১৪ই এপ্রিল নববর্ষ বিভিন্ন দেশে যেভাবে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপিত হয় : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
১৪ই এপ্রিল নববর্ষ বিভিন্ন দেশে যেভাবে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপিত হয় : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাণীশংকৈলে মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি গোল্ডকাপের যাত্রা শুরু ফোনের কভারে তেজপাতা, কেন নতুন ট্রেন্ড? মাঠের ঘাসে ছত্রাকের সংক্রমণ: লা লিগায় ওসাসুনা ও সেল্টা ভিগোর ম্যাচ স্থগিত সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে আসছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কুয়ালালামপুরে ইমিগ্রেশনের বিশেষ অভিযানে বাংলাদেশিসহ আটক ৭৭০ অভিবাসী সৌদি আরবের জিজান শোধনাগারে হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলা রাজশাহীর চারঘাটে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের দুজনের প্রাণহানি একযোগে পুলিশের ৫৬ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো ৪৯ পুলিশ পরিদর্শককে ডালাস-ফোর্ট ওর্থ বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য বিশেষ অজু স্টেশন

১৪ই এপ্রিল নববর্ষ বিভিন্ন দেশে যেভাবে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপিত হয়

সৃষ্টি ডেস্ক
  • প্রকাশিত : শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৩
১৪ই এপ্রিল নববর্ষ বিভিন্ন দেশে যেভাবে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপিত হয়

১৪ই এপ্রিল নববর্ষ বিভিন্ন দেশে যেভাবে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপিত হয়।

১৪ই এপ্রিল নববর্ষ দেশে দেশে যেভাবে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপিত হয়।
বাংলাদেশে বিপুলভাবে উদযাপন হয় পহেলা বৈশাখ।

 

এপ্রিলের ১৪ তারিখ বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ। এই দিনটি বাংলাদেশের সবচাইতে বড় উৎসবগুলোর একটি। মুসলিম সম্প্রদায়ের দুইটি ঈদের পর পহেলা বৈশাখই দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ উদযাপন করে থাকেন।

কেবল বাংলাদেশই নয়, দুনিয়া জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছেও দিনটি বিশেষ উদযাপনের।

তবে কেবল বাংলাদেশ নয়, এশিয়ার আরো কয়েকটি দেশে ১৪ই এপ্রিলে নতুন বর্ষবরণের উৎসব পালন করা হয়। এর মধ্যে ভারতের কয়েকটি রাজ্য, মিয়ানমার, নেপাল, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনাম অন্যতম।

চলুন জেনে নেয়া যাক ১৪ই এপ্রিল কোন দেশে কেমন করে পালন হয় নতুন বছরের উদযাপন:

শোভাযাত্রার মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করার রীতি চালু হয়, যা এখন সার্বজনীন চরিত্র লাভ করেছে।

 

১৪ই এপ্রিল নববর্ষ বাংলাদেশে যেভাবে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপিত হয়

এখন যেমন বাংলা নতুন বছরের শুরুর দিনটি একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, এক সময় তেমন ছিল না। বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ তখন ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে পালিত হত।

ইতিহাসবিদদের হিসাব অনুযায়ী ১৫৫৬ সাল থেকে বাংলা সন প্রবর্তন করা হয়।

মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবর খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তার সভার জ্যোতির্বিদ আমির ফতুল্লা শিরাজীর সহযোগিতায় ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে ‘তারিখ-এ-এলাহি’ নামে নতুন একটি বছর গণনা পদ্ধতি চালু করেন।

পড়ুন>>শুধু বাঙ্গালীয়ানা নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসব পহেলা বৈশাখ

এটি কৃষকদের কাছে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত হয়, যা পরে ‘বাংলা সন’ বা ‘বঙ্গাব্দ’ নামে প্রচলিত হয়ে ওঠে।

ঐ সময়ে প্রচলিত রাজকীয় সন ছিল ‘হিজরি সন’, যা চন্দ্রসন হওয়ার প্রতি বছর একই মাসে খাজনা আদায় সম্ভব হতো না।

পহেলা বৈশাখ উদযাপনে খাবারের রয়েছে বিরাট এক ভূমিকা।

বাংলা সন শূন্য থেকে শুরু হয়নি, যে বছর বাংলা সন প্রবর্তন করা হয়, সে বছর হিজরি সন ছিল ৯২৩ হিজরি।

সে অনুযায়ী সম্রাটের নির্দেশে প্রবর্তনের বছরই ৯২৩ বছর বয়স নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বাংলা সনের।

বাংলা বর্ষের মাসগুলোর নামকরণ হয়েছে বিভিন্ন নক্ষত্রের নামে।

তবে এখন যে রূপে বাংলা নববর্ষ পালন করা হয়, রাজধানী ঢাকায় ১৯৬৭ সনের আগে ঘটা করে পহেলা বৈশাখ পালনের রীতি তেমন জনপ্রিয় হয় নি।

সেসময় ঢাকায় রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করার রীতি চালু হয়, যা এখন সার্বজনীন চরিত্র লাভ করেছে।

মিয়ানমারে বৈশাখী পালন:

মিয়ানমারের নববর্ষকে স্থানীয়ভাবে থিংইয়ান নামে ডাকা হয়। বার্মিজ ভাষায় এর অর্থ ‘পরিবর্তন’ বা ‘এক জায়গা থেকে অন্যত্র স্থানান্তর’।

মিয়ানমারে এ দিনটিতে হয় থিংইয়ান উৎসব:

মিয়ানমারে এ দিনটিতে হয় থিংইয়ান উৎসব, যেখানে পানি উৎসব হয় বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকায়।

