ঢাকা ০১:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের র‍্যালিতে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ লেখা ব্যানার প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার কক্সবাজার বিমানবন্দর: রানওয়ে ও টার্মিনাল প্রস্তুত শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় ১০ দফা দাবি আদর্শ বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় ১৪২ পদে নিয়োগ, আবেদনের নিয়ম মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি পরিদর্শনে মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি হাকিমপুরে ২২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বিধবা সুফিয়া গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো ইচ্ছা নেই: তথ্যমন্ত্রী রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানাল জামায়াত মালয়েশিয়ায় পাহাড়ধসে নিখোঁজ বাংলাদেশির সন্ধান মিলল

রাঙামাটিতে শান্তি ফেরাতে দরকার আস্থা ও সংলাপের সেতুবন্ধন

মোখলেছুর রহমান
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫ ৭১৬১ বার পড়া হয়েছে

রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

রাঙামাটিতে শান্তি ফেরাতে দরকার আস্থা ও সংলাপের সেতুবন্ধন

 

রাঙামাটিতে শান্তি ফেরাতে দরকার আস্থা ও সংলাপের সেতুবন্ধন।
সাম্প্রতিক রাঙামাটিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করেছে, পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থার ঘাটতি এবং পুরনো দ্বন্দ্ব এখনো মিটেনি। ছোট একটি উত্তেজনা মুহূর্তেই বড় সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে নিরীহ মানুষকে। রাঙামাটির মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা শুধু স্থানীয় স্থিতিশীলতাকেই নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

 

 

প্রতিটি ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হলে জনগণ ন্যায়বিচারে আস্থা পাবে, আর গুজব ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে। প্রশাসনের উচিত হবে দ্রুত পদক্ষেপের পাশাপাশি সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ মেটানো।

 

 

পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের একত্রিত করে আলোচনার টেবিলে বসানো হলে দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝি কমতে পারে।

পড়ুন>> দুর্গাপূজায় অসুর রূপে বিশ্বনেতা: শিল্প না রাজনীতি?

 

উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, উন্নয়ন প্রকল্পে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত উপেক্ষিত হয়। ফলে তারা বঞ্চিত বোধ করে। প্রকৃত শান্তির জন্য উন্নয়নে অংশগ্রহণ ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

তরুণ প্রজন্মকে সুযোগ দিতে হবে। কর্মসংস্থানের অভাব এবং শিক্ষার ঘাটতি তাদের হতাশায় ঠেলে দেয়। পর্যটন, কৃষি ও স্থানীয় শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ালে শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হবে।

 

 

রাঙামাটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য শক্তি প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া, সংলাপ এবং ন্যায়বিচার। পাহাড়ি ও সমতলের মানুষের মধ্যে যদি আস্থা ও সহমর্মিতা তৈরি হয়, তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আর দীর্ঘমেয়াদি অশান্তি কোনোভাবেই স্থায়ী হতে পারবে না। রাঙামাটি শান্তি ও সহাবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠুক, এটাই প্রত্যাশা।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাঙামাটিতে শান্তি ফেরাতে দরকার আস্থা ও সংলাপের সেতুবন্ধন

আপডেট সময় : ১০:১৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ অক্টোবর ২০২৫

 

 

রাঙামাটিতে শান্তি ফেরাতে দরকার আস্থা ও সংলাপের সেতুবন্ধন

 

রাঙামাটিতে শান্তি ফেরাতে দরকার আস্থা ও সংলাপের সেতুবন্ধন।
সাম্প্রতিক রাঙামাটিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আবারও প্রমাণ করেছে, পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থার ঘাটতি এবং পুরনো দ্বন্দ্ব এখনো মিটেনি। ছোট একটি উত্তেজনা মুহূর্তেই বড় সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে নিরীহ মানুষকে। রাঙামাটির মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা শুধু স্থানীয় স্থিতিশীলতাকেই নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

 

 

প্রতিটি ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য। দোষীদের আইনের আওতায় আনা হলে জনগণ ন্যায়বিচারে আস্থা পাবে, আর গুজব ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে। প্রশাসনের উচিত হবে দ্রুত পদক্ষেপের পাশাপাশি সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ মেটানো।

 

 

পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের একত্রিত করে আলোচনার টেবিলে বসানো হলে দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝি কমতে পারে।

পড়ুন>> দুর্গাপূজায় অসুর রূপে বিশ্বনেতা: শিল্প না রাজনীতি?

 

উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, উন্নয়ন প্রকল্পে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত উপেক্ষিত হয়। ফলে তারা বঞ্চিত বোধ করে। প্রকৃত শান্তির জন্য উন্নয়নে অংশগ্রহণ ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

তরুণ প্রজন্মকে সুযোগ দিতে হবে। কর্মসংস্থানের অভাব এবং শিক্ষার ঘাটতি তাদের হতাশায় ঠেলে দেয়। পর্যটন, কৃষি ও স্থানীয় শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ালে শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হবে।

 

 

রাঙামাটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য শক্তি প্রয়োগ নয়, প্রয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া, সংলাপ এবং ন্যায়বিচার। পাহাড়ি ও সমতলের মানুষের মধ্যে যদি আস্থা ও সহমর্মিতা তৈরি হয়, তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আর দীর্ঘমেয়াদি অশান্তি কোনোভাবেই স্থায়ী হতে পারবে না। রাঙামাটি শান্তি ও সহাবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠুক, এটাই প্রত্যাশা।

 

 

Facebook Comments Box