সুস্থতার চর্চায় স্মার্ট ওয়াচ বা গায়ে পরিধানযোগ্য ডিভাইসের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। মানসম্মত ডিভাইস নিঃসন্দেহে উপকারী, তবে এর দেওয়া সব তথ্যই যে শতভাগ সঠিক—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ক্যালরি পোড়ানোর হিসাব বা ব্যায়ামের মাত্রা বোঝার ক্ষেত্রে এই যন্ত্রগুলো আপনাকে উৎসাহ দিতে পারে। স্মার্টফোনের সঙ্গে সমন্বিত হয়ে তথ্যের অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতেও এগুলো সাহায্য করে। তবে মনে রাখবেন, বিশেষ করে হৃৎপিণ্ডের সমস্যা থাকলে এটি কেবল একটি সহায়ক যন্ত্র মাত্র।
দৈনন্দিন হাঁটার লক্ষ্য হিসেবে ১০ হাজার কদম না হলেও অন্তত ৪ থেকে ৭ হাজার কদম হাঁটার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারেন। স্মার্ট ওয়াচ আপনাকে পদক্ষেপ ও দূরত্ব সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। তবে ক্যালরি খরচের সঠিক হিসাব পেতে ডিভাইসে নিজের ওজন, লিঙ্গ ও ব্যায়ামের ধরন অনুযায়ী তথ্যগুলো সঠিকভাবে ইনপুট দেওয়া জরুরি। সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি বা ৭৫ মিনিট তীব্র ব্যায়ামের লক্ষ্য পূরণে হৃৎপিণ্ডের গতি পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ, যা মানসম্পন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে সম্ভব। ব্যায়ামের পর হৃৎপিণ্ডের গতি প্রতি মিনিটে অন্তত ২০ বিট হারে কমে আসা সুস্থতার লক্ষণ।
কিছু ডিভাইসে ঘুমের রেকর্ড রাখা বা ম্যাক্সিমাল অক্সিজেন কনজাম্পশন (ভিওটু ম্যাক্স) পরিমাপের সুবিধা থাকে। এগুলো নিখুঁত না হলেও তথ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া হার্ট অ্যাটাক বা হৃৎস্পন্দনের বিচ্যুতি শনাক্তকরণ ও ইসিজি করার সুবিধাও কিছু স্মার্ট ওয়াচে রয়েছে। কেউ নির্জন স্থানে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়লে স্মার্টফোন সেই সংকেতও দিতে পারে।
ডিভাইস নির্বাচনের ক্ষেত্রে জিপিএস, অলটিমিটার বা ওয়াটারপ্রুফ ফিচারের মতো প্রয়োজন অনুযায়ী ফিচার দেখে ভালো ব্র্যান্ডের মানসম্পন্ন যন্ত্র কেনা উচিত। সাইকেল চালানোর অভ্যাস থাকলে জিপিএস সুবিধাসমেত যন্ত্র কিনলে গতির হিসাব রাখা সহজ হয়। পাহাড় বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার মতো কাজের জন্য অলটিমিটার সুবিধাযুক্ত যন্ত্র ক্যালরি খরচের হিসাব তুলনামূলক নিখুঁতভাবে দিতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, কবজিতে বাঁধা যন্ত্র রক্তচাপের সঠিক ধারণা দিতে পারে না এবং ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট যন্ত্র সাঁতার কাটার জন্য উপযুক্ত নয়; এর জন্য সম্পূর্ণ ওয়াটারপ্রুফ যন্ত্র প্রয়োজন। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে নড়াচড়ার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার মতো ফিচারও কিছু ডিভাইসে থাকে।
সবশেষে, সুস্থতা চর্চায় এ ধরনের ডিভাইস সঙ্গী হতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি যন্ত্রনির্ভর না হয়ে নিজের শরীরের ভাষাও বুঝতে চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত চাপ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং নিয়মমাফিক পদ্ধতিতে সুস্থতার চর্চা চালিয়ে যান।
Leave a Reply