ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নওগাঁয় সড়কে ছিনতাই ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তে না ফেরার দেশে সাংবাদিক ও সাবেক এমপি মুহম্মদ শফিকুর রহমান বিশ্বের ৯৬ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর বাস্তুতন্ত্র সংকটের মুখে জরিমানা আদায়: পাবনায় পরিবেশ দূষণ রোধে অভিযান সংবিধান সংশোধন কমিটির নবম বৈঠক: প্রাধান্য পাচ্ছে জুলাই সনদ জামালপুরে বিজিবির অভিযানে ৯০ লাখ টাকার ভারতীয় কাপড় জব্দ প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো নিয়মিত প্রক্রিয়া জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগে নতুন দিল্লি বিমানবন্দরে হয়রানির নেপথ্যে সিইসির ভাই: অভিযোগ মানসিংহের

ম্যারাডোনার মৃত্যুতে চিকিৎসকদের বিচার: রায়ের দিনক্ষণ ঘোষণা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আর্জেন্টিনার ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকদের অবহেলার দায়ে দায়েরকৃত মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২২ ডিসেম্বর। বৃহস্পতিবার আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে এই তারিখ ঘোষণা করে। প্রায় ছয় মাস ধরে চলে আসা এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। শেষ দিনে মামলার প্রধান আসামি ও ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লেওপোলদো লুকেসহ অভিযুক্তরা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন। এতে ম্যারাডোনার মেয়েরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে তিগ্রে শহরে নিজের ভাড়া করা বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ম্যারাডোনা। ছোট অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকাকালীন তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। ম্যারাডোনার মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্‌যন্ত্র বিকল ও ফুসফুসে পানি জমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুকালে বুয়েনস আইরেসের উত্তরের তিগ্রে শহরে একটি বাড়িতে ছিলেন। ছোট একটি মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার জন্য বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তার মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকে ডুবে যায়। পুরো বিচারে আসামিদের মধ্যে লুকেই ছিলেন সবচেয়ে আক্রমণাত্মক।

তদন্তকারী কৌঁসুলিদের দাবি, ম্যারাডোনার মৃত্যুটি আগে থেকেই আঁচ করা সম্ভব ছিল এবং যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। কৌঁসুলিরা এই মামলায় সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতির অভিযোগ এনেছেন। প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে আসামিদের ৪ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান চিকিৎসক লেওপোলদো লুকের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছরের সাজার সুপারিশ করা হয়েছে। মামলায় সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিচার হয়েছে। সাতজনের মধ্যে ছয়জনের জন্য চার থেকে ১২ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। তখন কোভিড-১৯ মহামারি চলছিল।

আদালতে নিজের নির্দোষ দাবি করে লেওপোলদো লুকে বলেন, তিনি তাকে একজন আদর্শ ও বন্ধু হিসেবে গভীর ভালোবাসা ও যত্ন করতেন। তাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে দাবি করে লুকের আইনজীবীরা কৌঁসুলিদের যুক্তি খণ্ডন করেছেন। তারা মামলার শুনানিকালে অডিও রেকর্ড এবং ময়নাতদন্তের ভিডিও ফুটেজসহ বৈজ্ঞানিক তথ্য উপস্থাপন করেন, যা নিয়ে ম্যারাডোনার পরিবারের সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিজেকে জড়ানো হচ্ছে মনে হলে তিনি বারবার কথা বলেছেন। এমনকি ম্যারাডোনার ময়নাতদন্তের ভিডিও দেখিয়েছেন।

ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা ম্যারাডোনা আদালতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বাবার প্রাপ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি প্রশ্ন—হাসপাতালে না রেখে ম্যারাডোনাকে ব্যক্তিগত বাড়িতে সুস্থ হওয়ার জন্য রাখা কি চিকিৎসকদের বড় ভুল ছিল? প্রসিকিউটরদের মতে, বাড়িতে কোনো জরুরি চিকিৎসার সরঞ্জাম, ডিফিব্রিলেটর বা অ্যাম্বুলেন্স না থাকা ছিল আসামিদের বড় ধরনের গাফিলতি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে শ্বাসকষ্টসহ বিপদের স্পষ্ট লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও যত্নকারীরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আশা করি আমার বাবা ন্যায়বিচার পাবেন, যা তার প্রাপ্য। ৭০ জনের বেশি সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ম্যারাডোনার মৃত্যুতে চিকিৎসকদের বিচার: রায়ের দিনক্ষণ ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৩:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

