ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ড হ্যারি ব্রুকের কাউনিয়ায় ডোবার পানিতে গড়িয়ে পড়া খেলনা গাড়ি তুলতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু ব্যাটে-বলে বিশ্ব কাঁপানো ১০ অলরাউন্ডারের ক্রিকেট মহাকাব্য কাউনিয়ায় যুবদলের প্রস্তুস্তি সভা ছাত্র-ছাত্রীদের মানবিক মানুষ হওয়ার আহবান হারাগাছ অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে এসএসসি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে টোকিও থাকছেন না রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন: আগামী ১০ বছরেরও শেখ হাসিনা ফেরার সম্ভাবনা নেই নির্বিঘ্নে পূজা সম্পন্নে আইজিপিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের ধন্যবাদ সৎ পরিবেশ না থাকায় নিকৃষ্টরা এমপি-মন্ত্রী হন: স্পিকার

ব্যাটে-বলে বিশ্ব কাঁপানো ১০ অলরাউন্ডারের ক্রিকেট মহাকাব্য

সৃষ্টি ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ব্যাটে-বলে বিশ্ব কাঁপানো ১০ অলরাউন্ডারের ক্রিকেট মহাকাব্য

ক্রিকেট মাঠে অলরাউন্ডারের ভূমিকা অত্যন্ত অমূল্য। একজন খেলোয়াড় যখন ক্রিজে দলের রান বাড়াতে সমর্থ হন এবং একইসঙ্গে বোলিং হাতে প্রতিপক্ষের উইকেট তুলে নিতে পারেন, তখন তিনি দলের জন্য বড় শক্তিতে পরিণত হন। ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই সমান পারদর্শিতা দেখিয়ে যারা বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছেন, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারফরম্যান্স, ম্যাচ জেতানোর দক্ষতা ও ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে অলরাউন্ডারদের বিশেষ মূল্যায়ন করা হয়।

 

পরিসংখ্যান, দীর্ঘদিনের পারফরম্যান্স, ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য ও ব্যাট-বলের ভারসাম্য বিবেচনায় ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ১০ অলরাউন্ডারকে নিয়ে এই আয়োজন। চলুন তাদের সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। ব্যক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য তাকে ক্রিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী অলরাউন্ডারে পরিণত করেছে। তাঁর বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ, সুইং এবং ধারাবাহিকতা তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর পেসারে পরিণত করেছিল।

 

 

জাতীয় দল বাদেও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও ব্যাট-বল দুটো হাতেই মাঠ মাতিয়েছেন তিনি। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ক্ষেত্রে সাকিবের অবদান উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার শৃঙ্খলাপূর্ণ বোলিং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করত। ম্যাচের কঠিন সময়ে দলের পাশে দাঁড়ানো, ব্যাটিং ও বোলিংয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করাই তাদের প্রকৃত পরিচয়।

১. স্যার গ্যারি সোবার্স (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

ক্যারিবীয় ক্রিকেটের প্রবাদপুরুষ স্যার গ্যারি সোবার্সকে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি বাঁহাতি স্পিনও করতে পারতেন। টেস্ট ফরম্যাটে ৯৩টি ম্যাচ খেলে তিনি ৫৭.৭৮ গড়ে ৮,০৩২ রান সংগ্রহ করেছেন এবং বল হাতে ২৩৫টি উইকেট শিকার করেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে ৯৩ ম্যাচে ৮ হাজার ৩২ রান করেছেন তিনি, ব্যাটিং গড় ৫৭.৭৮। পাশাপাশি শিকার করেছেন ২৩৫ উইকেট।

২. জ্যাক ক্যালিস (দক্ষিণ আফ্রিকা)

প্রোটিয়া তারকা জ্যাক ক্যালিস ছিলেন আধুনিক ক্রিকেটের এক নির্ভরযোগ্য নাম। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টেস্ট ক্রিকেটে ১৬৬টি ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি ১৩,২৮৯ রান করার পাশাপাশি ২৯২টি উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন। টেস্টে ১৬৬ ম্যাচে ১৩ হাজার ২৮৯ রান ও ২৯২ উইকেট তার সামর্থ্যের প্রমাণ। টেস্ট ক্রিকেটে ৫ হাজার ২০০ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ৩৮৩ উইকেট।

৩. ইমরান খান (পাকিস্তান)

