সিডনির বাসে স্কুলছাত্রীকে ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী’ বলে গালাগাল
- আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে চলন্ত বাসে ১৩ বছর বয়সী এক মুসলিম স্কুলছাত্রীকে ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী’ বলে গালাগাল করার অভিযোগে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। ওমর ইয়াসিন নামের ওই অভিযুক্তকে গত মঙ্গলবার বিকেলে গ্রিনাকর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার তাঁকে ব্যাংকসটাউন স্থানীয় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার। সিডনির স্ট্র্যাথফিল্ড স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসে স্কুল শেষে বাড়ি ফিরছিল জান্না নামের ওই কিশোরী। বাসে গোপনে অন্য এক কিশোরীর ছবি তুলতে দেখে ওমর ইয়াসিনকে সতর্ক করে জান্না। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওমর তাকে গালাগাল শুরু করেন। তিনি জান্নার উদ্দেশে বলেন, ‘তুমি তো অভিবাসী সংকর প্রাণী, এখানে থাকার কোনো অধিকার তোমার নেই।’ জবাবে জান্না বলে, ‘আমার জন্ম এই দেশেই।’
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভ ও মামলা
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওমর ইয়াসিন জান্নাকে ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী’সহ নানা অশালীন ভাষায় আক্রমণ করছেন। বাসে থাকা এক নারী শিক্ষক তাঁর এ ধরনের আচরণের জোরালো প্রতিবাদ করেন। তবে ওমর বাসের নজরদারি ক্যামেরার দিকে আঙুল তুলে ঔদ্ধত্য দেখান। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো অস্ট্রেলিয়াজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার পিটার ম্যাককেনা জানান, ওমরের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভয় দেখানো ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
নেতিবাচক সামাজিক প্রবণতা ও উদ্বেগ
- জান্নার প্রতিক্রিয়াঅন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। তবে ভবিষ্যতেও এমন পরিস্থিতিতে সে একইভাবে প্রতিবাদ করবে।
- মায়ের উদ্বেগজান্নার মা রুলা বলেন, সমাজে বিভেদ সৃষ্টিকারী উগ্র বক্তব্য ক্রমাগত বাড়ছে এবং মুসলিম নারী ও শিশুরা সরাসরি এর শিকার হচ্ছে।
- ইসলামোফোবিয়া রেজিস্টারসংস্থাটি জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামবিদ্বেষ ও অভিবাসীবিরোধী মনোভাবের প্রকাশ্য প্রবণতা বাড়ছে। এখন জনসমাগমের স্থানেও স্কুলপড়ুয়ারা বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হচ্ছে।
- রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াসিনেটর ফাতিমা পেয়ারম্যান ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে ছড়ানো বিদ্বেষমূলক প্রচারণা এই আচরণের পেছনে ভূমিকা রাখছে।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