আর্জেন্টিনার ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকদের অবহেলার দায়ে দায়েরকৃত মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২২ ডিসেম্বর। বৃহস্পতিবার আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে এই তারিখ ঘোষণা করে। প্রায় ছয় মাস ধরে চলে আসা এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। শেষ দিনে মামলার প্রধান আসামি ও ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক লেওপোলদো লুকেসহ অভিযুক্তরা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন। এতে ম্যারাডোনার মেয়েরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে তিগ্রে শহরে নিজের ভাড়া করা বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন ম্যারাডোনা। ছোট অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকাকালীন তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। ম্যারাডোনার মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্‌যন্ত্র বিকল ও ফুসফুসে পানি জমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুকালে বুয়েনস আইরেসের উত্তরের তিগ্রে শহরে একটি বাড়িতে ছিলেন। ছোট একটি মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার জন্য বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তার মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকে ডুবে যায়। পুরো বিচারে আসামিদের মধ্যে লুকেই ছিলেন সবচেয়ে আক্রমণাত্মক।

তদন্তকারী কৌঁসুলিদের দাবি, ম্যারাডোনার মৃত্যুটি আগে থেকেই আঁচ করা সম্ভব ছিল এবং যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। কৌঁসুলিরা এই মামলায় সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতির অভিযোগ এনেছেন। প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে আসামিদের ৪ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান চিকিৎসক লেওপোলদো লুকের জন্য সর্বোচ্চ ১২ বছরের সাজার সুপারিশ করা হয়েছে। মামলায় সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিচার হয়েছে। সাতজনের মধ্যে ছয়জনের জন্য চার থেকে ১২ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। তখন কোভিড-১৯ মহামারি চলছিল।

আদালতে নিজের নির্দোষ দাবি করে লেওপোলদো লুকে বলেন, তিনি তাকে একজন আদর্শ ও বন্ধু হিসেবে গভীর ভালোবাসা ও যত্ন করতেন। তাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হচ্ছে দাবি করে লুকের আইনজীবীরা কৌঁসুলিদের যুক্তি খণ্ডন করেছেন। তারা মামলার শুনানিকালে অডিও রেকর্ড এবং ময়নাতদন্তের ভিডিও ফুটেজসহ বৈজ্ঞানিক তথ্য উপস্থাপন করেন, যা নিয়ে ম্যারাডোনার পরিবারের সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিজেকে জড়ানো হচ্ছে মনে হলে তিনি বারবার কথা বলেছেন। এমনকি ম্যারাডোনার ময়নাতদন্তের ভিডিও দেখিয়েছেন।

ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা ম্যারাডোনা আদালতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বাবার প্রাপ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। মামলার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি প্রশ্ন—হাসপাতালে না রেখে ম্যারাডোনাকে ব্যক্তিগত বাড়িতে সুস্থ হওয়ার জন্য রাখা কি চিকিৎসকদের বড় ভুল ছিল? প্রসিকিউটরদের মতে, বাড়িতে কোনো জরুরি চিকিৎসার সরঞ্জাম, ডিফিব্রিলেটর বা অ্যাম্বুলেন্স না থাকা ছিল আসামিদের বড় ধরনের গাফিলতি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে শ্বাসকষ্টসহ বিপদের স্পষ্ট লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও যত্নকারীরা কোনো ব্যবস্থা নেননি। ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আশা করি আমার বাবা ন্যায়বিচার পাবেন, যা তার প্রাপ্য। ৭০ জনের বেশি সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

Facebook Comments Box