ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম এখন নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরছেন টেস্ট ক্রিকেটে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটকে বিদায় জানানো এই ক্রিকেটার দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের অসংখ্য উত্থান-পতনের সাক্ষী। মাউন্ট মঙ্গানুই থেকে ডারউইন—বিশ্বের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সব জয়ের অংশীদার তিনি। প্রিয় দলকে এভাবে পরিণত ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয়ের পর ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের উদ্দেশে দেওয়া তার আবেগঘন বক্তব্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের বদলে যাওয়ার গল্পই তুলে ধরেছে। বিসিবির প্রকাশ করা ভিডিওতে সেই মুহূর্তটি বেশ সাড়া ফেলেছে।
মুশফিক বলেন, ‘বাংলাদেশের লাল বলের দলের এই পথচলা থেকে যদি কিছু সঙ্গে নিয়ে যেতে পারি, সেটাই আমার জন্য অনেক বড় স্মৃতি হয়ে থাকবে। সত্যি বলতে, এই দলকে নিয়ে আমি গর্বিত।’ বর্তমান দলের গভীরতা নিয়েও তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত।
তিনি বলেন, ‘১০, ১৫ কিংবা ২০ বছর আগে হয়তো খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস ছিল, কিন্তু পুরো দলের ওপর একই রকম আস্থা সবসময় দেখা যেত না। এখনকার ১৫-১৬ জনের স্কোয়াডে আমি ৮-৯ জনকে দেখতে পাই, যারা একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। একজন অধিনায়কের বা দলের জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে!’
উদযাপনের পাশাপাশি ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বার্তাও দিয়েছেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘আমরা এর আগেও বড় ম্যাচ জিতেছি। কিন্তু সাফল্য ধরে রাখা এবং নিয়মিত এমন পারফরম্যান্স করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উন্নতির কোনো শেষ নেই—সীমা আসলে আকাশ পর্যন্ত। তাই এই জয় উদযাপন করো, আনন্দ করো; কিন্তু এরপরই ভাবতে হবে, কীভাবে আবারও এমন পারফরম্যান্স করা যায়।’
বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম পরিশ্রমী ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত মুশফিক মনে করিয়ে দিয়েছেন, সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই। তার ভাষায়, ‘এর জন্য কোনো শর্টকাট নেই। পরিশ্রম করতেই হবে, প্রতিদিন একইভাবে লেগে থাকতে হবে। প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে ফলাফল একসময় নিজে থেকেই আসবে।’
সবশেষে সতীর্থদের আত্মতৃপ্তির জায়গাটিও পরিষ্কার করেছেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘দিন শেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যেন প্রত্যেকে নিজেকে বলতে পারে—আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি।’ দলের প্রতিটি সদস্যের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাই যে আজকের এই সাফল্যের মূল ভিত্তি, সেটিই তার কথায় ফুটে উঠেছে। মুশফিকের এই বার্তা তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই নতুন ধারার সাথে মুশফিকের অভিজ্ঞতা দলের জন্য বড় সম্পদ। তিনি মনে করেন, বর্তমান স্কোয়াডের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে যে জয়ের ক্ষুধা রয়েছে, তা ভবিষ্যতে দলকে আরও অনেক উঁচুতে নিয়ে যাবে। মাঠের লড়াইয়ে কৌশলগত পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা মুশফিকের বক্তব্যে স্পষ্ট। দলের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য আরও বড় সাফল্য অপেক্ষা করছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। যু//র
Leave a Reply