ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে দেড় ঘণ্টা গোলাগুলি ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে জামানত হারালেন চরমোনাইয়ের প্রার্থীসহ তিনজন প্রতিবন্ধকতা জয় করে পা দিয়ে লিখে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ: অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে স্বপ্ন ছোঁয়া কলি রানীর গল্প আলোর পথে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ ৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস, শেফালীর সাফল্যে গর্বিত পরিবার পিংক অক্টোবর শেষ, ক্যানসার চিকিৎসায় বিশেষ কর্মসূচিতে সিএসসিআর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পিসিডিতে ২২০ জনের বড় নিয়োগ দোহায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তুতি শ্রমিক অসন্তোষ: সাভার-আশুলিয়ার ১৭৭ কারখানায় ছুটি ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিনের বদলি

আলোর পথে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনের ৬৫ জন সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার নিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল উপস্থিত ছিলেন। তারা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সে জন্য আইনি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। পরে অস্ত্র জমা দেওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ফারজানা শারমিন বলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। একসময় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এসব জেলার চরমপন্থী সংগঠনের অনেক সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন।

এসআরবি-১২-এর তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে পাবনা থেকে ৪৫ জন, রাজবাড়ী থেকে ১৩ জন এবং সিরাজগঞ্জ থেকে সাতজন রয়েছেন। এরা বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি ও নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। নাম ভিন্ন হলেও তাঁরা সবাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ভুল বুঝে যারা অন্ধকার পথে পা বাড়িয়েছিলেন, তাঁরা এখন নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা হবে। পাশাপাশি, গত ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য থাকলে এসআরবিকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছরের নানা জটিলতা ও সমস্যা সমাধানে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও জানান তিনি। এসআরবির সদস্যদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আত্মসমর্পণকারীদের কাছে তথ্য থাকলে এসআরবিকে সহায়তা করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। যখন নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস পেতাম না, তখন অনেককে দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তেন।’।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসআরবি-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়া। এতে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান, এসআরবির মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবিব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ ও রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শাহানা আখতার জাহান। বক্তারা জানান, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে থাকা হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার আইনগত দিকগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেবে সরকার। এ ছাড়া মামলা নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আত্মসমর্পণকারী রাজবাড়ীর বাসিন্দা সালমান শাহ বলেন, সরকার ভালো হওয়ার সুযোগ দিয়েছে, তাই দুই ভাই মিলে এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে এসেছি। পাবনার বাবু মিয়া জানান, ভুল পথে জড়িয়ে তাঁর জীবনের ১৫টি বছর হারিয়ে গেছে, এখন পরিবার নিয়ে সুন্দরভাবে বাঁচতে চান। মাজেদ আলী মুন্সী ও আলমগীর নামের অপর দুই সদস্য জানান, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও দস্যুবৃত্তির জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে পেরে তাঁরা আশ্বস্ত বোধ করছেন। আরেক আত্মসমর্পণকারী পাবনার বাবু মিয়া ওরফে আইনুল হোসেন বলেন, ভুল পথে চলতে চলতে অনেক কিছু হারিয়েছেন। এভাবে তাঁর জীবন থেকে ১৫ বছর চলে গেছে। আলমগীর নামের আরেকজন বলেন, ‘আমরা একেক সময় একেক জায়গায় থাকতাম।

উল্লেখ্য, অতীতেও সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী অঞ্চলে চরমপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কাছে শতাধিক সদস্য অস্ত্র জমা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় ৫৯৬ জন এবং ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে সাত জেলার ৩২৩ জন চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করেছিলেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সর্বশেষ এই ৬৫ জন সদস্য আইনশৃঙ্খলার পথে ফিরে এলেন। এতে এলাকাগুলোতে চরমপন্থীদের তৎপরতা অনেক কমে এসেছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আলোর পথে তিন জেলার ৬৫ জন চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ

আপডেট সময় : ০৮:৫২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনের ৬৫ জন সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার নিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল উপস্থিত ছিলেন। তারা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সে জন্য আইনি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হবে। পরে অস্ত্র জমা দেওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ফারজানা শারমিন বলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। একসময় সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, ডাকাতি, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এসব জেলার চরমপন্থী সংগঠনের অনেক সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন।

এসআরবি-১২-এর তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে পাবনা থেকে ৪৫ জন, রাজবাড়ী থেকে ১৩ জন এবং সিরাজগঞ্জ থেকে সাতজন রয়েছেন। এরা বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি ও নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। নাম ভিন্ন হলেও তাঁরা সবাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ভুল বুঝে যারা অন্ধকার পথে পা বাড়িয়েছিলেন, তাঁরা এখন নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা হবে। পাশাপাশি, গত ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য থাকলে এসআরবিকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছরের নানা জটিলতা ও সমস্যা সমাধানে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও জানান তিনি। এসআরবির সদস্যদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আত্মসমর্পণকারীদের কাছে তথ্য থাকলে এসআরবিকে সহায়তা করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। যখন নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস পেতাম না, তখন অনেককে দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তেন।’।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসআরবি-১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়া। এতে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান, এসআরবির মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবিব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ ও রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শাহানা আখতার জাহান। বক্তারা জানান, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে থাকা হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার আইনগত দিকগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেবে সরকার। এ ছাড়া মামলা নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আত্মসমর্পণকারী রাজবাড়ীর বাসিন্দা সালমান শাহ বলেন, সরকার ভালো হওয়ার সুযোগ দিয়েছে, তাই দুই ভাই মিলে এই অন্ধকার পথ থেকে ফিরে এসেছি। পাবনার বাবু মিয়া জানান, ভুল পথে জড়িয়ে তাঁর জীবনের ১৫টি বছর হারিয়ে গেছে, এখন পরিবার নিয়ে সুন্দরভাবে বাঁচতে চান। মাজেদ আলী মুন্সী ও আলমগীর নামের অপর দুই সদস্য জানান, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও দস্যুবৃত্তির জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে পেরে তাঁরা আশ্বস্ত বোধ করছেন। আরেক আত্মসমর্পণকারী পাবনার বাবু মিয়া ওরফে আইনুল হোসেন বলেন, ভুল পথে চলতে চলতে অনেক কিছু হারিয়েছেন। এভাবে তাঁর জীবন থেকে ১৫ বছর চলে গেছে। আলমগীর নামের আরেকজন বলেন, ‘আমরা একেক সময় একেক জায়গায় থাকতাম।

উল্লেখ্য, অতীতেও সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী অঞ্চলে চরমপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। ১৯৯৮ সালে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কাছে শতাধিক সদস্য অস্ত্র জমা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনায় ৫৯৬ জন এবং ২০২৩ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জে সাত জেলার ৩২৩ জন চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করেছিলেন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সর্বশেষ এই ৬৫ জন সদস্য আইনশৃঙ্খলার পথে ফিরে এলেন। এতে এলাকাগুলোতে চরমপন্থীদের তৎপরতা অনেক কমে এসেছে।

Facebook Comments Box