পাকিস্তানের ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলপতি ইমরান খান গতিময় বোলিং ও কার্যকর ব্যাটিংয়ের চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটান। তিনি ৮৮টি টেস্ট ম্যাচে ৩,৮০৭ রান করেন এবং অসাধারণ বোলিংয়ে ৩৬২টি উইকেট লাভ করেন। টেস্টে ৮৮ ম্যাচে ৩ হাজার ৮০৭ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ৩৬২ উইকেট। তার নেতৃত্বে পাকিস্তান ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে। টেস্টে ৮৬ ম্যাচে ৩ হাজার ১২৪ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ৪৩১ উইকেট।

৪. ইয়ান বোথাম (ইংল্যান্ড)

ইংলিশ ক্রিকেটের অন্যতম আইকন ইয়ান বোথাম আগ্রাসী ব্যাটিং ও পেস বোলিংয়ের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। টেস্টে তিনি ৫,২০০ রান ও ৩৮৩টি উইকেট অর্জন করেন। বিশেষত ১৯৮১ সালের অ্যাশেজ সিরিজে তার নৈপুণ্য অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।

৫. কপিল দেব (ভারত)

ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব ছিলেন দারুণ এক পেস অলরাউন্ডার। টেস্টের ১৩১ ম্যাচে তিনি ৫,২৪৮ রান তোলার পাশাপাশি ৪৩৪টি উইকেট নেন। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তার অপরাজিত ১৭৫ রানের ইনিংসটি ইতিহাস গড়েছিল। টেস্টে ১৩১ ম্যাচে ৫ হাজার ২৪৮ রান ও ৪৩৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

৬. রিচার্ড হ্যাডলি (নিউজিল্যান্ড)

কিউই কিংবদন্তি রিচার্ড হ্যাডলি মূলত তার বিধ্বংসী পেস বোলিংয়ের জন্য পরিচিত হলেও ব্যাট হাতেও অবদান রাখতেন। তিনি ৮৬ টেস্টে ৩,১২৪ রান সংগ্রহ করেন এবং ৪৩১টি উইকেট শিকার করেন।

৭. শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান)

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি তার বিধ্বংসী ব্যাটিং ও লেগ স্পিনের সমন্বয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে ৮,০০০ এরও বেশি রান করার পাশাপাশি ৩৯৫টি উইকেট লাভ করেছেন।

৮. সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বাঁহাতি ব্যাটিং ও বাঁহাতি স্পিনে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বমঞ্চে আধিপত্য বজায় রেখেছেন। বিশেষ করে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে তিনি ব্যাট হাতে ৬০৬ রান এবং বোলিংয়ে ১১টি উইকেট নিয়ে অভূতপূর্ব পারফরম্যান্স উপহার দেন। বিশেষ করে ১৯৮১ সালের অ্যাশেজে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে আজও স্মরণীয়। বিশেষ করে ২০১৯ বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে ৬০৬ রান এবং বল হাতে ১১ উইকেট নিয়ে তিনি নিজের সামর্থ্যের অসাধারণ প্রমাণ দেন।

৯. শন পোলক (দক্ষিণ আফ্রিকা)

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক শন পোলক অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত পেস বোলিং ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি দলের প্রয়োজনে নিয়মিত উইকেট শিকারের পাশাপাশি কার্যকর রান যোগ করেছেন।

১০. বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড)

বর্তমান সময়ের অন্যতম ক্রিকেট তারকা বেন স্টোকস তার বাঁহাতি ব্যাটিং, ডানহাতি পেস বোলিং ও চমৎকার ফিল্ডিং দিয়ে বহু ম্যাচ জয় করেছেন। ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের দুর্দান্ত ইনিংস এবং একই বছর হেডিংলি টেস্টে অপরাজিত ১৩৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস তাকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। বাঁহাতি স্পিন থেকে পেস—বিভিন্ন কৌশলে বল করার সক্ষমতা তাকে করে তুলেছিল এক বিরল প্রতিভা।

ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা অলরাউন্ডার নির্বাচনের বিষয়টি কোনো চূড়ান্ত তালিকায় সীমাবদ্ধ নয়, কারণ বিভিন্ন যুগে খেলোয়াড়দের প্রভাব ভিন্ন ছিল। তবে অলরাউন্ডাররা ব্যাট ও বলের লড়াইয়ে যেভাবে ভূমিকা রেখে গেছেন, তা ক্রিকেট বিশ্বকে সবসময় সমৃদ্ধ করেছে। এই তালিকাটিও কোনো আনুষ্ঠানিক র‍্যাঙ্কিং নয়; কারণ খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ব্যাটে-বলে বিশ্ব কাঁপানো ১০ অলরাউন্ডারের ক্রিকেট মহাকাব্য

আপডেট সময় : ০৬:৪১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

 

ব্যাটে-বলে বিশ্ব কাঁপানো ১০ অলরাউন্ডারের ক্রিকেট মহাকাব্য

ক্রিকেট মাঠে অলরাউন্ডারের ভূমিকা অত্যন্ত অমূল্য। একজন খেলোয়াড় যখন ক্রিজে দলের রান বাড়াতে সমর্থ হন এবং একইসঙ্গে বোলিং হাতে প্রতিপক্ষের উইকেট তুলে নিতে পারেন, তখন তিনি দলের জন্য বড় শক্তিতে পরিণত হন। ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই সমান পারদর্শিতা দেখিয়ে যারা বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছেন, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারফরম্যান্স, ম্যাচ জেতানোর দক্ষতা ও ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে অলরাউন্ডারদের বিশেষ মূল্যায়ন করা হয়।

 

পরিসংখ্যান, দীর্ঘদিনের পারফরম্যান্স, ম্যাচ জেতানোর সামর্থ্য ও ব্যাট-বলের ভারসাম্য বিবেচনায় ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ১০ অলরাউন্ডারকে নিয়ে এই আয়োজন। চলুন তাদের সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। ব্যক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য তাকে ক্রিকেটের অন্যতম প্রভাবশালী অলরাউন্ডারে পরিণত করেছে। তাঁর বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ, সুইং এবং ধারাবাহিকতা তাকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর পেসারে পরিণত করেছিল।

 

 

জাতীয় দল বাদেও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও ব্যাট-বল দুটো হাতেই মাঠ মাতিয়েছেন তিনি। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার ক্ষেত্রে সাকিবের অবদান উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার শৃঙ্খলাপূর্ণ বোলিং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করত। ম্যাচের কঠিন সময়ে দলের পাশে দাঁড়ানো, ব্যাটিং ও বোলিংয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করাই তাদের প্রকৃত পরিচয়।

১. স্যার গ্যারি সোবার্স (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

ক্যারিবীয় ক্রিকেটের প্রবাদপুরুষ স্যার গ্যারি সোবার্সকে সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি পেস বোলিংয়ের পাশাপাশি বাঁহাতি স্পিনও করতে পারতেন। টেস্ট ফরম্যাটে ৯৩টি ম্যাচ খেলে তিনি ৫৭.৭৮ গড়ে ৮,০৩২ রান সংগ্রহ করেছেন এবং বল হাতে ২৩৫টি উইকেট শিকার করেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে ৯৩ ম্যাচে ৮ হাজার ৩২ রান করেছেন তিনি, ব্যাটিং গড় ৫৭.৭৮। পাশাপাশি শিকার করেছেন ২৩৫ উইকেট।

২. জ্যাক ক্যালিস (দক্ষিণ আফ্রিকা)

প্রোটিয়া তারকা জ্যাক ক্যালিস ছিলেন আধুনিক ক্রিকেটের এক নির্ভরযোগ্য নাম। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টেস্ট ক্রিকেটে ১৬৬টি ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি ১৩,২৮৯ রান করার পাশাপাশি ২৯২টি উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন। টেস্টে ১৬৬ ম্যাচে ১৩ হাজার ২৮৯ রান ও ২৯২ উইকেট তার সামর্থ্যের প্রমাণ। টেস্ট ক্রিকেটে ৫ হাজার ২০০ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ৩৮৩ উইকেট।

৩. ইমরান খান (পাকিস্তান)

পাকিস্তানের ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলপতি ইমরান খান গতিময় বোলিং ও কার্যকর ব্যাটিংয়ের চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটান। তিনি ৮৮টি টেস্ট ম্যাচে ৩,৮০৭ রান করেন এবং অসাধারণ বোলিংয়ে ৩৬২টি উইকেট লাভ করেন। টেস্টে ৮৮ ম্যাচে ৩ হাজার ৮০৭ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ৩৬২ উইকেট। তার নেতৃত্বে পাকিস্তান ১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে। টেস্টে ৮৬ ম্যাচে ৩ হাজার ১২৪ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ৪৩১ উইকেট।

