ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পুলিশ পরিচয়ে বুটেক্স শিক্ষার্থীদের পরিবার থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ শয্যার ডেঙ্গু ইউনিট চালু দীর্ঘ এক যুগ পর ঢাকায় ফিরছে বাটেক্সপো ২০২৬ মানবতার নিঃশব্দ পদচারণা: বাংলাদেশে ইতালীয়দের অবদান ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০০ শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা দেবে সরকার ক্ষেতলালে ভুয়া ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট দিয়ে কোটি টাকা সৌদি আরবের সুরক্ষায় শর্তহীন প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানের ফুটবলের বাস্তবতা বুঝেন না অনেকে: কোচ ডুলি ৮৩ দ্বীপের ভানুয়াতু: প্রশান্ত মহাসাগরের এক অনন্য বৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশ-চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি কোম্পানিতে বড় নিয়োগ

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ শয্যার ডেঙ্গু ইউনিট চালু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিল্পনগরী খুলনায় প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের নির্ধারিত ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দা, মেঝে ও করিডোরেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) মশক নিধন অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও এডিস মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগ নগরবাসীকে সতর্কতা অবলম্বন ও বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের সক্ষমতা ৫০০ শয্যা হলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ২ হাজার রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ধারণক্ষমতার চারগুণেরও বেশি রোগী থাকায় হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরের বিভিন্ন স্থানেও রোগীদের জায়গা নিতে হয়েছে। অনেক রোগী ও স্বজনদের একটি বেড খালি হওয়ার অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে খুলনা নগরী ছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে গুরুতর রোগীদের এখানে পাঠানোয় চাপ আরও বাড়ছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের পুরোনো জরুরি বিভাগে নতুন ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ইউনিট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উদ্যোগের অংশ হিসেবে কেসিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একদিনের বেতনের অনুদানে ৩০টি আধুনিক বেড কেনা হয়েছে। সব প্রস্তুতি শেষে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে এই ৩০ শয্যার নতুন ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আইনুল ইসলাম জানান, এই ইউনিট চালু হওয়ায় সাধারণ রোগীদের ওপর কিছুটা চাপ কমবে। নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বেড স্থাপনের পাশাপাশি অক্সিজেন সরবরাহ, পর্যাপ্ত ওষুধ এবং চিকিৎসক ও নার্সের উপস্থিতি নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় নতুন করে ৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ৬৬ জন সরকারি ও ২৭ জন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ৮০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে খুলনায় মোট ১৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন এবং এ পর্যন্ত জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে। এছাড়া বর্তমানে মোট ৬৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

ডেঙ্গুর এই প্রকোপের কারণে নগরীতে রক্তের তীব্র সংকটও দেখা দিয়েছে। রোগীদের স্বজনরা রক্তের সন্ধানে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। যদিও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অপ্রতুল। নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাবুল হাওলাদার মন্তব্য করেছেন যে, শুধুমাত্র হাসপাতালে শয্যা বাড়িয়ে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য মাঠ পর্যায়ে মশক নিধন ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন একজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে নগরীর অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেও রোগীর চাপ বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় রক্ত জোগাড় করতে গিয়ে দিন – রাত এক করছেন স্বজনরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তা না হলে সামনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ শয্যার ডেঙ্গু ইউনিট চালু

আপডেট সময় : ০২:৫৩:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিল্পনগরী খুলনায় প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। শয্যা সংকটের কারণে হাসপাতালের নির্ধারিত ওয়ার্ডের বাইরে বারান্দা, মেঝে ও করিডোরেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) মশক নিধন অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও এডিস মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগ নগরবাসীকে সতর্কতা অবলম্বন ও বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের সক্ষমতা ৫০০ শয্যা হলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ২ হাজার রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ধারণক্ষমতার চারগুণেরও বেশি রোগী থাকায় হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরের বিভিন্ন স্থানেও রোগীদের জায়গা নিতে হয়েছে। অনেক রোগী ও স্বজনদের একটি বেড খালি হওয়ার অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে খুলনা নগরী ছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে গুরুতর রোগীদের এখানে পাঠানোয় চাপ আরও বাড়ছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের পুরোনো জরুরি বিভাগে নতুন ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ইউনিট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উদ্যোগের অংশ হিসেবে কেসিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একদিনের বেতনের অনুদানে ৩০টি আধুনিক বেড কেনা হয়েছে। সব প্রস্তুতি শেষে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে এই ৩০ শয্যার নতুন ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আইনুল ইসলাম জানান, এই ইউনিট চালু হওয়ায় সাধারণ রোগীদের ওপর কিছুটা চাপ কমবে। নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব ধরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বেড স্থাপনের পাশাপাশি অক্সিজেন সরবরাহ, পর্যাপ্ত ওষুধ এবং চিকিৎসক ও নার্সের উপস্থিতি নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা জেলায় নতুন করে ৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ৬৬ জন সরকারি ও ২৭ জন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ৮০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে খুলনায় মোট ১৭৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন এবং এ পর্যন্ত জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে। এছাড়া বর্তমানে মোট ৬৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

ডেঙ্গুর এই প্রকোপের কারণে নগরীতে রক্তের তীব্র সংকটও দেখা দিয়েছে। রোগীদের স্বজনরা রক্তের সন্ধানে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। যদিও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো রক্ত সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অপ্রতুল। নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বাবুল হাওলাদার মন্তব্য করেছেন যে, শুধুমাত্র হাসপাতালে শয্যা বাড়িয়ে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য মাঠ পর্যায়ে মশক নিধন ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন একজন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে নগরীর অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেও রোগীর চাপ বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় রক্ত জোগাড় করতে গিয়ে দিন – রাত এক করছেন স্বজনরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তা না হলে সামনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

Facebook Comments Box