নতুন বছরের প্রথম দিনটি সাধারণত মধ্য-এপ্রিলে হয়ে থাকে, তবে ঠিক কোন নির্দিষ্ট দিনে তা পালন হবে তা হিসাব করা হয় মিয়ানমারের সৌর এবং চন্দ্র পঞ্জিকার গণনা মিলিয়ে।

 

মিয়ানমারের ১৪এপ্রিল নববর্ষ পালন

থিংইয়ানের দিনে বার্মা বা মিয়ানমার জুড়ে পানি উৎসব হয়, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো পানি উৎসবের একটি। দেশটির মানুষ ৫০০ বছরের বেশি সময় ধরে পালন করে আসছে এ উৎসব।

নববর্ষের চারদিন আগে থেকে পানি উৎসব শুরু হয়, চলে নববর্ষের দিন পর্যন্ত।

 

 

দেশটির মানুষের বিশ্বাস, পানি উৎসবের পানির ছোঁয়া লাগতে হবে সব মানুষের গায়ে, তাতে করে সব পাপ দূর হয়ে যাবে।

এপ্রিলে মিয়ানমারের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে, যে কারণে পানি উৎসবের কারণে লোকের কষ্টের চেয়ে বরং এক ধরণের শান্তি হয়।

থাইল্যান্ডের সংক্রান্ত উৎসব:

থাইল্যান্ডের সংক্রান্ত উৎসব খুবই জাঁকজমক ভাবে উদযাপন  করা হয়।

থাইল্যান্ডের নতুন বছরের শুরুর দিনটি সংক্রান্ত উৎসব নামে পরিচিত।

 

থাইল্যান্ডে ১৪এপ্রিল নববর্ষ পালন

এ উৎসবটিও সৌর পঞ্জিকা অনুসারে পালন করা হয়, কিন্তু ঠিক কোন দিনে পালন করা হবে দিনটি সেটি নির্ধারণ করা হয় নতুন চাঁদের হিসাবে।

সিনহালা নববর্ষ পালন:

সিনহালা নববর্ষের সাথে তামিল নববর্ষের উদযাপনে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে।

উৎসবে নানা রকম পিঠা, মিষ্টি আর পায়েস বানানো হয়।

সিনহালা বর্ষবরণে গরুর দৌড়ের মত বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা হয়।

 

সিংহলের ১৪এপ্রিল নববর্ষ পালন

এতে নাগরিক আয়োজনের চাইতে লোকজ বিভিন্ন খেলাধুলা আর প্রতিযোগিতার আয়োজন বেশি দেখা যায়।

 

 

সবচাইতে উল্লেখযোগ্য খেলাধুলার মধ্যে রয়েছে গরুর দৌড়, ডিম খেলা-এতে হাওয়ায় ছুড়ে দেয়া ডিম লুফে নেয়ার প্রতিযোগিতা হয়, ফসলি মাঠে কাদা খেলা ইত্যাদি।

কম্বোডিয়ার নববর্ষ পালন:

কম্বোডিয়ার-খেমার-নববর্ষ” কম্বোডিয়ার খেমার নববর্ষ উৎসব পালন করা হয়।

কম্বোডিয়াতে খেমার নববর্ষে বৌদ্ধমন্দির থেকে উৎসবের উদযাপন শুরু হয়। এ দিনে বৈশাখ উৎসব নামে সার্বজনীন এক উৎসব হয় দেশজুড়ে।

 

নেপালে ১৪এপ্রিল নববর্ষ পালন

বিভিন্ন পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানাদি হয় দিনটিতে, উৎসবের আমেজে ভালো খাওয়া-দাওয়া, শুভেচ্ছা বিনিময় আর নানা খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।

তবে নেপালে চন্দ্রবর্ষের প্রথম দিন, যার নাম সোনাম লহসারও উদযাপন করা হয়, সেদিনও সরকারি ছুটি থাকে দেশটিতে।

“লাওস” এ নববর্ষ পালন:

লাওসেও সৌর পঞ্জিকা অনুযায়ী বৈশাখের প্রথম দিনটি পালন করা হয়।

স্থানীয়ভাবে এর নাম সংক্রান বা পি-মেই, যার মানে নতুন সংক্রান্তি বা নতুন বছর। দেশটিতে তিন দিন ধরে চলে উৎসব আনুষ্ঠানিকতা।

কম্বোডিয়াতে খেমার উৎসব:

কম্বোডিয়াতে খেমার নববর্ষের অংশ এই দড়ি টানাটানি খেলা, নারী বনাম পুরুষ খেলা হয় এখানে ভারত” ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সময় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের প্রচলন শুরু হয়।

 

কম্বোডিয়ায় ১৪এপ্রিল নববর্ষ পালন

কিন্তু তারও বহু বছর আগে থেকে পঞ্জিকা দেখে যেসব দিন আর ক্ষণ উদযাপন হত, সেগুলো এখনো দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে পালন করা দেশটির সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।

 

 

ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বৈশাখ মাসের প্রথম দিন নববর্ষ উদযাপন করা হয়। হিন্দু সৌর বছরের প্রথম দিন আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, মনিপুর, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব, তামিল নাড়ু এবং ত্রিপুরার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন নামে পালন হয় বৈশাখের প্রথম দিন:

  1. পাঞ্জাব- বৈশাখী
  2. কেরালা- ভিষু
  3. আসাম- বিহু
  4. তামিল নাড়ু- পুথান্দু
  5. উড়িষ্যা- পান সংক্রান্তি
  6. তামিল নাড়ু- পুথান্দু
  7.  উড়িষ্যা- পান সংক্রান্তি
  8. পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরা- পহেলা বৈশাখ

 

সিনহালা নববর্ষ:

সিনহালা নববর্ষ আর তামিল নববর্ষে লোকজ খেলার পাশাপাশি থাকে নানা পদের মিষ্টি আর পিঠা।

 

ছবি নেট থেকে

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!