কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় সার সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের হাজার হাজার কৃষক প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
দিনের পর দিন সার পাওয়ার আশায় ডিলার ও বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক কৃষককে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। সময়মতো সার না পাওয়ায় জমিতে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের জমিতে সার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। এ সময়ে জমিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার দিতে না পারলে ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কিন্তু বাজারে পর্যাপ্ত সার না থাকায় কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন সার বিক্রয়কেন্দ্র ও ডিলারদের কাছে গিয়ে দেখা যায়, সার পাওয়ার আশায় ভোর থেকেই কৃষকরা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সার না পেয়ে অনেক কৃষক হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
কৃষকদের ভাষ্য, একদিকে জমি প্রস্তুত, বীজ, শ্রমিক ও সেচসহ কৃষিকাজের খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ছে; অন্যদিকে প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। ধার-দেনা করে জমিতে চাষাবাদ করা কৃষকদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
একজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সার চাই। সময়মতো সার পেলে জমিতে সময়মতো ফসল ফলাতে পারব। কিন্তু সার না পেলে আমাদের ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। কৃষিকাজ করে পরিবার নিয়ে দু’মুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকাই আমাদের একমাত্র ভরসা।”
আরেক কৃষক বলেন, দিনের পর দিন সার নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার মিলছে না। জমিতে সার দেওয়ার সময় চলে যাচ্ছে। এখন যদি সময়মতো সার না পাওয়া যায়, তাহলে জমির ফসলের কী হবে—তা নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সার সংকট দ্রুত নিরসনে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার সঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে তদারকি করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, সার সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু একজন কৃষক নয়, এর প্রভাব পড়বে পুরো কৃষি অর্থনীতিতে। ফসল উৎপাদন কমে গেলে কৃষকের আয় কমার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই কৃষি মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দ্রুত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
রাজিবপুরের কৃষকদের এখন একটাই দাবি—“আমরা সার চাই। সময়মতো সার চাই।” প্রয়োজনীয় সার দ্রুত সরবরাহ করে তাদের চাষাবাদ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষকরা।
Leave a Reply