সেগুলোর কার্যকর ও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবং নতুন নতুন বিনিয়োগের পথ সুগম করতে সহায়তা করবে। দেশটির মতে, আলোচনায় অভিন্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণের পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীর মতো বড় প্রকল্পে জাপানের অবদান দুই দেশের বন্ধুত্বের গভীরতার প্রমাণ। এবারের সফরের মাধ্যমে সেই সহযোগিতার ধারা আরও গতিশীল হবে বলে কূটনৈতিক মহলের প্রত্যাশা।
সূত্র: যুগান্তর
























