পিরোজপুর জেলায় গত কয়েকদিন ধরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ২ হাজার ৮৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৯৯২ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে পিরোজপুরেই ডেঙ্গু আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ৯৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ১৮ জন, নেছারাবাদে ১২ জন, ভান্ডারিয়ায় ১১ জন, কাউখালীতে ৪ জন এবং মঠবাড়িয়ায় ৫ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে আরও ১৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে ধারণক্ষমতার প্রায় তিন গুণ রোগী ভর্তি থাকায় চরম অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে। শয্যা সংকটের কারণে মেঝে ও বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের পাশাপাশি জনবল সংকটের কারণে কর্তৃপক্ষ সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ পার্শ্ববর্তী বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ, ঝালকাঠি এবং গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী ফাহিমা সুলতানা জানান, জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে ভর্তি হলেও বেড না পাওয়ায় তাকে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। করিমন বেগম নামে আরেক রোগী জানান, সাধারণ রোগীদের সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের একই স্থানে রাখায় সংক্রমণের আতঙ্ক কাজ করছে। টাইফয়েড আক্রান্ত ইমরান নামে এক রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও লোডশেডিংয়ের সময় তা চালানো হয় না, ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
রোগীর স্বজন লোকমান হাওলাদার জানান, চিকিৎসা সেবা মোটামুটি পাওয়া গেলেও নার্স ও চিকিৎসকের স্বল্পতা রয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা রুমের ব্যবস্থা করা হলে ঝুঁকি কমত।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথা জানিয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রয়েছে। জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার চালু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ভর্তি প্রত্যেক ডেঙ্গু রোগীকে মশারি ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেউ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করছেন, কেউ হাতে স্যালাইন নিয়ে অপেক্ষায়, আবার কেউ ব্যস্ত রোগীর সেবায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্তমানে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে বিপুলসংখ্যক রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালজুড়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ভর্তি রয়েছেন ২৬ জন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আক্রান্তদের মধ্যে শিশু, নারী ও পুরুষ সব বয়সী মানুষ রয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে অবস্থা খারাপ হলে আজ দুপুরে হাসপাতালে আসি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: করিমন বেগম নামে অপর রোগী বলেন, “সোমবার কিডনির সমস্যা নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন কিছুটা সুস্থ্য হলেও আতঙ্কে আছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একদিকে মেঝেতে চলার পথে রোগী অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকালে কি যে অবস্থা হয় তা বোঝানো যাবে না।
সূত্র: রাইজিংবিডি
মন্তব্য করুন