ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশ পরিচয়ে বুটেক্স শিক্ষার্থীদের পরিবার থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছে পুলিশ সেজে ফোন করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতারকচক্র নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের নাম, মুঠোফোন নম্বর, সহপাঠীদের তথ্য এবং পারিবারিক পরিচিতি ব্যবহার করে অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। মাদক মামলায় গ্রেপ্তার, থানায় সোপর্দ করা কিংবা হল থেকে পুলিশি অভিযানের ভয় দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসহান খান সাম্য জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে তার বাবার ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। কলকারী তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাবি করে যে, আসহান ও তার ব্যাচমেট সুমন সরকারকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে এবং দ্রুত আদালতে তোলা হবে। ফোনে নকল কান্নার শব্দ শুনিয়ে আসহানের বাবাকে আতঙ্কিত করে ২৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়। তিনি পাঁচ হাজার টাকা পাঠালেও পরবর্তীতে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুঝতে পারেন এটি ছিল একটি প্রতারণা।

এ ধরনের অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ধর্ম দত্তও। গত মাসে এক প্রতারক তাকে ফোন করে নিজেকে পুলিশের সদস্য পরিচয় দেয় এবং জাল টাকা লেনদেনের ভুয়া অভিযোগে গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়। ধর্ম দত্ত শুরুতে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলেও প্রতারক তার হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া অভিযোগপত্র ও পুলিশি পরিচয়পত্র পাঠিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর হল থেকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ২৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

একইভাবে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত দাশের মায়ের কাছেও ফোন আসে। কলকারী নিজেকে ঝিনাইদহ থানার ওসি পরিচয় দিয়ে ছেলের জামিনের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করে। তবে সুদীপ্তের মা তাৎক্ষণিকভাবে ছেলের সঙ্গে কথা বলে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, তাদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক তথ্য কীভাবে প্রতারকদের হাতে পৌঁছাল। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বুটেক্সের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষিত রাখা হয় এবং এটি বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে শিক্ষার্থীদের যথাযথ সহযোগিতা করা হবে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ ধরনের প্রতারকচক্রের বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরো জানান, “একপর্যায়ে ২৫ হাজার টাকা প্রতারকচক্র দাবি করলে আমার বাবা পাঁচ হাজার টাকা পাঠান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একপর্যায়ে আমাকে ২৭ হাজার টাকা দিতে বলা হয় এবং টাকা না দিলে হল থেকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে ওই ব্যক্তির দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী বিকাশের মাধ্যমে ২৭ হাজার টাকা পাঠাই তাদের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথমে বিষয়টি বাবা বিশ্বাস না করলেও ফোনে আমার কান্নার মতো একটি কণ্ঠ শোনানো হলে বাবা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ”। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: “তখন আমি ওই ব্যক্তিকে বোঝানোর চেষ্টা করি যে তিনি ভুল নম্বরে যোগাযোগ করেছেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পুলিশ পরিচয়ে বুটেক্স শিক্ষার্থীদের পরিবার থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার

আপডেট সময় : ০৩:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছে পুলিশ সেজে ফোন করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতারকচক্র নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের নাম, মুঠোফোন নম্বর, সহপাঠীদের তথ্য এবং পারিবারিক পরিচিতি ব্যবহার করে অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। মাদক মামলায় গ্রেপ্তার, থানায় সোপর্দ করা কিংবা হল থেকে পুলিশি অভিযানের ভয় দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসহান খান সাম্য জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে তার বাবার ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। কলকারী তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাবি করে যে, আসহান ও তার ব্যাচমেট সুমন সরকারকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে এবং দ্রুত আদালতে তোলা হবে। ফোনে নকল কান্নার শব্দ শুনিয়ে আসহানের বাবাকে আতঙ্কিত করে ২৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়। তিনি পাঁচ হাজার টাকা পাঠালেও পরবর্তীতে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে বুঝতে পারেন এটি ছিল একটি প্রতারণা।

এ ধরনের অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ধর্ম দত্তও। গত মাসে এক প্রতারক তাকে ফোন করে নিজেকে পুলিশের সদস্য পরিচয় দেয় এবং জাল টাকা লেনদেনের ভুয়া অভিযোগে গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়। ধর্ম দত্ত শুরুতে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলেও প্রতারক তার হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া অভিযোগপত্র ও পুলিশি পরিচয়পত্র পাঠিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর হল থেকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ২৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

একইভাবে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত দাশের মায়ের কাছেও ফোন আসে। কলকারী নিজেকে ঝিনাইদহ থানার ওসি পরিচয় দিয়ে ছেলের জামিনের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করে। তবে সুদীপ্তের মা তাৎক্ষণিকভাবে ছেলের সঙ্গে কথা বলে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, তাদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক তথ্য কীভাবে প্রতারকদের হাতে পৌঁছাল। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বুটেক্সের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষিত রাখা হয় এবং এটি বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে শিক্ষার্থীদের যথাযথ সহযোগিতা করা হবে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ ধরনের প্রতারকচক্রের বিষয়ে সর্বোচ্চ সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরো জানান, “একপর্যায়ে ২৫ হাজার টাকা প্রতারকচক্র দাবি করলে আমার বাবা পাঁচ হাজার টাকা পাঠান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একপর্যায়ে আমাকে ২৭ হাজার টাকা দিতে বলা হয় এবং টাকা না দিলে হল থেকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে ওই ব্যক্তির দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী বিকাশের মাধ্যমে ২৭ হাজার টাকা পাঠাই তাদের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথমে বিষয়টি বাবা বিশ্বাস না করলেও ফোনে আমার কান্নার মতো একটি কণ্ঠ শোনানো হলে বাবা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ”। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: “তখন আমি ওই ব্যক্তিকে বোঝানোর চেষ্টা করি যে তিনি ভুল নম্বরে যোগাযোগ করেছেন।

Facebook Comments Box