৪. ইয়ান বোথাম (ইংল্যান্ড)

ইংলিশ ক্রিকেটের অন্যতম আইকন ইয়ান বোথাম আগ্রাসী ব্যাটিং ও পেস বোলিংয়ের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। টেস্টে তিনি ৫,২০০ রান ও ৩৮৩টি উইকেট অর্জন করেন। বিশেষত ১৯৮১ সালের অ্যাশেজ সিরিজে তার নৈপুণ্য অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।

৫. কপিল দেব (ভারত)

ভারতের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব ছিলেন দারুণ এক পেস অলরাউন্ডার। টেস্টের ১৩১ ম্যাচে তিনি ৫,২৪৮ রান তোলার পাশাপাশি ৪৩৪টি উইকেট নেন। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তার অপরাজিত ১৭৫ রানের ইনিংসটি ইতিহাস গড়েছিল। টেস্টে ১৩১ ম্যাচে ৫ হাজার ২৪৮ রান ও ৪৩৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

৬. রিচার্ড হ্যাডলি (নিউজিল্যান্ড)

কিউই কিংবদন্তি রিচার্ড হ্যাডলি মূলত তার বিধ্বংসী পেস বোলিংয়ের জন্য পরিচিত হলেও ব্যাট হাতেও অবদান রাখতেন। তিনি ৮৬ টেস্টে ৩,১২৪ রান সংগ্রহ করেন এবং ৪৩১টি উইকেট শিকার করেন।

৭. শহীদ আফ্রিদি (পাকিস্তান)

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি তার বিধ্বংসী ব্যাটিং ও লেগ স্পিনের সমন্বয়ে ওয়ানডে ফরম্যাটে ৮,০০০ এরও বেশি রান করার পাশাপাশি ৩৯৫টি উইকেট লাভ করেছেন।

৮. সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বাঁহাতি ব্যাটিং ও বাঁহাতি স্পিনে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বমঞ্চে আধিপত্য বজায় রেখেছেন। বিশেষ করে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে তিনি ব্যাট হাতে ৬০৬ রান এবং বোলিংয়ে ১১টি উইকেট নিয়ে অভূতপূর্ব পারফরম্যান্স উপহার দেন। বিশেষ করে ১৯৮১ সালের অ্যাশেজে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে আজও স্মরণীয়। বিশেষ করে ২০১৯ বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে ৬০৬ রান এবং বল হাতে ১১ উইকেট নিয়ে তিনি নিজের সামর্থ্যের অসাধারণ প্রমাণ দেন।

৯. শন পোলক (দক্ষিণ আফ্রিকা)

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক শন পোলক অত্যন্ত সুনিয়ন্ত্রিত পেস বোলিং ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি দলের প্রয়োজনে নিয়মিত উইকেট শিকারের পাশাপাশি কার্যকর রান যোগ করেছেন।

১০. বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড)

বর্তমান সময়ের অন্যতম ক্রিকেট তারকা বেন স্টোকস তার বাঁহাতি ব্যাটিং, ডানহাতি পেস বোলিং ও চমৎকার ফিল্ডিং দিয়ে বহু ম্যাচ জয় করেছেন। ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের দুর্দান্ত ইনিংস এবং একই বছর হেডিংলি টেস্টে অপরাজিত ১৩৫ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস তাকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। বাঁহাতি স্পিন থেকে পেস—বিভিন্ন কৌশলে বল করার সক্ষমতা তাকে করে তুলেছিল এক বিরল প্রতিভা।

ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা অলরাউন্ডার নির্বাচনের বিষয়টি কোনো চূড়ান্ত তালিকায় সীমাবদ্ধ নয়, কারণ বিভিন্ন যুগে খেলোয়াড়দের প্রভাব ভিন্ন ছিল। তবে অলরাউন্ডাররা ব্যাট ও বলের লড়াইয়ে যেভাবে ভূমিকা রেখে গেছেন, তা ক্রিকেট বিশ্বকে সবসময় সমৃদ্ধ করেছে। এই তালিকাটিও কোনো আনুষ্ঠানিক র‍্যাঙ্কিং নয়; কারণ খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে।

Facebook Comments Box