কলকাতায় আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৪:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৩১২১ বার পড়া হয়েছে
কলকাতায় আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
কলকাতায় আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার। ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ভারতে অবস্থানের দায়ে কলকাতায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬ বাংলাদেশি নাগরিক। ধৃতরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন আওয়ামী লীগ নেতা ও পরিচিত সঙ্গীতশিল্পীও রয়েছেন।
গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলকাতার কলিন স্ট্রিট এলাকার একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তারা বাংলাদেশের নোয়াখালী ও টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৬টি বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- আবির হোসেন, মহম্মদ মামুন রশিদ, মহম্মদ আলিমুন গাজি, আজম মোল্লা, ফয়জল আমিন, জায়দুল ইসলাম। এদের মধ্যে আজম মোল্লা একজন গায়ক ও আওয়ামী লীগ নেতা। গ্রেপ্তারের সময়ও নিজের গিটার ছাড়তে চাননি তিনি। এমনকি পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে গান গাওয়ার অনুমতির অনুরোধ জানান বলেও জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পার্ক স্ট্রিট সংলগ্ন কলিন স্ট্রিটের একটি হোটেলে কয়েকজন বিদেশি অবস্থান করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
হোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকা ৬ বাংলাদেশির পাসপোর্ট ও ভিসা পরীক্ষা করে দেখা যায়— তারা মেডিকেল ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু ভিসার মেয়াদ ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যেই প্রত্যেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তবুও তারা অবৈধভাবে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে— বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে আক্রমণের আশঙ্কায় তারা মেডিকেল ভিসা নিয়ে ভারতে পালিয়ে আসেন। গত বছর আলাদাভাবে সবাই দেশ ছাড়েন। কলকাতায় এসে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন। একাধিক হোটেল পরিবর্তন করে থাকতে শুরু করেন।
অর্থ সংকট দেখা দিলে চলতি ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে কলিন স্ট্রিটের একটি হোটেলে একত্রে থাকতে শুরু করেন। পরবর্তী পরিকল্পনা ছিল কলকাতা থেকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। তারা বাংলাদেশে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছিলেন বলেও পুলিশকে জানান। সোমবার তাদের ব্যাঙ্কশাল আদালত–এ তোলা হলে বিচারক ৬ জনকেই ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সাজা শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


























