নাবালিকা বিয়ের আয়োজন ভেঙে দিল উপজেলা প্রশাসন
- আপডেট সময় : ১১:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫ ৯৭ বার পড়া হয়েছে
নাবালিকা বিয়ের আয়োজন ভেঙে দিল উপজেলা প্রশাসন
নাবালিকা বিয়ের আয়োজন ভেঙে দিল উপজেলা প্রশাসন।
যমুনার ধারে শান্ত, নিভৃত গ্রাম চরজাজুরিয়া। গাঙের হাওয়া যেখানে সন্ধ্যায় কিশোরীদের চুল উড়িয়ে দেয়, সেখানে শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঘটতে চলেছিল এক নিরীহ প্রতিচ্ছবির অন্তরালে নিষ্ঠুর একটি আয়োজন, দুই কিশোরীকে নাবালিকা বয়সেই তুলে দেওয়া হচ্ছিল বিবাহের বন্ধনে।
একটানা বইতে থাকা যমুনার মতোই যেন দুই মেয়ের জীবনও প্রবাহিত হতে যাচ্ছিল এক অন্ধকার স্রোতের দিকে। কিন্তু সেই স্রোতের মুখে বাঁধ হয়ে দাঁড়ালেন চৌহালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি শুধু একটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেননি, তিনি যেন দুটি ভবিষ্যৎকে নতুন আলো দেখালেন।
জানা গেছে, উপজেলার ঘোড়জান ইউনিয়নের চরজাজুরিয়া গ্রামে একইদিনে পাশাপাশি দুই ঘরে চলছিল বিয়ের আয়োজন। বরযাত্রীও হাজির, বাদ পড়েনি বিয়ের সাজসজ্জা। অথচ দুই কনের একজনও পা রাখেনি adulthood-এর দোরগোড়ায়; উভয়েই নবম শ্রেণির ছাত্রী।অভিভাবকেরা জাল জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে নিয়েছেন মেয়ের বয়স, আর আয়োজন করেছেন বিবাহের।
ঠিক তখনই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউএনও মো. মোস্তাফিজুর রহমান জুমার নামাজের পরপরই ছুটে যান ঘটনাস্থলে। তার উপস্থিতিতে থমকে যায় বিয়ের কোলাহল। প্রমাণসহ পাওয়া যায় বয়স জালিয়াতির চিত্র। দুই পরিবারকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয় এবং নেওয়া হয় মুচলেকা, প্রাপ্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে না।
পড়ুন>> ডাব্বা নামক জুয়া আর মাদকে সয়লাব তাহিরপুরের শ্রীপুর বাজার
তিনি আরও নির্দেশনা দেন, দুই কিশোরী যেন লেখাপড়ার পথেই থাকে, এবং তাদের ভবিষ্যৎ যেন বিকশিত হয় আলোর পথে, অন্ধকারে নয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন চৌহালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোয়েবুর ইসলাম, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইউপি সদস্যবৃন্দ, পুলিশ ও আনসার বাহিনী।
চৌহালীর ইউএনও বলেন, “বাল্যবিবাহ শুধু আইন ভঙ্গ নয়, এটি একটি কিশোরীর জীবনে সম্ভাবনা হত্যার নামান্তর। আমরা যতোক্ষণ দায়িত্বে আছি, ততোক্ষণ এমন অন্যায় সহ্য করব না। সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিককেই এই লড়াইয়ে শামিল হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নারীর জীবনের শৈশব, শিক্ষা ও স্বপ্নকে কুঁচকে ফেলে দেয় এই বাল্যবিবাহ। তাই সমাজের সবাইকে আহ্বান জানাই—এই অপচেষ্টা যেখানে দেখবেন, সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানান। আমরা বাল্যবিবাহ রোধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করবো।”
এই একটি হস্তক্ষেপ যেন শুধু একটি বিয়ে থামায়নি, এটি থামিয়েছে দুইটি কিশোরী স্বপ্নের আগাম মৃত্যুকে, কণ্ঠরুদ্ধ এক ভবিষ্যতের অন্ধকারকে। প্রশাসনের এমন মানবিক ও দৃঢ় ভূমিকা সমাজে জাগিয়ে তোলে আশা, শিক্ষা দেয় প্রতিরোধ, আর ছড়িয়ে দেয় আশ্বস্তির বাতাস, যমুনার পাড় পেরিয়ে গোটা বাংলায়।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























