স্বাস্থ্যসেবার দারিদ্র্যের ফাঁদে বিপর্যয়ে লাখো পরিবার : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
স্বাস্থ্যসেবার দারিদ্র্যের ফাঁদে বিপর্যয়ে লাখো পরিবার : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তিন ইরানি পাইলট আটকের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিল কাতার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় পেল বাংলাদেশ, ৯ উইকেটে হারাল স্বাগতিকদের অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ৫৭ রান রোববার কিশোরগঞ্জ সফরে প্রধানমন্ত্রী: জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় শিশুসহ ১১ জন নিহত বিএনপি সরকারের ছয় মাস: তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব ধর্ষণের অভিযোগের জেরে ভাইয়ের হাতে প্রাণ গেল ভাইয়ের পুরান ঢাকায় মার্কেটের ১৩ তলায় বিক্রয়কর্মীর ওপর হামলা, মৃত্যু লোডশেডিং ও গ্যাস সংকট নিয়ে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

স্বাস্থ্যসেবার দারিদ্র্যের ফাঁদে বিপর্যয়ে লাখো পরিবার

সৃষ্টি স্বাস্থ্য ডেস্ক
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
স্বাস্থ্যসেবার দারিদ্র্যের ফাঁদে বিপর্যয়ে লাখো পরিবার
প্রতিকী ছবি

 

 

স্বাস্থ্যসেবার দারিদ্র্যের ফাঁদে বিপর্যয়ে লাখো পরিবার

 

 

স্বাস্থ্যসেবার দারিদ্র্যের ফাঁদে বিপর্যয়ে লাখো পরিবার।
দেশের সাধারণ মানুষ এখনও চিকিৎসা নিতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। স্বাস্থ্য খরচ মেটাতে গিয়ে বাংলাদেশের ৪৪ শতাংশ পরিবার আর্থিক বিপর্যয়ের শিকার হয়—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব এ তথ্য জানিয়েছে। বহু পরিবার সঞ্চয় শেষ করে, ধারদেনা করে বা সম্পদ বিক্রি করে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে বাধ্য হয়। এতে অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে।

 

 

       এই পরিস্থিতি দেশের সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ—ইউএইচসি) অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর। অর্থাভাবে বহু মানুষ চিকিৎসাই নিতে পারেন না। আবার অনেকে চিকিৎসা করতে গিয়ে চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।

 

 

ইউএইচসির মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যেকে যেন আর্থিক ঝুঁকি ছাড়া প্রয়োজনীয়, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান এবং কেউ যেন চিকিৎসার খরচের কারণে দরিদ্র হয়ে না পড়েন। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ২০১২ সালে স্বাস্থ্য অর্থায়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়। শুরুতে কিছু অগ্রগতি হলেও ২০১৫ সালের পর থেকে এ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

 

 

ডব্লিউএইচওর সূচকে দেখা যায়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশের ইউএইচসি স্কোর ছিল ৪৫। ২০২১ সালে তা বেড়ে ৫২ হলেও ২০২৫ সালে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৪তে। অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে এই স্কোর ৭৪ এ উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত আছে, কিন্তু সেই গতির ঘাটতি স্পষ্ট।

 

 

     অতিরিক্ত ব্যক্তি খরচও স্বাস্থ্য খাতে বড় সমস্যা। ২০১২ সালে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬৪ শতাংশ রোগীদের পকেট থেকে আসত; ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬৯ শতাংশ হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে এই হার ৭০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। অথচ কৌশলপত্রে ২০৩২ সালের মধ্যে এটি নামিয়ে ৩২ শতাংশে আনার কথা বলা হয়েছিল।

 

 

এ বাস্তবতায় আজ শুক্রবার বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিবস’। জাতিসংঘের আহ্বানে ২০১৭ সাল থেকে ১২ ডিসেম্বর দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য— ‘অসাধ্য স্বাস্থ্য ব্যয়? আমরা এ নিয়ে ক্লান্ত।’

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ মনে করেন, ইউএইচসি অর্জন এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ—নেই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, নেই প্রয়োজনীয় আইন, নীতি ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন।

 

স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য ও আইসিডিডিআর, বির বিজ্ঞানী আহমেদ এহসানুর রহমান বলেন, “চিকিৎসা নিতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়ে মূলত দরিদ্র মানুষই। কিন্তু গত ৮–১০ বছরে তাদের সুরক্ষায় কোনো সরকার কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করেনি। স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আলাদা তহবিল গড়ার উদ্যোগও দেখা যায়নি।”

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!